স্ত্রীকে ‘অন্য ছেলে দেখো’ বললে কি তালাক হয়?

কোরআন ও হাদিসের নির্দেশনা অনুযায়ী, তালাক দেওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম ও শিষ্টাচার অনুসরণ করা জরুরি। ইসলামী ফিকহ অনুযায়ী, স্ত্রী মাসিক থেকে পবিত্র হওয়ার পর এবং ওই পবিত্রতার সময়ে সহবাস না করে এক তালাক দেওয়াকে উত্তম পদ্ধতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। স্পষ্ট শব্দে তালাক দেওয়ার পাশাপাশি এমন কিছু কথাও আছে, যেগুলো সরাসরি তালাক না হলেও ইঙ্গিতপূর্ণ অর্থ বহন করে। ফিকহের পরিভাষায় এসব বাক্যকে ‘কিনায়া’ বলা হয়।
ফকীহদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কেউ যদি তালাকের নিয়তে কিনায়া বাক্য বলেন, তাহলে তালাকে বায়েন সংঘটিত হতে পারে। ‘তুমি অন্য কোনো ছেলে দেখো’—এ ধরনের কথাও কিনায়ার অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
ইমাম আলাউদ্দিন কাসানি (রহ.) কিনায়া শব্দের উদাহরণ দিতে গিয়ে উল্লেখ করেছেন, ‘তুমি বিবাহ করো’, ‘তুমি স্বামী খোঁজো’ কিংবা ‘তুমি তোমার পরিবারের কাছে চলে যাও’—এ ধরনের বাক্য কিনায়ার অন্তর্ভুক্ত।
কিনায়া বাক্য বলার সময় স্বামীর নিয়ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের কথা বলার সময় তিন তালাকের নিয়ত থাকলে তিন তালাক এবং এক তালাকের নিয়ত থাকলে এক তালাকে বায়েন সংঘটিত হতে পারে।
তাবেয়ি ইবরাহিম নাখাঈ (রহ.) থেকে বর্ণিত আছে, ফকীহরা বলতেন, ‘খালিয়াহ’ শব্দের মাধ্যমে এক তালাকের নিয়ত করা হলে এক তালাকে বায়েন হবে। আর তিন তালাকের নিয়ত করা হলে তিন তালাক হবে।
অন্যদিকে, কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা নির্ধারণ না করে শুধু তালাকের নিয়ত থাকলে এক তালাকে বায়েন সংঘটিত হয় বলে ফিকহের গ্রন্থগুলোতে উল্লেখ রয়েছে। ইমাম মুহাম্মাদ (রহ.)-এর বক্তব্য অনুযায়ী, তালাকের নিয়ত থাকলেও নির্দিষ্ট সংখ্যা নির্ধারণ করা না হলে এক তালাকে বায়েন হবে।
ফকীহ আবদুল্লাহ ইবনে মাহমুদ মাওসিলি (রহ.)-ও ‘তুমি স্বামী খোঁজো’ ধরনের বাক্যের ব্যাখ্যায় বলেছেন, এ ক্ষেত্রে এক বা তিন তালাকের নিয়ত কার্যকর হতে পারে। আর শুধু তালাকের নিয়ত থাকলে সর্বনিম্ন সংখ্যা হিসেবে এক তালাক গণ্য হবে।
সুতরাং, কোনো স্বামী যদি স্ত্রীকে একবার ‘তুমি অন্য কোনো ছেলে দেখো’ বলেন এবং কথাটি বলার সময় তালাকের নিয়ত থাকে, কিন্তু নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা বা তিন তালাকের নিয়ত না থাকে, তাহলে উল্লিখিত ফিকহি ব্যাখ্যা অনুযায়ী এক তালাকে বায়েন সংঘটিত হবে।
এ অবস্থায় স্বামী-স্ত্রী আবার সংসার করতে চাইলে নতুন করে বিয়ে করতে হবে। ইদ্দত চলাকালে হোক কিংবা ইদ্দত শেষ হওয়ার পর—উল্লিখিত মত অনুযায়ী, শুধু মৌখিকভাবে রুজু করলেই বৈবাহিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপিত হবে না; নতুন করে বিয়ের মাধ্যমে সম্পর্ক স্থাপন করতে হবে।
এভাবে বিয়ে নবায়নের পর স্বামীর কাছে আরও দুই তালাকের অধিকার অবশিষ্ট থাকবে। পরবর্তী সময়ে আরও দুই তালাক কার্যকর হলে মোট তিন তালাক পূর্ণ হবে। তখন শরিয়তের বিধান অনুযায়ী সরাসরি নতুন বিয়ে করে আগের দাম্পত্য সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করা যাবে না।
গুরুত্বপূর্ণ: তালাকের বিধান কথার ধরন, বলার সময়কার নিয়ত, পরিস্থিতি এবং অনুসৃত ফিকহি মতের ওপর নির্ভর করতে পারে। বাস্তব কোনো ঘটনা ঘটলে শুধু সাধারণ লেখা পড়ে সিদ্ধান্ত না নিয়ে অভিজ্ঞ মুফতি বা যোগ্য আলেমের কাছে পুরো ঘটনা খুলে বলা উচিত।