জুলাই মামলার বিচার দ্রুত শেষের লক্ষ্য, গুম-ক্রসফায়ারেও নজর ট্রাইব্যুনালের

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাগুলোর বিচার অগ্রাধিকার দিয়ে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত গুম ও ক্রসফায়ারের ঘটনাগুলোর তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়াও গুরুত্বের সঙ্গে চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন চিফ প্রসিকিউটর।
মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংক্রান্ত মামলাগুলোর তদন্ত দ্রুত শেষ করে আগামী এক বছরের মধ্যে বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে। পাশাপাশি গুম ও ক্রসফায়ারের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলাগুলোর তদন্তও চলমান রয়েছে।
তিনি জানান, ইতোমধ্যে কয়েকটি মামলার তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। কক্সবাজারের টেকনাফের কাউন্সিলর একরাম হত্যা এবং শাপলা চত্বরের ঘটনায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। এছাড়া আরও ১২টি মামলার প্রতিবেদন পর্যালোচনা শেষে পর্যায়ক্রমে ফরমাল চার্জ দাখিলের প্রক্রিয়া চলছে।
বিচারের অগ্রগতি তুলে ধরে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এখন পর্যন্ত ছয়টি মামলার বিচার নিষ্পত্তি হয়েছে। মাহবুবউল আলম হানিফসহ আরও কয়েকটি মামলার রায় চলতি মাসে হতে পারে।
তিনি বলেন, দ্রুত বিচার করতে গিয়ে যেন স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারের প্রশ্ন না ওঠে, সে বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। তাই আইন অনুযায়ী স্বাভাবিক গতিতেই বিচারপ্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
জিয়াউল আহসানের মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। খুব বেশি সময়ের মধ্যে এর পরবর্তী কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।
চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আওতাভুক্ত মামলাগুলো এখানেই বিচার হওয়া উচিত। তবে যেসব ঘটনা অন্য আদালত বা তদন্ত সংস্থার আওতাভুক্ত, সেগুলো ট্রাইব্যুনালে আনার বিষয়ে সতর্কতার সঙ্গে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, কোন মামলা ট্রাইব্যুনালের বিচারযোগ্য আর কোনটি নয়, তা নির্ধারণ একটি গুরুত্বপূর্ণ ও জটিল বিষয়। এ ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।