রিংয়ে মানুষের সঙ্গে রোবটের লড়াই, ভাইরাল ভিডিও ঘিরে কৌতূহল

মানুষের সঙ্গে হিউম্যানয়েড রোবটের লড়াই—বিষয়টি এখন আর কেবল কল্পবিজ্ঞানের গল্পে সীমাবদ্ধ নেই। যুক্তরাষ্ট্রের সানফ্রান্সিসকোতে আয়োজিত এক প্রদর্শনীতে রিংয়ের মধ্যে মানুষের প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখা গেছে হিউম্যানয়েড রোবটকে। সেই লড়াইয়ের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর প্রযুক্তিপ্রেমীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ।
প্রদর্শনীতে ইনফ্লুয়েন্সার ও কনটেন্ট নির্মাতা ফ্র্যাঙ্কি লাপেনা ‘রেকবট’ নামের একটি হিউম্যানয়েড রোবটের মুখোমুখি হন। মার্কিন রোবোটিকস প্রতিষ্ঠান আরইকে এই আয়োজনকে বিশ্বের প্রথম মানব বনাম হিউম্যানয়েড রোবট লড়াই হিসেবে উল্লেখ করেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রায় ৪৪ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, সুরক্ষা সরঞ্জাম পরা লাপেনা একটি লড়াইয়ের খাঁচায় রোবটটির সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। শুরুতেই তিনি কয়েকটি ঘুষি দিয়ে রোবটটিকে আঘাত করার চেষ্টা করেন। এরপর রোবটটি ঘুষি ও লাথি দিয়ে পাল্টা আক্রমণ করে। একপর্যায়ে রোবটের একটি শক্তিশালী লাথিতে লাপেনা মেঝেতে পড়ে যান। এরপরই ভিডিওটি শেষ হয়ে যায়।
পরে আরইকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ওই লড়াইয়ে রোবটটি লাপেনাকে পরাজিত করেছে। প্রতিষ্ঠানটি আরও ভিডিও প্রকাশের কথাও জানায়।
তবে পরবর্তী সময়ে প্রকাশিত আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, ওইদিন লাপেনা শুধু একটি রোবটের সঙ্গে লড়াই করেননি। তিনি মোট তিনটি হিউম্যানয়েড রোবটের মুখোমুখি হন। প্রথমে ছোট আকারের ‘ইউনিট্রি জি১’ মডেলের সঙ্গে লড়াই করেন তিনি। এরপর প্রায় ছয় ফুট উচ্চতার দুটি পরিবর্তিত ‘ইঞ্জিনএআই টি৮০০’ রোবটের সঙ্গে লড়াই হয়।
আরইকের প্রধান নির্বাহী সিক্স লিভের দাবি, বড় রোবটটির সঙ্গে লড়াইয়ের একপর্যায়ে লাপেনা পড়ে গেলেও পরে উঠে দাঁড়ান। এরপর তিনি রোবটটিকে ভারসাম্য হারাতে বাধ্য করেন এবং শেষ পর্যন্ত সেটির মাথা খুলে ফেলেন।
লড়াইয়ে ব্যবহৃত বড় রোবটগুলো ইঞ্জিনএআইয়ের টি৮০০ মডেলের পরিবর্তিত সংস্করণ। রোবটগুলোর মাথার নকশা পরিবর্তন করে ‘দ্য টার্মিনেটর’ চলচ্চিত্রের টি৮০০ চরিত্রের আদল দেওয়া হয়েছে। আরইকের দাবি, এসব রোবট সর্বোচ্চ প্রায় ৮৫০ পাউন্ড শক্তিতে লাথি দিতে পারে।
ভিডিওতে রোবটগুলোর রিংয়ে চলাফেরা, ভারসাম্য ধরে রাখা, ঘুষি ও লাথি দেওয়ার মতো বিভিন্ন শারীরিক সক্ষমতা দেখা গেছে। এসব দৃশ্য দেখে অনেকের মনে হয়েছে, রোবটগুলো হয়তো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে নিজেরাই সিদ্ধান্ত নিয়ে মানুষের সঙ্গে লড়াই করছে।
তবে বাস্তবতা কিছুটা ভিন্ন। আরইকের তৈরি ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (ভিআর) কমব্যাট গেমের অংশ হিসেবেই এই লড়াই আয়োজন করা হয়। রোবটগুলোকে দূর থেকে একজন মানুষ নিয়ন্ত্রণ করছিলেন। অর্থাৎ রোবটের নড়াচড়া, আক্রমণ ও প্রতিক্রিয়া স্বয়ংক্রিয়ভাবে নেওয়া সিদ্ধান্তের ফল ছিল না; এর পেছনে ছিল মানব নিয়ন্ত্রণ।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ এটিকে ভবিষ্যতের ক্রীড়া ও বিনোদনের সম্ভাব্য নতুন ধরন হিসেবে দেখছেন। আবার কেউ রোবটের শারীরিক সক্ষমতা ও এমন আয়োজনের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। অনেকে ভবিষ্যতে পেশাদার বক্সারের সঙ্গে হিউম্যানয়েড রোবটের লড়াই দেখার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। কেউ কেউ রোবটগুলোর চেহারা ও লড়াইয়ের দৃশ্যকে ‘টার্মিনেটর’ চলচ্চিত্রের সঙ্গে তুলনা করে রসিকতাও করেছেন।