ঠোঁট না নেড়ে মনে মনে কেরাত পড়লে কি নামাজ শুদ্ধ হবে?

নামাজে কেরাত মুখে উচ্চারণ করা জরুরি কি না এবং শুধু মনে মনে পড়লে নামাজ শুদ্ধ হবে কি না—এ বিষয়ে অনেকের মধ্যে বিভ্রান্তি রয়েছে।
ইসলামী বিধান অনুযায়ী, একা নামাজ আদায়কারী ও ইমামের জন্য ফরজ নামাজের প্রথম দুই রাকাতে কোরআনের কিছু অংশ তেলাওয়াত করা ফরজ। সূরা ফাতিহা পড়া ওয়াজিব, পাশাপাশি অন্য কোনো সূরা বা অন্তত তিনটি ছোট আয়াত অথবা একটি বড় আয়াত তেলাওয়াত করাও ওয়াজিব।
কেরাত মুখে উচ্চারণ করা জরুরি
ফুকাহাদের মতে, নামাজের কেরাত মুখে উচ্চারণ করে পড়া আবশ্যক। শুধু মনে মনে পড়লে তা কেরাত হিসেবে গণ্য হয় না। তাই কেউ যদি নামাজে কেরাত একেবারেই উচ্চারণ না করে কেবল মনে মনে পড়ে, তাহলে তার নামাজ শুদ্ধ হবে না।
ভুল হলে কী হবে?
ওয়াজিব কেরাত ভুলভাবে আদায় হলে সাহু সিজদা করতে হবে। তবে ফরজ কেরাত যথাযথভাবে আদায় না করলে নামাজ বাতিল হয়ে যেতে পারে।
জোরে ও আস্তে কেরাতের বিধান
নির্দিষ্ট কিছু নামাজে উচ্চস্বরে কেরাত পড়া সুন্নত, আবার কিছু নামাজে নিচু স্বরে পড়া ওয়াজিব। যেমন—
- ফজর, মাগরিব ও ইশার প্রথম দুই রাকাতে ইমামের জন্য জোরে কেরাত পড়া সুন্নত
- জোহর ও আসরের নামাজে ইমাম ও একা নামাজ আদায়কারীর জন্য নিচু স্বরে কেরাত পড়া ওয়াজিব
মুক্তাদি (ইমামের পেছনে নামাজ আদায়কারী) কেরাত পড়বেন না, বরং ইমামের তেলাওয়াত মনোযোগ দিয়ে শুনবেন।
একা নামাজ আদায়কারীর বিধান
একাকী নামাজ আদায়কারীর ক্ষেত্রে জোরে বা আস্তে কেরাত পড়া উভয়ই জায়েজ। তবে ফজর, মাগরিব ও ইশার প্রথম দুই রাকাতে উচ্চস্বরে পড়া উত্তম। আয়েশা (রা.)-এর বর্ণনায় পাওয়া যায়, নবীজি (সা.) কখনো উচ্চস্বরে, কখনো নিচু স্বরে তেলাওয়াত করতেন।
ঠোঁট না নড়ালে কি হবে?
যে নামাজগুলোতে নিচু স্বরে কেরাত পড়া হয়, সেখানে ঠোঁট নাড়িয়ে এমনভাবে তেলাওয়াত করা উচিত যাতে নিজে শুনতে পাওয়া যায়। তবে খুব নিচু স্বরে হরফের উচ্চারণ ঠিক রেখে পড়লে, এমনকি নিজে না শুনলেও নামাজ আদায় হয়ে যাবে বলে অধিকাংশ আলেম মত দিয়েছেন।