শয়তানের প্ররোচনা ও গুনাহ থেকে বাঁচতে যে দোয়াগুলো পড়বেন

শয়তান মানুষকে বিভিন্নভাবে প্ররোচিত করে এবং আল্লাহর স্মরণ থেকে দূরে সরিয়ে রাখার চেষ্টা করে। ইসলামে নিয়মিত জিকির, দোয়া ও আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনার মাধ্যমে শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে বেঁচে থাকার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। হাদিসে বর্ণিত কয়েকটি দোয়া নিয়মিত পাঠের মাধ্যমে মুমিন আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা ও সঠিক পথে অবিচল থাকার প্রার্থনা করতে পারেন।
জিকিরে দূরে সরে যায় শয়তান
হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, শয়তান মানুষের অন্তরে অবস্থান করে। মানুষ যখন আল্লাহর জিকির করে, তখন সে সরে যায়। আর যখন আল্লাহর স্মরণ থেকে উদাসীন হয়ে পড়ে, তখন আবার কুমন্ত্রণা দিতে থাকে। (সহিহ বুখারি)
শয়তানের প্ররোচনা থেকে বাঁচার দোয়া
ফজরের নামাজের পর একটি বিশেষ দোয়া ১০ বার পাঠ করার ফজিলত হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। দোয়াটি হলো—
দোয়া:
‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকালাহু, লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু, ইউহয়ি ওয়া ইউমিতু, ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদির।’
অর্থ: আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। তিনি এক, তাঁর কোনো শরিক নেই। রাজত্ব তাঁরই এবং সব প্রশংসা তাঁরই। তিনিই জীবন ও মৃত্যু দান করেন। তিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান।
হজরত আবু যর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি ফজরের নামাজের পর কারও সঙ্গে কথা বলার আগে দুই পা ভাঁজ করে বসে ১০ বার এই দোয়া পাঠ করবে, তার আমলনামায় ১০টি নেকি লেখা হবে, ১০টি গুনাহ মুছে দেওয়া হবে এবং তার মর্যাদা ১০ ধাপ বাড়ানো হবে। ওই দিন সে শয়তানের অনিষ্ট থেকে সুরক্ষিত থাকবে। শিরক ছাড়া অন্য কোনো গুনাহ তার ক্ষতি করতে পারবে না। (জামে তিরমিজি)
বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময়ের দোয়া
বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় আল্লাহর ওপর ভরসা করে একটি দোয়া পাঠ করার কথা হাদিসে এসেছে।
হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় এই দোয়া পাঠ করে, তাকে বলা হয়—তোমাকে সঠিক পথ দেখানো হয়েছে, তোমার প্রয়োজন পূরণ করা হয়েছে এবং তোমার নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আর শয়তান তার কাছ থেকে দূরে সরে যায়। (জামে তিরমিজি)
দোয়া:
‘বিসমিল্লাহি তাওয়াক্কালতু আলাল্লাহি, লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।’
অর্থ: আল্লাহর নামে বের হচ্ছি এবং তাঁর ওপর ভরসা করছি। আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো অকল্যাণ দূর করার বা কল্যাণ লাভের শক্তি কারও নেই।
গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার দোয়া
গুনাহ থেকে দূরে থাকতে আল্লাহর সাহায্য ও অনুগ্রহ চাওয়া জরুরি। মানুষের পক্ষে আল্লাহর তাওফিক ছাড়া পাপ থেকে সম্পূর্ণভাবে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়। কোরআন ও হাদিসে এ বিষয়ে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দোয়া শেখানো হয়েছে।
এক. হেদায়েতের পর অন্তর অবিচল রাখার দোয়া
‘রাব্বানা লা তুযিগ কুলুবানা বা’দা ইজ হাদাইতানা, ওয়া হাব লানা মিল্লাদুনকা রাহমাহ, ইন্নাকা আনতাল ওয়াহহাব।’
অর্থ: হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি আমাদের হেদায়েত দেওয়ার পর আমাদের অন্তরকে বক্র করে দেবেন না। আপনার পক্ষ থেকে আমাদের রহমত দান করুন। নিশ্চয়ই আপনি মহাদাতা।
দোয়াটি পবিত্র কোরআনের সুরা আলে ইমরানের ৮ নম্বর আয়াতে রয়েছে। নিয়মিত এ দোয়া পাঠের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে হেদায়েতের ওপর অবিচল থাকার প্রার্থনা করা যায়।
দুই. দ্বীনের ওপর অবিচল থাকার দোয়া
‘ইয়া মুকাল্লিবাল কুলুব, সাব্বিত কালবি আলা দীনিক।’
অর্থ: হে অন্তরসমূহের পরিবর্তনকারী! আমার অন্তরকে আপনার দ্বীনের ওপর অবিচল রাখুন।
হজরত উম্মে সালামা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) প্রায়ই এই দোয়া পাঠ করতেন। (জামে তিরমিজি)
তিন. অন্তরকে আল্লাহর আনুগত্যে পরিচালিত করার দোয়া
‘আল্লাহুম্মা মুসাররিফাল কুলুব, সাররিফ কুলুবানা আলা তা-আতিক।’
অর্থ: হে আল্লাহ! অন্তরসমূহের পরিবর্তনকারী, আমাদের অন্তরগুলোকে আপনার আনুগত্যের দিকে পরিচালিত করুন।
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) এই দোয়া বেশি বেশি পাঠ করতেন। (সহিহ মুসলিম)
চার. হেদায়েত, তাকওয়া ও পবিত্রতা লাভের দোয়া
‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকাল হুদা, ওয়াত তুকা, ওয়াল আফাফা, ওয়াল গিনা।’
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে হেদায়েত, তাকওয়া, পবিত্রতা ও অভাবমুক্তি প্রার্থনা করছি।
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) এই দোয়া পাঠ করতেন। (সহিহ মুসলিম)
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে হেফাজত করুন, গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার তাওফিক দিন এবং তাঁর দ্বীনের ওপর অবিচল রাখুন। আমিন।