যে গুজবে বদলে গিয়েছিল দেশের বাজার

২০১০ সালের নভেম্বরে ১ টাকার লাল কয়েন নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। অজানা কারণেই এই কয়েনের দাম হঠাৎ করে বেড়ে যায়। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, ধাতব এই মুদ্রাটি তখন ৫০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হতে শুরু করে। ফলে সারা দেশে এক ধরনের হইচই পড়ে যায় এবং এক টাকার লাল কয়েন সংগ্রহে মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়ে।
স্থানীয় দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে দেখা দেয় তীব্র কয়েন সংকট। বিভিন্ন মসজিদ, মন্দির, মাদ্রাসা ও মাজারের দানবাক্স পর্যন্ত খুলে এসব কয়েন সংগ্রহের চেষ্টা চালানো হয়। স্কুলছাত্র থেকে শুরু করে বৃদ্ধ—সবাই ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যমে লাল কয়েন জোগাড়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।
তবে কেন এই কয়েনের এত চাহিদা তৈরি হয়েছে, তা স্পষ্ট করে কেউই বলতে পারেনি। প্রশাসনও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যত অসহায় হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে হাট-বাজার থেকে এক টাকার লাল কয়েন প্রায় উধাও হয়ে যায়।
পরবর্তীতে গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে, এই লাল কয়েন দিয়ে নাকি স্বর্ণে ভেজাল দেওয়া যায়, ফলে এটি স্বর্ণের খাদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এই গুজবের কারণেই মূলত কয়েনের চাহিদা আরও বেড়ে যায় বলে ধারণা করা হয়।
শেষ পর্যন্ত জানা যায়, পুরো ঘটনাটিই ছিল ভিত্তিহীন গুজব। কোনো বাস্তব কারণ ছাড়াই দেশে ব্যাপক চাহিদা ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল এক টাকার লাল কয়েন ঘিরে, যা পরে সম্পূর্ণভাবে মিথ্যা বলে প্রমাণিত হয়।