লাইফলাইন বিদ্যুতের মূল্যহারে সংশোধন; জনস্বার্থের প্রতি ইতিবাচক বার্তা

বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি সব সময়ই সাধারণ মানুষের জন্য একটি সংবেদনশীল বিষয়। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যআয়ের পরিবারগুলোর জন্য বিদ্যুৎ শুধু একটি সেবা নয়, বরং দৈনন্দিন জীবনযাত্রার অপরিহার্য অংশ। এমন বাস্তবতায় বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) লাইফলাইন ও প্রথম ধাপের আবাসিক গ্রাহকদের জন্য বর্ধিত বিদ্যুতের দাম প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত স্বস্তির খবর হিসেবে এসেছে।
মাত্র একদিন আগে বিদ্যুতের নতুন মূল্যহার ঘোষণার পর ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। কারণ, ০-৫০ ইউনিট এবং ০-৭৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী গ্রাহকদের বড় অংশই নিম্নআয়ের পরিবার। তাদের ওপর অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ সৃষ্টি হলে জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়ে যেত। সেই প্রেক্ষাপটে বিইআরসির সিদ্ধান্ত বাস্তবতা বিবেচনার একটি ইতিবাচক উদাহরণ।
লাইফলাইন ট্যারিফের মূল উদ্দেশ্য হলো সীমিত বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দেওয়া। এই শ্রেণির গ্রাহকদের জন্য ভর্তুকিমূলক বা তুলনামূলক কম মূল্য বজায় রাখা সামাজিক ন্যায়বিচারেরও একটি অংশ। তাই তাদের জন্য আগের মূল্যহার বহাল রাখা শুধু অর্থনৈতিক নয়, সামাজিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ।
তবে এই ঘটনাটি আরেকটি প্রশ্নও সামনে নিয়ে আসে—মূল্য নির্ধারণের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে কি পর্যাপ্ত জনমত, প্রভাব বিশ্লেষণ এবং অংশীজনদের মতামত বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল? যদি হয়ে থাকে, তাহলে মাত্র একদিনের মধ্যে সংশোধনের প্রয়োজন কেন দেখা দিল? আর যদি না হয়ে থাকে, তবে ভবিষ্যতে এ ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও তথ্যভিত্তিক করা জরুরি।
বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, উৎপাদন ব্যয় এবং আর্থিক চাপের কারণে বিদ্যুৎ খাতে মূল্য সমন্বয় অনেক সময় প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু সেই সমন্বয়ের ভার যেন সমাজের সবচেয়ে দুর্বল জনগোষ্ঠীর ওপর না পড়ে, তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার দায়িত্ব।
সামগ্রিকভাবে, লাইফলাইন গ্রাহকদের জন্য আগের মূল্যহার বহাল রাখার সিদ্ধান্ত জনবান্ধব ও সময়োপযোগী। তবে দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুৎ খাতকে টেকসই করতে উৎপাদন দক্ষতা বৃদ্ধি, সিস্টেম লস কমানো, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ এবং সুশাসন নিশ্চিত করাই হবে সবচেয়ে কার্যকর পথ।
জনস্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি খাতটির আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হলে নীতিনির্ধারকদের ভারসাম্যপূর্ণ ও দূরদর্শী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।