ইরানের দুই দ্বীপে মার্কিন বিমান হামলা, লক্ষ্যবস্তু রাডার ও ড্রোন স্থাপনা

পারস্য উপসাগরের কেশম ও গোরুক দ্বীপে ইরানের সামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালানোর দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকোম)। সোমবার (১ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সেন্টকোমের দাবি, দ্বীপ দুটিতে অবস্থিত রাডার ব্যবস্থা এবং ড্রোন পরিচালনা ও উৎক্ষেপণ সংক্রান্ত অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভাষ্য অনুযায়ী, রোববার ইরানের বাহিনী একটি মার্কিন এমকিউ-১ প্রিডেটর ড্রোন ভূপাতিত করার পর এর প্রতিক্রিয়ায় এই অভিযান পরিচালিত হয়।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর তথ্যমতে, হামলায় ইরানের কয়েকটি প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে একটি গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশন, দুটি আক্রমণাত্মক ড্রোন এবং কিছু বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
এ হামলা এমন সময় ঘটল, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা নিরসনে কূটনৈতিক আলোচনা নতুন করে গতি পেয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যাচ্ছে।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে চলমান বিরোধের জেরে গত ফেব্রুয়ারিতে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। পরবর্তীতে এপ্রিলের শুরুতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে আবারও সীমিত আকারে সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে।
গত সপ্তাহে হরমুজ প্রণালিতে একটি মার্কিন পতাকাবাহী জাহাজকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার অভিযোগ তোলে যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে ইরানের বন্দর আব্বাস এলাকায় একটি ড্রোন স্থাপনায় হামলা চালানো হয়। পরে কুয়েতে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার দায় নেয় ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)।
সাম্প্রতিক এই পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ানোর আশঙ্কা তৈরি করেছে।
সূত্র : এএফপি, এনডিটিভি অনলাইন