ভোলায় বাবা-মায়ের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় তোফায়েল আহমেদ

মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ এবং সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদকে তার নিজ ইচ্ছা অনুযায়ী ভোলায় বাবা-মায়ের কবরের পাশে দাফন করা হয়েছে। ভোলা-১ ও ভোলা-২ আসনের সাবেক এই সংসদ সদস্যকে শেষবারের মতো বিদায় জানাতে ভিড় করেন স্বজন, রাজনৈতিক সহকর্মী ও স্থানীয়রা।
মঙ্গলবার বিকেলে ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামে তার পারিবারিক বাড়ির সামনে তৃতীয় ও শেষ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বাবা আজাহার আলী, মা ফাতেমা খানম এবং স্ত্রী আনোয়ারা বেগমের কবরের পাশে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।
জানাজা ও দাফনকে কেন্দ্র করে এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। জানাজায় রাজনৈতিক নেতা, স্থানীয় বাসিন্দা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এ সময় অনেকে তার রাজনৈতিক জীবন ও অবদানের কথা স্মরণ করেন এবং শোক প্রকাশ করেন।
এর আগে দুপুরে হেলিকপ্টারে করে তার মরদেহ ভোলায় আনা হয়। প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয় ভোলা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে, যেখানে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা হিসেবে তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। পরে মরদেহ তার গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়।
তিনি দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। মৃত্যুর আগে তিনি ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোলা-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
রাজনৈতিক জীবনে তোফায়েল আহমেদ ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ, গণআন্দোলন ও জাতীয় রাজনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ নাম। তার মৃত্যুতে ভোলাসহ দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর শূন্যতা তৈরি হয়েছে বলে অনেকে মন্তব্য করেন।