কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন স্থাপনা লক্ষ্য করে ইরানের হামলার দাবি

পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছে ইরান। তবে হামলার প্রভাব ও ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে ভিন্ন তথ্য দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো।
বুধবার ভোরে কুয়েতের প্রতিরক্ষা বাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, দেশটির আকাশসীমায় শত্রুতাপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন শনাক্ত করা হয়েছিল। তবে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেগুলোকে লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর আগেই ভূপাতিত করেছে। কুয়েতের দাবি, দেশের কোনো সামরিক বা বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।
প্রতিরক্ষা বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, রাতে যে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে, তা মূলত আকাশে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ধ্বংস করার সময় সৃষ্টি হয়েছে।
অন্যদিকে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) কুয়েতের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছে। টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় তারা দাবি করেছে, কুয়েতে অবস্থিত একটি মার্কিন ঘাঁটিতে অন্তত তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে আঘাত হেনেছে।
এর আগে চলতি সপ্তাহের শুরুতেও কুয়েতে মার্কিন স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকোম) জানিয়েছিল, নিক্ষিপ্ত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রতিহত করা হয়েছে।
একই সময়ে বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর স্থাপনাকে লক্ষ্য করেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। তবে বাহরাইনের কর্তৃপক্ষ এখনো এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি।
ইরানের সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, হামলার আগে কেশম দ্বীপের আশপাশে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এরপরই কুয়েত ও বাহরাইনের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে বলে দাবি করা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই ঘটনাগুলো মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেতে পারে।
সূত্র : সিএনএন