মক্কাসহ সৌদির বিভিন্ন অঞ্চলে উচ্চ সতর্কতা জারি

পবিত্র মক্কা নগরীসহ সৌদি আরবের বিভিন্ন এলাকায় সম্ভাব্য নিরাপত্তাঝুঁকি বিবেচনায় উচ্চ সতর্কতা জারি করেছে দেশটির সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার জাতীয় আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা ‘ন্যাশনাল আর্লি ওয়ার্নিং প্ল্যাটফর্ম’-এর মাধ্যমে এসব সতর্কবার্তা দেওয়া হয়।
সিভিল ডিফেন্সের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য বিপদের বিষয়ে সতর্ক করতে মক্কা নগরীতে জরুরি বার্তা পাঠানো হয়। একই সঙ্গে লোহিত সাগরের উপকূলবর্তী ইয়ানবু গভর্নরেট এবং তায়েফ, জেদ্দা ও তাবুক অঞ্চলেও সতর্কতা জারি করা হয়।
তবে সতর্কবার্তাগুলো জারির কয়েক মিনিটের মধ্যেই প্রত্যাহার করা হয়। সৌদি আরবের জাতীয় আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থায় সাধারণত ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলার মতো সম্ভাব্য হুমকি শনাক্ত হলে সতর্কসংকেত দেওয়া হয়।
সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহের মধ্যে এমন সতর্কতা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। গত সপ্তাহে সৌদি কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করেছিল, ২০১৭ সালের পর প্রথমবারের মতো মক্কা নগরী লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার চেষ্টা চালিয়েছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। সৌদি বাহিনী ড্রোনগুলো ভূপাতিত করার দাবি করলেও হুথিরা মক্কায় হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে এটিকে ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে।
এর কয়েক দিনের মধ্যে হুথিরা কয়েক বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো সৌদি রাজধানী রিয়াদে বড় ধরনের হামলা চালায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইয়েমেনের সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে।
২০১৫ সাল থেকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন দিয়ে হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়ে আসছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। সাম্প্রতিক সময়ে হুথিদের তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় ইয়েমেনের সংঘাত আঞ্চলিক উত্তেজনার সঙ্গেও আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি মাসের শুরুতে সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীকে হটিয়ে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেয় হুথিরা। এর ফলে সৌদির তেল রপ্তানির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মানদেব প্রণালির উপকূলীয় অঞ্চলেও তাদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এর আগে জুলাইয়ে ইয়েমেনের আকাশসীমায় সৌদি আরবের নিয়ন্ত্রণ থাকা সত্ত্বেও সানায় একটি ইরানি বিমান অবতরণের অনুমতি দেয় হুথিরা। এর পর ২০২২ সাল থেকে চলা ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে পড়ে এবং পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরবর্তীতে হুথিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক অবরোধের ঘোষণা দেয় এবং সৌদির তেলবাহী ট্যাঙ্কারসহ বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করে।
এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে সৌদি আরবসহ পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে তেল পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সূত্র: এএফপি