বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
Natun Kagoj

গাইবান্ধায় কুকুরের কামড়ে প্রাণহানি: জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির অশনিসংকেত

গাইবান্ধায় কুকুরের কামড়ে প্রাণহানি: জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির অশনিসংকেত
ছবি: সংগৃহীত
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে একটি কুকুরের কামড়ে এক সপ্তাহের ব্যবধানে নারীসহ চারজনের মৃত্যু এবং আরও অন্তত নয়জনের আহত হওয়ার ঘটনা নিছক একটি বিচ্ছিন্ন দুর্ঘটনা নয়—এটি একটি গুরুতর জনস্বাস্থ্য সংকেত। একই এলাকায় একের পর এক মৃত্যুর ঘটনা যেমন উদ্বেগজনক, তেমনি স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রস্তুতি নিয়েও প্রশ্ন তুলছে।

প্রাণঘাতী এই ঘটনাগুলোতে সবচেয়ে বড় আশঙ্কা হলো জলাতঙ্ক বা র‌্যাবিস সংক্রমণের সম্ভাবনা। এই রোগ প্রতিরোধযোগ্য হলেও সময়মতো ভ্যাকসিন ও চিকিৎসা না পেলে প্রায় শতভাগ ক্ষেত্রে মৃত্যু অনিবার্য। তাই কুকুরের কামড়ের পরপরই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পাওয়ার বিষয়টি যদি এখানে থেকে থাকে, তবে তা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অগ্রহণযোগ্য।

গ্রামাঞ্চলে এখনো অনেক মানুষ কুকুরের কামড়কে হালকাভাবে নেন বা প্রাথমিক চিকিৎসার পরিবর্তে ঝাড়ফুঁক বা অবহেলার পথে যান। এই মানসিকতা বদলানো জরুরি। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে র‌্যাবিস ভ্যাকসিনের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কুকুর নিয়ন্ত্রণ ও টিকাদান কর্মসূচি। কেবল প্রতিক্রিয়ামূলক ব্যবস্থা নয়, বরং আগাম প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ না নিলে এমন ঘটনা আরও বাড়বে। স্থানীয় সরকার, স্বাস্থ্য বিভাগ এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এই সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়।

এ ঘটনায় পুরো এলাকা আতঙ্কে রয়েছে—এটি স্বাভাবিক। কিন্তু আতঙ্কের পাশাপাশি প্রয়োজন দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ। প্রতিটি আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিত করা, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বিশেষ মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন এবং কুকুরের টিকাদান ও নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।

মানবজীবনের নিরাপত্তা কোনোভাবেই অবহেলার বিষয় হতে পারে না। গাইবান্ধার এই ট্র্যাজেডি যেন আর কোনো অঞ্চলে না ঘটে, সেই শিক্ষা নিতে না পারলে দায় রাষ্ট্রকেই বহন করতে হবে।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

সর্বশেষ