সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬
Natun Kagoj

সুটকেসে লাশের খবরে তোলপাড়, ফরেনসিক পরীক্ষায় মিলল সেক্স ডল

সুটকেসে লাশের খবরে তোলপাড়, ফরেনসিক পরীক্ষায় মিলল সেক্স ডল
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলসে একটি সুটকেসের ভেতরে মানুষের মরদেহের খণ্ডাংশ থাকার সন্দেহে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছিল। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে এটিকে সম্ভাব্য হত্যাকাণ্ড হিসেবে তদন্ত শুরু করে। তবে ফরেনসিক পরীক্ষার পর জানা যায়, সুটকেসে থাকা বস্তুগুলো কোনো মানুষের মরদেহ নয়, বরং মানুষের আদলে তৈরি একটি সেক্স ডল।

ঘটনাটি ঘটে সিডনি থেকে প্রায় ২৩০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে ওলেন নামের একটি গ্রামের কাছে। গত সপ্তাহে মহাসড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় দুই ব্যক্তি রাস্তার পাশে একটি সুটকেস পড়ে থাকতে দেখেন। সেটির ভেতরে মানুষের দেহের মতো কিছু দেখতে পেয়ে তারা পুলিশকে খবর দেন।

অস্ট্রেলিয়ার সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিষয়টি জানার পর পুলিশ ঘটনাটিকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করে। সম্ভাব্য মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করতে ঘটনাস্থলে তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের পাঠানো হয়।

পরবর্তীতে সুটকেসটি পরীক্ষা করে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত হন, এর ভেতরে মানুষের কোনো দেহাবশেষ নেই। সেখানে ছিল মানুষের অবয়বের একটি সেক্স ডল।

নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের পুলিশ সুপার লিন্ডা ব্র্যাডবেরি বলেন, প্রথম দেখায় বস্তুগুলোকে মানুষের শরীরের খণ্ডিত অংশ মনে হয়েছিল। মানুষের মরদেহের সঙ্গে এগুলোর চেহারা ও গঠনের এতটাই মিল ছিল যে প্রথমে বিভ্রান্ত হওয়া স্বাভাবিক।

তবে বৈজ্ঞানিক ও ফরেনসিক পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যায়, সেগুলো মানুষের শরীরের অংশ নয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সুটকেসে থাকা পুতুলটির শরীরে মানুষের পোশাক পরানো ছিল। এর মাথায় চুলও ছিল এবং নাকে ছিল পিয়ার্সিং। এসব বৈশিষ্ট্যের কারণে দূর থেকে সেটিকে আরও বেশি বাস্তব মানুষের মতো মনে হচ্ছিল।

ঘটনাটিকে আরও রহস্যজনক করে তুলেছিল পুতুলটির শরীরে থাকা বিভিন্ন দাগ ও ক্ষতচিহ্ন। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশ জানিয়েছে, এসব দাগ দেখতে মানুষের শরীরে আঘাতের ফলে তৈরি কালশিটে বা ছিলে যাওয়ার চিহ্নের মতো মনে হচ্ছিল।

পুলিশ সুপার লিন্ডা ব্র্যাডবেরি বলেন, সুটকেসটি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে উদ্ধার করে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছিল। সব ধরনের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে নিশ্চিত হওয়া গেছে, এটি কোনো মানবদেহ নয়।

তিনি আরও বলেন, ঘটনাটিকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা পুলিশের জন্য যথাযথ সিদ্ধান্ত ছিল। কারণ, প্রথম পর্যায়ে এটিকে মানুষের মরদেহ মনে হওয়ার যথেষ্ট কারণ ছিল। তাই বিষয়টি যাচাই না করে উপেক্ষা করার কোনো সুযোগ ছিল না।

এদিকে সুটকেসটি দেখে পুলিশকে খবর দেওয়া দুই ব্যক্তির প্রশংসা করেছে পুলিশ। তাদের দ্রুত সিদ্ধান্তকে সঠিক বলে উল্লেখ করে পুলিশ সুপার জানান, ঘটনাটি দেখে তারা ভীত ও মানসিকভাবে বিচলিত হয়ে পড়েছিলেন।

তবে ফরেনসিক পরীক্ষায় কোনো মানুষের মরদেহ পাওয়া যায়নি নিশ্চিত হওয়ার পর পুলিশ তাদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করে বিষয়টি জানাবে।

ফরেনসিক পরীক্ষায় প্রকৃত ঘটনা সামনে আসার পর পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় আর কোনো অপরাধ তদন্তের প্রয়োজন নেই। ফলে সম্ভাব্য হত্যাকাণ্ড ঘিরে শুরু হওয়া তদন্তের এখানেই সমাপ্তি টানা হয়েছে।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

সর্বশেষ

আরও পড়ুন