রামিসা হত্যা মামলা: আদালতের অনুমতি ছাড়া আসামির বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞা

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচার চলাকালে আদালতের বাইরে আসামিদের বক্তব্য দেওয়া ও তা গণমাধ্যমে প্রচারের বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পর এ নির্দেশনা প্রদান করেন।
রাষ্ট্রপক্ষে নিযুক্ত বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আজিজুর রহমান দুলু আদালতের কাছে আবেদন করে বলেন, আইন অনুযায়ী পুলিশি হেফাজতে থাকা কোনো আসামির বিচারকের অনুমতি ছাড়া প্রকাশ্যে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ নেই। তিনি উল্লেখ করেন, এ বিষয়ে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা বিদ্যমান রয়েছে এবং বিচারাধীন মামলার আসামিদের বক্তব্য প্রচার বিচারপ্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে।
আবেদনে আরও বলা হয়, আদালতের বাইরে দেওয়া বক্তব্য জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে এবং বিচারিক কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আদালতের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।
আদালত আবেদনটি গ্রহণ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন।
এদিকে একই দিনে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। প্রথমে সাক্ষ্য দেন ভুক্তভোগী শিশুর বাবা ও মামলার বাদী আব্দুল হান্নান মোল্লা। পরে আদালতে জবানবন্দি দেন শিশুটির মা পারভীন আক্তার। উভয় সাক্ষীকে আসামিপক্ষের আইনজীবী জেরা করেন।
পরে শিশু সাক্ষীর নিরাপত্তা ও মানসিক অবস্থার বিষয় বিবেচনায় রামিসার বড় বোনের সাক্ষ্য ক্যামেরা ট্রায়ালের মাধ্যমে গ্রহণ করা হয়।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার পরবর্তী ধাপে তদন্ত কর্মকর্তা, চিকিৎসক, আলামত সংগ্রহকারী কর্মকর্তা, ম্যাজিস্ট্রেট এবং স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে।
এর আগে সোমবার আদালত দুই আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। একই সঙ্গে সাক্ষীদের আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করা হয়।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৯ মে নিখোঁজ হওয়ার পর একটি আবাসিক ভবনের ফ্ল্যাট থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর পুলিশ একজন আসামিকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করে এবং অপর আসামিকে পরে গ্রেপ্তার করে। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।