শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj

নবাবপুরের ইতিহাস: উমরাহ বাজার থেকে ঢাকার ঐতিহ্যবাহী বাণিজ্যকেন্দ্র

নবাবপুরের ইতিহাস: উমরাহ বাজার থেকে ঢাকার ঐতিহ্যবাহী বাণিজ্যকেন্দ্র
ছবি: এআই
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

ঢাকার পুরান অংশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহ্যবাহী এলাকা নবাবপুর, যার ইতিহাস মুঘল আমল পর্যন্ত বিস্তৃত। মুঘল শাসনামলে এটি পরিচিত ছিল ‘উমরাহ বাজার’ নামে। তখন এই এলাকাটি মূলত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বা ‘উমরাহ’দের আবাসস্থল ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান ছিল। ঢাকার নগর কাঠামো গড়ে ওঠার প্রাথমিক পর্যায়ে এই এলাকার কৌশলগত অবস্থান এটিকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়।

পরবর্তীতে মুঘল শাসনের প্রভাব ও ঢাকার নগরায়ণের বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে এখানে বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড বাড়তে থাকে। ধীরে ধীরে অভিজাত শ্রেণির প্রভাব, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার এবং প্রশাসনিক গুরুত্ব মিলিয়ে এলাকাটির পরিচিতি বদলে যায়। সেই পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় এলাকাটি ‘নবাবপুর’ নামে পরিচিতি লাভ করে। নামটি একদিকে যেমন আভিজাত্যের প্রতীক, অন্যদিকে ঢাকার ঐতিহাসিক নগর বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ চিহ্ন।

নবাবপুর শুধু নামের ইতিহাসেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি দীর্ঘ সময় ধরে ঢাকার অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছে। বিশেষ করে হার্ডওয়্যার, ইলেকট্রনিকস, যন্ত্রাংশ ও নির্মাণসামগ্রীর পাইকারি ও খুচরা বাজার হিসেবে এটি আজও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ঢাকার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ব্যবসায়ীরা এখানে আসেন প্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহের জন্য।

ঐতিহাসিকভাবে নবাবপুর রাজনৈতিক আন্দোলনের সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় ঢাকার বিভিন্ন মিছিল ও প্রতিবাদ কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল এই এলাকা ও এর আশপাশ। পরবর্তী সময়ে স্বাধীনতা আন্দোলনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেও নবাবপুর ছিল সক্রিয় অংশগ্রহণের স্থান।

এলাকার স্থাপত্যেও ইতিহাসের ছাপ স্পষ্ট। পুরোনো ভবন, ঐতিহ্যবাহী দোকানপাট এবং ঘনবসতিপূর্ণ বাজার ব্যবস্থা আজও ঢাকার পুরোনো নগর জীবনের চিত্র বহন করে। সময়ের পরিবর্তনে আধুনিকতার ছোঁয়া লাগলেও নবাবপুর এখনও তার ঐতিহ্য ও বাণিজ্যিক গুরুত্ব ধরে রেখেছে।

সব মিলিয়ে নবাবপুর শুধু একটি বাজার বা এলাকা নয়, বরং ঢাকার ইতিহাস, সংস্কৃতি, বাণিজ্য ও রাজনৈতিক আন্দোলনের এক জীবন্ত সাক্ষ্য। মুঘল আমলের ‘উমরাহ বাজার’ থেকে আধুনিক ঢাকার ব্যস্ত বাণিজ্যকেন্দ্র—নবাবপুর আজও তার শত বছরের ইতিহাস বুকে ধারণ করে দাঁড়িয়ে আছে।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন