হিট স্ট্রোক নাকি হার্ট অ্যাটাক? লক্ষণ ও পার্থক্য জেনে রাখুন

তীব্র গরম ও তাপপ্রবাহের সময় হিট স্ট্রোকের ঘটনা বাড়ে। তবে অনেক ক্ষেত্রে হিট স্ট্রোকের কিছু লক্ষণ হার্ট অ্যাটাকের সঙ্গে মিল থাকায় সাধারণ মানুষ বিভ্রান্তিতে পড়েন। অথচ দুটি স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ, লক্ষণ এবং চিকিৎসা সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাই জরুরি পরিস্থিতিতে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পার্থক্যগুলো জানা গুরুত্বপূর্ণ।
হিট স্ট্রোক কী?
শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ব্যর্থ হয়ে গেলে এবং অতিরিক্ত তাপ বের করতে না পারলে হিট স্ট্রোক হতে পারে। দীর্ঘ সময় রোদে থাকা, অতিরিক্ত গরম পরিবেশে কাজ করা বা পানিশূন্যতা এর প্রধান কারণ।
হার্ট অ্যাটাক কী?
হৃৎপিণ্ডে রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে হার্ট অ্যাটাক হয়। এতে হৃদপেশিতে পর্যাপ্ত অক্সিজেন পৌঁছায় না, যা দ্রুত চিকিৎসা না পেলে প্রাণঘাতী হতে পারে।
হিট স্ট্রোকের সাধারণ লক্ষণ
- শরীরের তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি হওয়া
- গরম ও শুষ্ক ত্বক অথবা অতিরিক্ত ঘাম
- মাথা ঘোরা ও মাথাব্যথা
- বিভ্রান্তি বা অসংলগ্ন আচরণ
- বমি বমি ভাব
- দুর্বলতা
- দ্রুত হৃদস্পন্দন
- গুরুতর ক্ষেত্রে খিঁচুনি বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়া
- হার্ট অ্যাটাকের সাধারণ লক্ষণ
- বুকে তীব্র ব্যথা, চাপ বা অস্বস্তি
বুকে আঁটসাঁট অনুভূতি
- ব্যথা হাত, কাঁধ, ঘাড়, চোয়াল বা পিঠে ছড়িয়ে পড়া
- শ্বাসকষ্ট
- অতিরিক্ত ঘাম
- বমি বমি ভাব
- হঠাৎ দুর্বলতা বা ক্লান্তি
বিশেষ করে নারী, বয়স্ক ব্যক্তি ও ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ অনেক সময় ভিন্ন হতে পারে। তাদের মধ্যে তীব্র বুকব্যথার পরিবর্তে অস্বাভাবিক ক্লান্তি, বদহজম বা হালকা অস্বস্তি দেখা দিতে পারে।
কখন জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন?
কাউকে হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত মনে হলে দ্রুত তাকে ঠান্ডা স্থানে নিয়ে যেতে হবে, শরীর ঠান্ডা করার ব্যবস্থা করতে হবে এবং চিকিৎসা সহায়তা নিতে হবে।
অন্যদিকে হার্ট অ্যাটাকের সন্দেহ হলে সময় নষ্ট না করে জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে। দ্রুত চিকিৎসা হৃদপেশির ক্ষতি কমাতে এবং জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হিট স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাক—উভয়ই জরুরি স্বাস্থ্যঝুঁকি। তাই লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পদক্ষেপ।