তাপপ্রবাহে কাবু দেশ, স্বস্তির জন্য আর কদিন অপেক্ষা

দেশজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বুধবার (৪ জুন) দেশের ৪৮টি জেলার ওপর দিয়ে তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে, যা চলতি বছরের মধ্যে একদিনে সর্বোচ্চ বিস্তৃত তাপপ্রবাহের ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা, রাজশাহী, রংপুর, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের অধিকাংশ জেলায় তাপপ্রবাহ অনুভূত হয়েছে। এছাড়া চাঁদপুর, নোয়াখালী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়াতেও তাপমাত্রা তাপপ্রবাহের পর্যায়ে পৌঁছায়।
আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, শুক্রবার পর্যন্ত তাপপ্রবাহের প্রভাব অব্যাহত থাকতে পারে। তবে শনিবার থেকে ধীরে ধীরে তাপমাত্রা কমতে শুরু করার সম্ভাবনা রয়েছে। এরই মধ্যে দেশের কয়েকটি এলাকায় বৃষ্টিপাত শুরু হলেও তা গরমের তীব্রতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারছে না।
বুধবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে দিনাজপুরে, ৩৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজধানী ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা চলতি জুন মাসে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, এ বছর এত বিস্তৃত এলাকায় একসঙ্গে তাপপ্রবাহের নজির নেই। জুন মাসজুড়েই স্বাভাবিকের তুলনায় তাপমাত্রা বেশি থাকতে পারে। তবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তাপপ্রবাহের বিস্তার কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে মৌসুমি বায়ুর আগমন বিলম্বিত হওয়ায় বৃষ্টিপাতও প্রত্যাশার তুলনায় কম হচ্ছে। সাধারণত মে মাসের শেষ দিকে মৌসুমি বায়ু দেশে প্রবেশ করলেও এবার তা এখনও পুরোপুরি সক্রিয় হয়নি।
আবহাওয়াবিদ মো. বজলুর রশীদ জানান, মৌসুমি বায়ু দেশে প্রবেশ করতে আরও দুই থেকে তিন দিন সময় লাগতে পারে। এরপর ধীরে ধীরে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়বে এবং কয়েকদিনের মধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বর্ষার প্রভাব স্পষ্ট হবে।
তিনি আরও বলেন, তাপপ্রবাহ কমে এলেও বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় গরমের অনুভূতি কিছুদিন বজায় থাকতে পারে। রাজধানীসহ ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু এলাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।