শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj

শিশুর মনে ঈমানের বীজ বুনতে আয়াতুল কুরসি শেখানো

শিশুর মনে ঈমানের বীজ বুনতে আয়াতুল কুরসি শেখানো
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

শিশুদের ছোটবেলা থেকেই কোরআন ও ইসলামী শিক্ষার সঙ্গে পরিচিত করে তোলা গুরুত্বপূর্ণ। ছোট সুরা ও প্রয়োজনীয় দোয়ার পাশাপাশি আয়াতুল কুরসিও তাদের শেখানো যেতে পারে। সুরা বাকারার ২৫৫ নম্বর আয়াতটি আল্লাহর একত্ব, মহত্ত্ব, জ্ঞান, ক্ষমতা ও সর্বময় কর্তৃত্বের কথা তুলে ধরে। তাই শুধু মুখস্থ করানোর পরিবর্তে এর অর্থ ও শিক্ষা শিশুর বয়স অনুযায়ী সহজভাবে বোঝানো হলে তা তার ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে।

আল্লাহ সম্পর্কে ধারণা তৈরি

আয়াতুল কুরসিতে আল্লাহর চিরঞ্জীব ও সর্বময় ক্ষমতার কথা বলা হয়েছে। শিশুর বোঝার ক্ষমতা অনুযায়ী সহজ ভাষায় এসব বিষয় ব্যাখ্যা করলে তার মনে সৃষ্টিকর্তা সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা তৈরি হতে পারে। তাকে বোঝানো যায়, আল্লাহ সবকিছুর সৃষ্টিকর্তা এবং তাঁর জ্ঞান ও ক্ষমতা সীমাহীন।

কোরআনের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠে

শিশুকে নিয়মিত কোরআন পড়া, শোনা ও আয়াত মুখস্থ করার অভ্যাস করালে ধীরে ধীরে কোরআনের সঙ্গে তার স্বাভাবিক সম্পর্ক তৈরি হতে পারে। আয়াতুল কুরসি শেখানোর সময় সঠিক উচ্চারণের পাশাপাশি এর অর্থও বোঝানো যেতে পারে। এতে মুখস্থ করার পাশাপাশি কোরআনের বক্তব্য বোঝার আগ্রহ তৈরি হতে পারে।

আল্লাহর ওপর ভরসার শিক্ষা

আয়াতুল কুরসিতে আল্লাহর অসীম ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের কথা রয়েছে। এর অর্থ বুঝিয়ে শেখালে ভয়, বিপদ বা অনিশ্চয়তার সময় আল্লাহর ওপর ভরসা করার ধারণা শিশুর মধ্যে তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে তাকে বোঝানো যায়, মানুষের সামর্থ্য সীমিত হলেও আল্লাহ সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান।

ইবাদতের অভ্যাস গড়ে তোলা

শিশুর বয়স উপযোগী করে আয়াতুল কুরসির শিক্ষা তুলে ধরলে নামাজ, দোয়া ও অন্যান্য ইবাদতের প্রতি আগ্রহ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পড়ার অভ্যাস করানোর মাধ্যমে নিয়মিত আমলের চর্চা গড়ে তোলা সম্ভব। তবে শেখানোর ক্ষেত্রে শিশুর বয়স ও মানসিক প্রস্তুতির বিষয়টি বিবেচনায় রাখা জরুরি।

মুখস্থের পাশাপাশি অর্থও শেখাতে হবে

শিশুকে দ্রুত মুখস্থ করানোর চেয়ে আয়াতটির অর্থ ও মূল শিক্ষা বোঝানোর দিকে গুরুত্ব দেওয়া বেশি কার্যকর হতে পারে। একসঙ্গে অনেক কিছু শেখানোর পরিবর্তে অল্প অল্প করে আয়াতের শব্দ, সঠিক উচ্চারণ ও অর্থ শেখানো যেতে পারে।

এ ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের আচরণও শিশুর ওপর প্রভাব ফেলে। তারা নিজেরা নিয়মিত কোরআন পড়লে, আয়াতুল কুরসি পড়ার অভ্যাস করলে এবং ইসলামী শিক্ষাগুলো নিজেদের জীবনে অনুসরণ করলে শিশুর সামনে একটি বাস্তব উদাহরণ তৈরি হয়।

শৈশবে শেখা অনেক বিষয় মানুষের মনে দীর্ঘদিন প্রভাব রাখে। তাই চাপ প্রয়োগ না করে ভালোবাসা, ধৈর্য ও বয়স উপযোগী পদ্ধতিতে আয়াতুল কুরসি শেখানো যেতে পারে। এর মাধ্যমে শিশু একটি গুরুত্বপূর্ণ কোরআনের আয়াত মুখস্থ করার পাশাপাশি এর অর্থ ও শিক্ষার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবে।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন