‘একদিন তো চলে যেতে হবে’, মৃত্যুর কথা বলতে গিয়ে আবেগঘন লাকি আলি

মৃত্যু যে অনিবার্য, সেই বাস্তবতাকে মেনে নিয়েই জীবনযাপন করেন জনপ্রিয় ভারতীয় গায়ক লাকি আলি। সম্প্রতি এক কনসার্টে গান পরিবেশনের পাশাপাশি নিজের জীবন ও মৃত্যু নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন ৬৭ বছর বয়সী এই শিল্পী।
অনুষ্ঠানের একটি ভিডিও পরে নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করেন লাকি আলি। ভিডিওতে দেখা যায়, মঞ্চে বসে শ্রোতাদের সঙ্গে নিজের ভাবনা ভাগ করে নিচ্ছেন তিনি।
লাকি আলি বলেন, একদিন তাঁকে সবাইকে ছেড়ে চলে যেতে হবে—এ কথা তিনি জানেন। তবে নিজের মৃত্যুর জন্য তিনি মানসিকভাবে প্রস্তুত। শ্রোতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তিনি তাদের ভালোবাসেন, কিন্তু একদিন তাঁকে চলে যেতে হবে। সেই বাস্তবতার জন্য তিনি নিজেই প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন।
এরপর নিজের মৃত্যুর প্রস্তুতি সম্পর্কে আরও একটি বিষয় জানান লাকি। তিনি বলেন, যেখানেই যান, সঙ্গে একটি ‘ইহরাম’ রাখেন। ইসলামি রীতিতে হজ ও ওমরাহ পালনের সময় ব্যবহৃত সাদা কাপড়কে ইহরাম বলা হয়। মৃত্যুর পর দাফনের ক্ষেত্রেও সাদা কাপড় ব্যবহারের প্রচলন রয়েছে।
লাকি আলির ভাষ্য, তিনি যেখানেই থাকুন না কেন, সেখানেই তাঁর মৃত্যু হলে যেন তাঁকে দাফন করা হয়। এ জন্য নিজের সঙ্গে ইহরাম রাখেন তিনি। গায়কের এমন কথায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়।
কনসার্টে এক ভক্তও লাকি আলির প্রতি নিজের দীর্ঘদিনের ভালোবাসার কথা জানান। তিনি বলেন, প্রায় ৩০ বছর ধরে লাকির গান ও তাঁর সঙ্গে নিজের সম্পর্কের প্রতি তিনি অটুট রয়েছেন।
সংগীতজগতে লাকি আলির পরিচিতি
১৯৯০-এর দশকে ভারতীয় ইন্ডি-পপ সংগীতের অন্যতম জনপ্রিয় শিল্পী হিসেবে পরিচিতি পান লাকি আলি। তাঁর স্বতন্ত্র কণ্ঠ ও শান্ত ধরনের পরিবেশনা খুব দ্রুত শ্রোতাদের মনে জায়গা করে নেয়।
১৯৯৬ সালে প্রকাশিত তাঁর প্রথম একক অ্যালবাম ‘শুনো’-এর গান ‘ও সনম’ তাঁকে ব্যাপক জনপ্রিয়তা এনে দেয়। গানটি এখনো শ্রোতাদের কাছে সমান জনপ্রিয়।
লাকি আলি বলিউড অভিনেতা মেহমুদ আলি ও মাহেলকা ওরফে মধু আলির ছেলে। সংগীতজীবনে ‘গোরী তেরী আঁখেঁ কহেঁ’, ‘তেরী ইয়াদ জব আতী হ্যায়’, ‘না তুম জানো না হম’, ‘হ্যায়রত’, ‘এক পল কা জীনা’ ও ‘সফরনামা’র মতো গান দিয়ে শ্রোতাদের মুগ্ধ করেছেন তিনি।
দীর্ঘ সময় সংগীতাঙ্গন থেকে অনেকটা দূরে থাকলেও লাকি আলির গান ও কণ্ঠের প্রতি শ্রোতাদের আগ্রহ কমেনি। সাম্প্রতিক কনসার্টেও দর্শকদের উচ্ছ্বাস প্রমাণ করেছে, কয়েক দশক পরও সংগীতপ্রেমীদের মনে তাঁর অবস্থান কতটা শক্তিশালী।