দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কে চেহারা, নাকি ব্যক্তিত্ব-কোনটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ?

দীর্ঘমেয়াদি রোমান্টিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সততা, ভালো স্বভাব, রসবোধ, বুদ্ধিমত্তা ও শারীরিক আকর্ষণ—কোন গুণটিকে মানুষ সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়? মুখে বেশিরভাগ মানুষ সততা বা বুদ্ধিমত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বললেও, বাস্তব জীবনে সঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্তটি অনেক সময় ভিন্নভাবে কাজ করে।
মনস্তত্ত্ববিষয়ক ওয়েবসাইট সাইকোলজি টুডেতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জীবনসঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে মানুষের বলা পছন্দ এবং বাস্তব আচরণের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা যায়। ডেটিং বা সম্ভাব্য সঙ্গী বাছাইয়ের প্রাথমিক পর্যায়ে শারীরিক আকর্ষণ অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের ইস্টার্ন কানেকটিকাট স্টেট ইউনিভার্সিটির সমাজমনস্তত্ত্বের অধ্যাপক ও সম্পর্কবিষয়ক গবেষক ড. মেডেলিন এ. ফুগেরের এক মনস্তাত্ত্বিক পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, মানুষ অবচেতনভাবে আকর্ষণীয় চেহারার সঙ্গে সুস্বাস্থ্য, উপযুক্ত বয়স ও প্রজনন সক্ষমতার মতো বৈশিষ্ট্যের ইতিবাচক সম্পর্ক তৈরি করতে পারে।
স্পিড ডেটিং ও অনলাইন ডেটিং নিয়ে বিভিন্ন গবেষণায়ও দেখা গেছে, সম্ভাব্য সঙ্গীকে প্রথমবার মূল্যায়নের ক্ষেত্রে শারীরিক আকর্ষণ নারী-পুরুষ উভয়ের কাছেই গুরুত্বপূর্ণ। ব্যক্তিত্ব, শিক্ষা বা বুদ্ধিমত্তার মতো গুণের পাশাপাশি বাহ্যিক আকর্ষণ প্রাথমিক পছন্দে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।
এর পেছনে একটি মনস্তাত্ত্বিক প্রবণতা কাজ করে। মানুষ অনেক সময় আকর্ষণীয় ব্যক্তিদের তুলনামূলকভাবে সুখী, সফল বা ইতিবাচক বৈশিষ্ট্যের অধিকারী বলে ধরে নেয়। এই প্রবণতা বিভিন্ন সংস্কৃতিতেও কম-বেশি দেখা যায় বলে মনোবিজ্ঞানের গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে শারীরিক আকর্ষণ মানেই নিখুঁত বা প্রচলিত অর্থে অত্যন্ত সুন্দর চেহারা নয়। গবেষকদের মতে, বেশিরভাগ মানুষের ক্ষেত্রে সঙ্গী নির্বাচনের জন্য একটি নির্দিষ্ট মাত্রার আকর্ষণীয়তাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
মনোবিজ্ঞানের ‘প্রয়োজনীয়তা বনাম বিলাসিতা’ ধারণা অনুযায়ী, সম্পর্কের শুরুতে ন্যূনতম বা মাঝারি মাত্রার শারীরিক আকর্ষণ একটি প্রাথমিক শর্ত হিসেবে কাজ করতে পারে। সেই পর্যায় অতিক্রম করার পর বুদ্ধিমত্তা, রসবোধ, সততা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভালো স্বভাবের মতো গুণ সম্পর্ককে আরও গভীর ও স্থায়ী করতে ভূমিকা রাখে।
অধ্যাপক ফুগেরের ভাষ্য, মানুষ যখন ধীরে ধীরে একে অপরকে গভীরভাবে জানতে শুরু করে এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা বাড়ে, তখন সময়ের সঙ্গে তাদের মধ্যকার আকর্ষণও স্বাভাবিকভাবে আরও গভীর হতে পারে।
অর্থাৎ, সম্পর্কের শুরুতে বাহ্যিক আকর্ষণ কারও প্রতি আগ্রহ তৈরিতে ভূমিকা রাখলেও দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কে ব্যক্তিত্ব, পারস্পরিক বোঝাপড়া, শ্রদ্ধা ও আবেগগত সংযোগের গুরুত্ব বাড়তে থাকে। ফলে সময়ের সঙ্গে শুধু চেহারার ওপর নির্ভরতা কমে গিয়ে সম্পর্কের অন্যান্য গুণাবলি বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।