ইসলামে নারীদের কোরবানির বিধান কী

ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, কোরবানি কেবল পুরুষের ওপর নয়, বরং নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে নারীদের ওপরও ওয়াজিব হয়। মূলত জিলহজ মাসের ১০, ১১ ও ১২ তারিখ (কোরবানির দিনগুলোতে) যদি কোনো মুসলিম প্রাপ্তবয়স্ক ও সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন নারীর কাছে নেসাব পরিমাণ সম্পদ থাকে, তবে তাঁর ওপর কোরবানি করা ওয়াজিব।
নারীদের ওপর কোরবানি ওয়াজিব হওয়ার প্রধান শর্তগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
-
নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিকানা: যদি কোনো নারীর কাছে সাড়ে সাত ভরি সোনা অথবা সাড়ে ৫২ ভরি রুপা কিংবা এর সমমূল্যের নগদ টাকা বা ব্যবসায়িক পণ্য থাকে, তবে তাঁর ওপর কোরবানি ওয়াজিব।
-
ব্যক্তিগত অলঙ্কার: অনেক নারীর কাছে নগদ টাকা না থাকলেও কোরবানির দিনগুলোতে নেসাব পরিমাণ (সাড়ে সাত ভরি বা তার বেশি) স্বর্ণালঙ্কার থাকে; এমন ক্ষেত্রে ওই নারীর ওপর কোরবানি ওয়াজিব হবে।
-
প্রয়োজনাতিরিক্ত সম্পদ: নিত্যপ্রয়োজনীয় আসবাবপত্র বা ব্যবহারের সামগ্রী বাদে যদি নেসাব পরিমাণ মূল্যের অতিরিক্ত সম্পদ বা জমি থাকে, তবে কোরবানি করা বাধ্যতামূলক।
-
স্বাধীন মালিকানা: নারীর মালিকানাধীন সম্পদ যদি তাঁর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং তিনি তা ব্যয়ের অধিকার রাখেন, তবেই এই বিধান প্রযোজ্য হবে।
-
পারিবারিক নির্ভরশীলতা: কোনো নারী যদি বাবার বাড়িতে বা স্বামীর সংসারে নির্ভরশীলও হন, তবুও যদি তাঁর ব্যক্তিগত মালিকানায় নেসাব পরিমাণ সম্পদ থাকে, তবে তাঁকে নিজ উদ্যোগে কোরবানি দিতে হবে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: স্বামীর ওপর কোরবানি ওয়াজিব হওয়ার অর্থ এই নয় যে, স্ত্রীর কোরবানি আদায় হয়ে গেছে। যদি স্ত্রীর পৃথক নেসাব পরিমাণ সম্পদ থাকে, তবে স্বামী ও স্ত্রী উভয়কেই আলাদাভাবে কোরবানি দিতে হবে। তবে স্ত্রী চাইলে তাঁর অনুমতিক্রমে স্বামী নিজের টাকা দিয়ে স্ত্রীর পক্ষ থেকে কোরবানি আদায় করে দিতে পারেন।
দৈএনকে/জে, আ