বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের

জোরপূর্বক শ্রম (ফোর্সড লেবার) প্রতিরোধে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে বাংলাদেশসহ ৬০টি দেশের পণ্যের ওপর নতুন করে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ বিষয়ে প্রস্তাব প্রকাশ করেছে দেশটির বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর (ইউএসটিআর)।
প্রস্তাব অনুযায়ী, কয়েকটি দেশের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ এবং অন্য কিছু দেশের ক্ষেত্রে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হতে পারে। ইউএসটিআরের দাবি, এসব দেশের নীতিগত দুর্বলতার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অন্যায্য প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি হচ্ছে এবং মার্কিন শ্রমিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
এই উদ্যোগ ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন বাণিজ্য নীতির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট জরুরি ক্ষমতা ব্যবহার করে আরোপিত কয়েকটি শুল্ক বাতিল করে দেওয়ার পর প্রশাসন নতুন আইনি কাঠামোর আওতায় শুল্ক ব্যবস্থা পুনর্গঠনের চেষ্টা চালাচ্ছে।
ইউএসটিআর জানিয়েছে, বাংলাদেশ, কানাডা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইন্দোনেশিয়া, মেক্সিকো, পাকিস্তান, আর্জেন্টিনা, কম্বোডিয়া, মালয়েশিয়া, তাইওয়ান, যুক্তরাজ্যসহ মোট ১৫টি অর্থনৈতিক অংশীদারের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব রয়েছে।
অন্যদিকে তদন্তের আওতায় থাকা আরও ৪৫টি দেশের পণ্যের ক্ষেত্রে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের সুপারিশ করা হয়েছে।
মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিয়েসন গ্রিয়ার বলেন, জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়া কোনো দেশের জন্য গ্রহণযোগ্য নয়। এমন পরিস্থিতি মার্কিন শ্রমিকদের জন্য বৈশ্বিক বাজারে অসম প্রতিযোগিতার সৃষ্টি করে।
একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র নির্দিষ্ট পরিমাণ টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাক কম শুল্কে আমদানির জন্য একটি বিশেষ সুবিধা চালুর প্রস্তাবও দিয়েছে। তবে কত পরিমাণ পণ্য এই সুবিধার আওতায় আসবে এবং শুল্ক কতটা কমানো হবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
বর্তমানে কার্যকর থাকা ১০ শতাংশ অস্থায়ী শুল্কের মেয়াদ আগামী ২৪ জুলাই শেষ হওয়ার কথা। এর আগে নতুন শুল্ক কাঠামো চূড়ান্ত করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকসহ রপ্তানি খাতের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনার সুযোগ এখনও রয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স