মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • তরুণের চেয়ে প্রবীণ বেশি হবে বাংলাদেশে, সতর্ক করল বিশ্বব্যাংক তুরাগে সাবেক বিমান কর্মকর্তার লাশ উদ্ধার, দীপের রিমান্ড বাড়ল ৩ দিন আজারবাইজান থেকে ফিরেই পুরস্কার পেলেন কিশোর ফুটবলাররা ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ লাখ ছানি অপারেশন, বিতরণ করা হবে ১ কোটি চশমা যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট শুরু, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে লড়াই চার দিন গ্যাস বন্ধের খবর গুজব, সরবরাহ কমতে পারে: পেট্রোবাংলা মিরপুরে একা পেয়ে পুলিশ কনস্টেবলকে পিটিয়ে জখম, হাসপাতালে ভর্তি ২৪ ঘণ্টায় হামে ৬ মৃত্যু, সন্দেহজনক রোগী শনাক্ত ৫৪৬ জন ঢাকায় ৭ নভেম্বর ছয় ঘণ্টা টোল ছাড়াই চলা যাবে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাক্ষাৎ
  • চিন্তার গতিতে টাইপিং, মানুষের কথার গতিকেও ছাড়াতে চায় নিউরালিংক

    চিন্তার গতিতে টাইপিং, মানুষের কথার গতিকেও ছাড়াতে চায় নিউরালিংক
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    হাতের ব্যবহার ছাড়াই শুধু চিন্তার মাধ্যমে কম্পিউটার বা স্মার্টফোন নিয়ন্ত্রণের প্রযুক্তি তৈরি করছে ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান নিউরালিংক। তাদের তৈরি ‘টেলিপ্যাথি’ নামের ব্রেইন-কম্পিউটার ইন্টারফেস মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষ থেকে পাওয়া বৈদ্যুতিক সংকেত বিশ্লেষণ করে সেগুলোকে ডিজিটাল নির্দেশনায় রূপান্তর করে। প্রযুক্তিটির ভবিষ্যৎ সক্ষমতা নিয়ে নতুন পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন মাস্ক। তাঁর দাবি, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এ প্রযুক্তিতে তথ্য আদান-প্রদানের গতি মানুষের দ্রুততম কথা বলা বা টাইপ করার গতিকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে।

    নিউরালিংকের এই প্রযুক্তির মূল উপাদান হলো ‘এন১ ইমপ্লান্ট’ নামের একটি ছোট চিপ। এতে রয়েছে ১ হাজার ২৪টি ইলেকট্রোড, যা ৬৪টি নমনীয় ও সূক্ষ্ম সুতার মতো থ্রেডের সঙ্গে যুক্ত। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে এসব থ্রেড মস্তিষ্কের নড়াচড়া নিয়ন্ত্রণকারী অংশে স্থাপন করা হয়। এরপর স্নায়ুকোষের তৈরি বৈদ্যুতিক সংকেত শনাক্ত করে সেগুলোকে কম্পিউটারের নির্দেশনায় রূপান্তর করা হয়।

    মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট স্থানে থ্রেডগুলো নিখুঁতভাবে স্থাপনের জন্য নিউরালিংক তৈরি করেছে ‘আর১’ নামের একটি সার্জিক্যাল রোবট। এই রোবটের সহায়তায় অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ইমপ্লান্টটি স্থাপন করা হয়।

    প্রযুক্তিটির মূল লক্ষ্য পক্ষাঘাতগ্রস্ত ও গুরুতর শারীরিক প্রতিবন্ধকতায় ভোগা ব্যক্তিদের চিন্তার মাধ্যমে কম্পিউটার, স্মার্টফোনসহ বিভিন্ন ডিজিটাল যন্ত্র ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করা। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে প্রথমবারের মতো একজন মানুষের মস্তিষ্কে এন১ ইমপ্লান্ট স্থাপন করা হয়। এরপর পরীক্ষামূলক ব্যবহারে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা চিন্তার মাধ্যমে কম্পিউটারের কার্সর নিয়ন্ত্রণ, দাবা খেলা এবং নকশা তৈরির সফটওয়্যার ব্যবহারের সক্ষমতা দেখিয়েছেন।

    এ প্রযুক্তির মাধ্যমে ভার্চ্যুয়াল কিবোর্ডে লেখার গতিও বাড়ানোর চেষ্টা করছে নিউরালিংক। প্রতিষ্ঠানটির ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পরীক্ষায় অংশ নেওয়া কয়েকজন ব্যক্তি আঙুল নাড়ানোর কথা কল্পনা করে মিনিটে সর্বোচ্চ ৪০টি শব্দ টাইপ করতে পেরেছেন।

    ভবিষ্যতে এই গতি আরও বাড়িয়ে মানুষের স্বাভাবিক কথা বলার গতির কাছাকাছি নেওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এ ক্ষেত্রে তাদের লক্ষ্য মিনিটে প্রায় ১৪০ শব্দের সমপরিমাণ গতিতে যোগাযোগের সক্ষমতা তৈরি করা। গুরুতর বাক্‌প্রতিবন্ধকতায় ভোগা ব্যক্তিদের জন্য এ সুবিধা তৈরিতে ‘ভয়েস’ নামের একটি ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালও শুরু করেছে নিউরালিংক।

    তবে মিনিটে ১৪০ শব্দের সমপরিমাণ গতিতে যোগাযোগের বিষয়টি এখনো প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ। পরীক্ষায় এই সক্ষমতা অর্জনের প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। ‘টেলিপ্যাথি’ প্রযুক্তিও সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য বাজারে আসেনি; এটি এখনো ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের পর্যায়ে রয়েছে।

    বর্তমানে পক্ষাঘাতসহ গুরুতর শারীরিক প্রতিবন্ধকতায় ভোগা ব্যক্তিদের যোগাযোগের সুযোগ বাড়ানো এবং দৈনন্দিন কাজ সহজ করাই প্রযুক্তিটির প্রধান উদ্দেশ্য। ভবিষ্যতে এর সক্ষমতা কতটা বাড়ানো সম্ভব হবে, তা নির্ভর করছে চলমান পরীক্ষা ও গবেষণার ফলাফলের ওপর।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন