শৈশবের আধ্যাত্মিক চর্চায় ইসলামের মিল খুঁজে পেলেন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাঞ্জেলা

যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদিবাসী সংরক্ষিত এলাকায় বেড়ে ওঠা অ্যাঞ্জেলার শৈশব কেটেছে আধ্যাত্মিক পরিবেশে। দাদা-দাদির কাছ থেকে ছোটবেলা থেকেই সৃষ্টিকর্তার কথা শুনেছেন তিনি। তবে পরিবারে কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় পরিচয় ছিল না। পরবর্তী সময়ে ক্যাথলিক আবাসিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা এবং বিভিন্ন ধর্ম সম্পর্কে জানার চেষ্টা করেও নিজের প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাননি। শেষ পর্যন্ত ইসলামের সঙ্গে পরিচয়ের পর পবিত্র কোরআনের শিক্ষায় নিজের শৈশবের বিশ্বাস ও জীবনচর্চার প্রতিফলন খুঁজে পান তিনি। এভাবেই ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হন অ্যাঞ্জেলা।
ইসলামবিষয়ক ওয়েবসাইট ‘অ্যাবাউট ইসলাম’-এ গত ১৫ অক্টোবর প্রকাশিত ‘আই’ভ বিন মুসলিম মাই হোল লাইফ বাট আই ডিডন্ট নো ইট!’ শিরোনামের লেখায় নিজের ধর্মীয় অনুসন্ধান ও ইসলাম গ্রহণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন অ্যাঞ্জেলা।
লেখায় তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদিবাসী সংরক্ষিত এলাকায় তাঁর বেড়ে ওঠা। সেখানে দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল আধ্যাত্মিকতা। দাদা-দাদি তাঁকে সৃষ্টিকর্তার কথা শোনাতেন এবং নানা গল্পের মাধ্যমে জীবনের শিক্ষা দিতেন। তাঁদের কাছ থেকেই ছোটবেলায় সৃষ্টিকর্তাকে স্মরণ করে জীবনযাপনের ধারণা পান তিনি।
অ্যাঞ্জেলার বয়স যখন ১০ বছর, তখন তাঁকে অন্য আদিবাসী শিশুদের সঙ্গে একটি ক্যাথলিক আবাসিক বিদ্যালয়ে পাঠানো হয়। তাঁর ধারণা, শিশুদের আরও বেশি আমেরিকান সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত করে তোলার উদ্দেশ্যে এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সেখানে দুই বছর কাটালেও ক্যাথলিক ধর্মের শিক্ষা তাঁর কাছে পরিষ্কার হয়নি। বরং ওই অভিজ্ঞতার পর এ ধর্মের সঙ্গে নিজের বিশ্বাসের মিল খুঁজে পাননি তিনি।
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে মানুষ তাঁর ধর্মীয় পরিচয় জানতে চাইত। কিন্তু পরিবারে আধ্যাত্মিক চর্চা থাকলেও নির্দিষ্ট কোনো ধর্মীয় পরিচয় না থাকায় প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর দিতে পারতেন না অ্যাঞ্জেলা।
তাঁর ভাষ্য, পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠরা এমনভাবে জীবনযাপনের পরামর্শ দিতেন, যাতে প্রতিটি কাজ ও পদক্ষেপই প্রার্থনার অংশ হয়ে ওঠে। তাঁদের বিশ্বাস ছিল, দৈনন্দিন কাজের মধ্য দিয়েও সৃষ্টিকর্তাকে স্মরণ করা উচিত।
বিভিন্ন ধর্ম সম্পর্কে অনুসন্ধান
নিজের বিশ্বাস ও ধর্মীয় পরিচয় সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পেতে একসময় বিভিন্ন ধর্ম নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেন অ্যাঞ্জেলা। সুযোগ পেলেই কোনো না কোনো ধর্ম সম্পর্কে জানার চেষ্টা করতেন। তবে বিভিন্ন ধর্মের কিছু মতবাদ তাঁর কাছে প্রশ্নের জন্ম দিত। ফলে দীর্ঘ অনুসন্ধানেও মনের সংশয় দূর করতে পারেননি তিনি।
একপর্যায়ে এক মুসলিম ব্যক্তির সঙ্গে পরিচয় হয় তাঁর। কথোপকথনের সময় মুসলিমদের কিছু ধর্মীয় অনুশীলনের সঙ্গে নিজের জীবনযাপনের মিল খুঁজে পান অ্যাঞ্জেলা। বিষয়টি তাঁকে বিস্মিত করে এবং ইসলাম সম্পর্কে আরও জানার আগ্রহ তৈরি হয়।
এরপর অনলাইনে ইসলাম নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেন তিনি। ধীরে ধীরে ইসলামের বিভিন্ন শিক্ষা তাঁর কাছে অর্থবহ হয়ে উঠতে থাকে। বিশেষ করে যেসব বিষয় তাঁকে আকৃষ্ট করেছিল, সেগুলোর অনেক কিছুই ছোটবেলায় দাদা-দাদির কাছ থেকে শোনা বলে মনে হতে থাকে তাঁর।
পুরোনো বইয়ের স্তূপে কোরআনের সন্ধান
ইসলাম সম্পর্কে জানার আগ্রহের মধ্যেই একদিন একটি মুদি দোকানে পুরোনো বইয়ের সংগ্রহ দেখতে পান অ্যাঞ্জেলা। সেখানে মানুষ নিজেদের ব্যবহৃত বই জমা দিত। অন্যরা সেসব বই কিনলে বিক্রির অর্থ ব্যয় করা হতো দাতব্য কাজে।
বইয়ের স্তূপে ইসলামবিষয়ক কয়েকটি বই চোখে পড়লে সেগুলো পড়ার আগ্রহ তৈরি হয় তাঁর। পরে পুরো সংগ্রহটি কিনে বাড়িতে নিয়ে যান এবং বইগুলো পড়তে শুরু করেন। সেগুলো পড়ার পর ইসলাম সম্পর্কে জানার আগ্রহ আরও বেড়ে যায়। একপর্যায়ে পবিত্র কোরআন পড়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
তবে কোরআন পড়ার শুরুতে কিছুটা অস্বস্তি অনুভব করেছিলেন অ্যাঞ্জেলা। কারণ, সেখানে পাওয়া কয়েকটি বক্তব্য তাঁর দাদার কাছ থেকে শোনা ধারণার সঙ্গে ভিন্ন মনে হয়েছিল। তারপরও পড়া চালিয়ে যান তিনি।
একসময় কোরআনের শিক্ষার সঙ্গে নিজের দীর্ঘদিনের জীবনচর্চার নানা মিল খুঁজে পান অ্যাঞ্জেলা। নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি কোরআন পড়তে থাকলাম। একসময় মনে হলো, আমি তো সারা জীবন ধরেই এসব করে আসছি, অথচ কখনো জানতামই না।’
অ্যাঞ্জেলার ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিনের অনুসন্ধান ও আত্মিক উপলব্ধির মধ্য দিয়ে ইসলামের শিক্ষায় তিনি নিজের অনেক প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পেয়েছেন। কোরআন পাঠের অভিজ্ঞতাই তাঁর ধর্মীয় জীবনে নতুন উপলব্ধির পথ খুলে দেয়।
সূত্র: অ্যাবাউট ইসলাম