হজযাত্রীদের জন্য স্বাস্থ্যবিধিতে নতুন নির্দেশনা সৌদি আরবের

পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরুর আগে হজযাত্রীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে সৌদি আরব। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গুরুতর শারীরিক ও মানসিক রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা এ বছর হজের অনুমতি বা পারমিট পাবেন না। পাশাপাশি হজযাত্রীদের জন্য একাধিক টিকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
সৌদি আরবের জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে গালফ নিউজ জানিয়েছে, হজের কঠিন আনুষ্ঠানিকতা পালন করতে গিয়ে যাতে কোনো হজযাত্রী গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকিতে না পড়েন, সে বিষয়টি মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যেসব শারীরিক অবস্থাকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে তার মধ্যে রয়েছে—কিডনির জটিলতা বা ডায়ালাইসিস প্রয়োজন এমন রোগ, হার্ট ফেইলিউর, গুরুতর লিভার সিরোসিস, জটিল মানসিক রোগ, স্মৃতিভ্রংশ (ডিমেনশিয়া), চরম বার্ধক্যজনিত দুর্বলতা এবং অন্তঃসত্ত্বা নারীদের শেষ তিন মাসের গর্ভাবস্থা।
সৌদি কর্তৃপক্ষ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, হজযাত্রীদের অবশ্যই এমন শারীরিক অবস্থায় থাকতে হবে যাতে তারা হজের সব রোকন বা আনুষ্ঠানিকতা কোনো বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি ছাড়াই সম্পন্ন করতে পারেন।
স্বাস্থ্য নির্দেশনা অনুযায়ী, সব হজযাত্রীকে হজের অন্তত ১০ দিন আগে মেনিনজাইটিস টিকা নিতে হবে। এছাড়া বয়স্ক, দীর্ঘমেয়াদী রোগে আক্রান্ত এবং অন্তঃসত্ত্বা নারীদের জন্য করোনা ও মৌসুমি ইনফ্লুয়েঞ্জার টিকা নেওয়ার বিশেষ পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, পূর্বে নেওয়া টিকার মেয়াদ শেষ হলে হজযাত্রীদের অবশ্যই নতুন করে ডোজ গ্রহণ করতে হবে।
সৌদি সরকার মূলত বৈশ্বিক স্বাস্থ্য ঝুঁকি কমানো এবং মক্কায় সমবেত লাখো হজযাত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই প্রতিবছর এ ধরনের কঠোর স্বাস্থ্যবিধি বাস্তবায়ন করে থাকে।