মশা মারার পর রক্ত কাপড়ে লাগলে কি তা নাপাক হয়?

মশার উপদ্রব বাড়লে অনেকেই হাত দিয়ে মশা মারেন। এ সময় মশার রক্ত হাতে বা কাপড়ে লেগে যায়। তখন অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে, মশার রক্ত শরীর বা কাপড়ে লাগলে কি তা নাপাক হয়ে যায়? এমন কাপড় পরে নামাজ আদায় করা যাবে কি?
ইসলামি ফিকহের আলোচনায় মশার রক্তকে নাপাক হিসেবে গণ্য করা হয় না। ফলে মশার রক্ত শরীর বা কাপড়ে লাগলে তা নাপাক হয় না এবং ওই কাপড় পরে নামাজ আদায় করতেও বাধা নেই।
ঢাকা থেকে প্রকাশিত মাসিক আল-কাউসারের এক ফতোয়ায় বলা হয়েছে, মশার রক্ত লাগা কাপড় পরে নামাজ পড়া যাবে। হাসান বসরি, আতা, আবু জাফর ও উরওয়ার মতো তাবেয়িদের মতও এমন। তবে কাপড় পরিবর্তন করে নেওয়া বা রক্তের দাগ ধুয়ে পরিষ্কার করে নেওয়া উত্তম। এ বিষয়ে ফতোয়া তাতারখানিয়া (খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৪৩২) এবং বাদায়েউস সানায়ে (খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১৯৫) গ্রন্থের উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছে।
আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহও এ বিষয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে বলেছেন, মশার রক্ত প্রবহমান নয় এবং এর পরিমাণও খুব কম। তাই মশার রক্ত কাপড় বা শরীরে লাগলে তা পরে নামাজ আদায় করা যাবে। এতে নামাজের কোনো ক্ষতি হবে না।
ক্ষতিকর প্রাণী মারা যাবে কি?
মশা মানুষের জন্য কষ্ট ও ক্ষতির কারণ হলে তা মেরে ফেলা জায়েজ। এ বিষয়ে সহিহ মুসলিমে একটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে।
হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘নবীদের মধ্যে কোনো এক নবী একটি গাছের নিচে অবতরণ করলে তাঁকে একটি পিঁপড়া কামড় দেয়। ফলে তাঁর নির্দেশে পিঁপড়ার বাসা আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। তখন আল্লাহ তাঁর প্রতি ওহি বা প্রত্যাদেশ নাজিল করে বললেন, তুমি একটি মাত্র পিঁপড়াকে শাস্তি দিলে না কেন?’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২২৪১)
হাদিসটি থেকে বোঝা যায়, ক্ষতিকর প্রাণী থেকে রক্ষা পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনের অতিরিক্ত বা নির্বিচারভাবে প্রাণী হত্যা করা উচিত নয়।
সুতরাং মশার রক্ত হাতে বা কাপড়ে লাগলে তা নাপাক হয়ে যায় না। এ কারণে ওই কাপড় পরে নামাজ আদায় করতেও কোনো বাধা নেই। তবে পরিচ্ছন্নতার স্বার্থে নামাজের আগে রক্তের দাগ ধুয়ে নেওয়া ভালো।