হাম পরিস্থিতি—সতর্কবার্তা নাকি ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি?

দেশজুড়ে হাম ও হামের উপসর্গে শিশু মৃত্যুর সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান গভীর উদ্বেগের জন্ম দিচ্ছে। মাত্র ২৪ ঘণ্টায় আরও ১০ শিশুর মৃত্যু এবং একই সময়ে ১,২৬১ শিশুর আক্রান্ত হওয়ার খবর কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়—এটি একটি বিস্তৃত জনস্বাস্থ্য সংকটের ইঙ্গিত। গত দেড় মাসে মোট ২৯৪ শিশুর মৃত্যু এবং হাজার হাজার শিশুর আক্রান্ত হওয়া আমাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থার সক্ষমতা ও প্রস্তুতি নিয়ে কঠিন প্রশ্ন তুলে দেয়।
হাম একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ। কার্যকর টিকাদান কর্মসূচি থাকলে এই রোগে মৃত্যু প্রায় শূন্যে নামিয়ে আনা সম্ভব। অথচ বাস্তবতা বলছে, এখনও বিপুল সংখ্যক শিশু টিকার আওতার বাইরে রয়ে যাচ্ছে বা সময়মতো টিকা পাচ্ছে না। এর পেছনে রয়েছে সচেতনতার অভাব, কিছু ক্ষেত্রে ভ্রান্ত ধারণা, আবার কোথাও কোথাও টিকাদান ব্যবস্থার ঘাটতি।
ঢাকা বিভাগে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা সর্বাধিক হওয়া বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। এটি প্রমাণ করে যে শুধু প্রত্যন্ত অঞ্চল নয়, জনবহুল শহরাঞ্চলেও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে ঘাটতি রয়েছে। জনসংখ্যার ঘনত্ব, অস্বাস্থ্যকর বসবাসের পরিবেশ এবং দ্রুত সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।
এ অবস্থায় প্রয়োজন তাৎক্ষণিক ও সমন্বিত পদক্ষেপ।
প্রথমত, জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিকে আরও জোরদার করতে হবে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বিশেষ ক্যাম্পেইন চালাতে হবে।
দ্বিতীয়ত, অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে—হাম কোনো সাধারণ জ্বর নয়, এটি প্রাণঘাতী হতে পারে।
তৃতীয়ত, স্বাস্থ্যসেবার অবকাঠামো শক্তিশালী করে দ্রুত শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।
সবচেয়ে বড় কথা, প্রতিটি শিশুর জীবন সমান মূল্যবান। এই মৃত্যুগুলো কেবল সংখ্যা নয়—প্রতিটি একটি পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতি। তাই এখনই সময় দায়িত্বশীল পদক্ষেপ নেওয়ার, নইলে এই সংকট আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।