নিয়মিত ৬ ঘণ্টা ঘুমে বাড়তে পারে যেসব স্বাস্থ্যঝুঁকি

ঘুম শুধু শরীরকে বিশ্রাম দেওয়ার সময় নয়, এ সময় মস্তিষ্ক তথ্য প্রক্রিয়াকরণ এবং শরীরের বিভিন্ন কলা ও তন্ত্র পুনরুদ্ধারের কাজ করে। তবে অনেক প্রাপ্তবয়স্ক নিয়মিত ছয় ঘণ্টা ঘুমিয়েও মনে করেন, এতে তাদের কোনো সমস্যা হচ্ছে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, বেশিরভাগ প্রাপ্তবয়স্কের জন্য নিয়মিত ছয় ঘণ্টা ঘুম যথেষ্ট নয়।
বয়সভেদে ঘুমের প্রয়োজনও আলাদা। নবজাতকের প্রতিদিন ১৪ থেকে ১৭ ঘণ্টা, ৪ থেকে ১২ মাস বয়সী শিশুর ১২ থেকে ১৬ ঘণ্টা এবং ১ থেকে ২ বছর বয়সীদের ১১ থেকে ১৪ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। ৩ থেকে ৫ বছর বয়সে ১০ থেকে ১৩ ঘণ্টা, ৬ থেকে ১২ বছরে ৯ থেকে ১২ ঘণ্টা এবং ১৩ থেকে ১৭ বছরে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা ঘুমের পরামর্শ দেওয়া হয়। ১৮ থেকে ৬৪ বছর বয়সীদের অন্তত ৭ ঘণ্টা এবং ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন।
নিয়মিত ছয় ঘণ্টা ঘুমালে অনেকের শুরুতে তেমন ক্লান্তি নাও লাগতে পারে। শরীর কম ঘুমের সঙ্গে কিছুটা মানিয়ে নেওয়ায় এমনটা হতে পারে। তবে এতে শরীরের প্রয়োজনীয় ঘুমের ঘাটতি পূরণ হয় না। খুব অল্পসংখ্যক মানুষের জিনগত বৈশিষ্ট্যের কারণে কম ঘুমেও স্বাভাবিকভাবে কাজ করার সক্ষমতা থাকতে পারে, যাদের ‘শর্ট স্লিপার’ বলা হয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘদিন প্রয়োজনের তুলনায় কম ঘুম হৃদরোগ, স্ট্রোক, স্মৃতিশক্তির অবনতি, বিষণ্ণতা ও বিপাকীয় সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত। ঘুমের ঘাটতি বাড়ার সঙ্গে এসব স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়তে পারে।
নিয়মিত ছয় ঘণ্টা ঘুমের ফলে মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া, সিদ্ধান্ত গ্রহণে দুর্বলতা, মেজাজের পরিবর্তন, উচ্চ রক্তচাপ, ওজন বাড়া এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে হৃদরোগ ও অন্যান্য বিপাকীয় সমস্যার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
তাই মাঝে মধ্যে ছয় ঘণ্টা ঘুম হওয়া নিয়ে উদ্বেগের কারণ না থাকলেও, প্রতিদিনের অভ্যাস হিসেবে বেশিরভাগ প্রাপ্তবয়স্কের অন্তত সাত ঘণ্টা মানসম্মত ঘুম নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।