প্রধানমন্ত্রী-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে কুরুচিপূর্ণ কটূক্তি, এনসিপি নেতাকে গণপিটুনি

লক্ষ্মীপুরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক কেন্দ্রীয় সংগঠক ও বর্তমান শ্রমিক শক্তির সংগঠক আনোয়ার হোসেনকে (৩৮) গণপিটুনি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহম্মেদ ও পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানিকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কটূক্তি ও আপত্তিকর মন্তব্য করায় তাকে স্থানীয়রা মারধর করেছেন। পরে তাকে রায়পুর থানা-পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
শনিবার (৩০ মে) রাতে রায়পুর-লক্ষ্মীপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের সোনাপুর ইউনিয়নের বসাবাড়ী বাজার এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
এদিকে এ ঘটনার পর রোববার (৩১ মে) দুপুরে রায়পুর থানায় রুহুল আমিন নামের এক ব্যক্তি বাদী হয়ে চারজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলায় আনোয়ার হোসেনকে প্রধান আসামি করা হয়। পরে পুলিশ ওই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখায়। গণপিটুনির শিকার আনোয়ার হোসেন রায়পুর উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রায়পুরের সোনাপুর ইউনিয়নের বাসাবাড়ী বাজার এলাকার ক্ষুব্ধ জনতা এনসিপির কেন্দ্রীয় সংগঠক আনোয়ার হোসেনকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। এ সময় আহত আনোয়ারকে বলতে শোনা যায়–রায়পুরের এমপি আবুল খায়ের ভূঁইয়ার গুন্ডাবাহিনী আমার ওপর হামলা করেছে। আপনার সবাই দেখছেন। এর বিচার হতে হবে।
এ ঘটনার সংবাদ শুনে বাসাবাড়ী বাজার এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ আনোয়ারকে থানায় নিয়ে যান। পরে আনোয়ার হোসেনকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ।
মামলায় উল্লেখ করা হয়, আনোয়ার হোসেন বিভিন্ন সময় তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহম্মেদ ও পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানিকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ ও মানহানিকর বক্তব্য প্রচার করে আসছেন। তার এসব কর্মকাণ্ডের জন্য সম্মানিত ব্যক্তিদের ওপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হচ্ছে। শনিবার এ নিয়ে তাকে বলা হলে তিনি মামলার বাদী রুহুল আমিনকে গালাগালি করেন এবং একপর্যায়ে হামলা চালান। পরে থানায় ফোনকল করে জানান মামলার বাদী।
এদিকে জেলা এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক আলমগীর হোসেন বলেন, ‘আনোয়ার হোসেন বর্তমানে কেন্দ্রীয় শ্রমিক শক্তির সংগঠক। এর আগে এনসিপির কেন্দ্রীয় সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
শনিবার রাতে প্রায় ২ হাজার লোক নিয়ে তার ওপর যেভাবে হামলা চালানো হয়েছে। তার বাড়ি ঘর ভাঙচুর চালানো হয়েছে। এটি কোনো সভ্য সমাজে হতে পারে না। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। তিনি বলেন, অনতিবিলম্বে তাকে মুক্তি দিতে প্রশাসনের নিকট দাবি জানান।
রায়পুর থানার বারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন মিয়া বলেন, ‘আনোয়ার নিজেকে এনসিপি নেতা পরিচয় দেন। খবর পেয়ে আমরা আনোয়ারকে জনতার রোসানল থেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসি। রুহুল আমিন নামের এক লোক আনোয়ারের বিরুদ্ধে আইসিটি আইনে মামলা করেছেন। ওই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সৌপর্দ করা হয়েছে।
জেলা জজ আদালতের সহকারী সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) আব্দুল আহাদ শাকিল পাটওয়ারী বলেন, আনোয়ারসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে ফেসবুকে কুরুচিপূর্ণ ও মানহানিকর বক্তব্য প্রচারে সাইবার সুরক্ষা এবং বাদীসহ স্বাক্ষীদের মারধরে দণ্ডবিধিতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালতের বিচারক আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।