সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬
Natun Kagoj

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে আশাবাদী দীনেশ ত্রিবেদী

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে আশাবাদী দীনেশ ত্রিবেদী
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিভিন্ন ইস্যু থাকলেও আলোচনার মাধ্যমে সেগুলোর সমাধান করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি বলেন, দুই দেশের সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা অভিন্ন—তারা প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে সুসম্পর্ক দেখতে চান।

সোমবার (১০ আগস্ট) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, গণতান্ত্রিক দুই দেশে বিভিন্ন ধরনের ইস্যু থাকবেই। সময়ের সঙ্গে নতুন বিষয়ও সামনে আসবে। তবে আলোচনা ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে এসব সমস্যা সমাধান করা সম্ভব। দুই দেশের জনগণই পারস্পরিক সম্পর্ক আরও সুন্দর ও শক্তিশালী দেখতে চায়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গেও সাক্ষাৎ করে তিনি সন্তুষ্ট। বৈঠকগুলো অত্যন্ত আন্তরিক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং সেখানে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যে কোনো নির্দিষ্ট সমস্যা রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক দেশে ইস্যু থাকাটাই স্বাভাবিক। পরিবারেও বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য থাকে। তবে সেগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা যায়। বাংলাদেশ ও ভারতের ক্ষেত্রেও একইভাবে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যাগুলোর সমাধান সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে এমন কোনো বিষয় নেই, যা আলোচনায় বসে সমাধান করা সম্ভব নয়। বাংলাদেশ ও ভারত উভয়ই প্রাণবন্ত গণতান্ত্রিক দেশ। দুই দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যেও সুসম্পর্কের বিষয়ে অভিন্ন প্রত্যাশা রয়েছে।

দুই দেশের ঐতিহাসিক ও ভৌগোলিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ইতিহাস পরিবর্তন করা যায় না, প্রতিবেশীকেও পরিবর্তন করা যায় না। বাংলাদেশ ও ভারত শুধু সীমান্ত ভাগ করে না, তারা নিজেদের স্বপ্নও ভাগ করে নেয়।

বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, গত দুই মাসে বাংলাদেশের মানুষের কাছ থেকে তিনি যে সম্মান, ভালোবাসা ও আন্তরিকতা পেয়েছেন, তাতে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের প্রসঙ্গ তুলে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, প্রথম সাক্ষাৎ হলেও তার কাছে মনে হয়নি এটি প্রথমবারের মতো দেখা। অত্যন্ত আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আলোচনা হয়েছে। ভবিষ্যতে দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ ও পারস্পরিক আলোচনা আরও বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

দীনেশ ত্রিবেদী দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, ‘পিপল টু পিপল’ সম্পর্ক আরও জোরদার করা প্রয়োজন। দুই দেশের নেতারা একসঙ্গে বসে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করলে সেগুলোর সমাধানের পথও বের হয়ে আসবে। ভারতের প্রধানমন্ত্রীও বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক ভালো রাখার বিষয়ে আগ্রহী বলে জানান তিনি।

দুই দেশের সরকার কবে আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বসবে এবং আসন্ন কোনো আন্তর্জাতিক সম্মেলনে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠক হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সামনে ভালো কিছুই হবে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের যেমন নিজস্ব ইস্যু রয়েছে, ভারতেরও বিভিন্ন ইস্যু রয়েছে। তবে দুই দেশের মানুষের মূল প্রত্যাশা একটাই—ভালো সম্পর্ক। সম্পর্ক ভালো থাকলে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করাও সহজ হয়।

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, বিভিন্ন ইস্যুর সমাধান করতেই হবে। এ বিষয়ে তিনি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী এবং আগামী দিনগুলো দুই দেশের জন্য আরও ভালো হবে বলে আশা করেন।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

সর্বশেষ

আরও পড়ুন