সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • মরিনহোর রেফারিং অভিযোগ, সিমিওনের বার্তা :‘সম্মানের সীমা অতিক্রম করা ঠিক নয়’ ফ্যাসিস্টআমলে সরকারপ্রধানের বিদেশ সফরে কোটি কোটি টাকা অপচয় হতো: রিজভী জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর সফর, বিশ্বমঞ্চে নতুন ইতিহাসের সূচনা : মাহদী আমিন চট্টগ্রাম বিভাগের ১২ কারাগারে ধারণক্ষমতার আড়াই গুণ বন্দি ফেসবুক-ইনস্টাগ্রামে হঠাৎ বিভ্রাট, কয়েক হাজার ব্যবহারকারীর ভোগান্তি নিখোঁজের পর মিলছে শিশুদের মরদেহ, আট মাসে নিহত ১৫৫ এনসিপি নেত্রী মনিরা শারমিনের বাবার মৃত্যু চন্দ্রমুখী চরিত্রে এবার কৌশানি মুখার্জি এমপি গাজী নজরুল ও প্রথম স্ত্রীকে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন বাংলাদেশের দুর্গম চরাঞ্চলে ৮ লাখের বেশি রোগীকে স্বাস্থ্যসেবা দিয়েছে লাইফবয় ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল
  • কুরআনে নারীর মানসিক শক্তি ও অভয়বাণীর তাৎপর্য

    কুরআনে নারীর মানসিক শক্তি ও অভয়বাণীর তাৎপর্য
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    পবিত্র কুরআন কেবল একটি ঐশী গ্রন্থই নয়, বরং এটি মানব হৃদয়ের গভীরতম ক্ষতগুলোর জন্য এক মহৌষধ। বিশেষ করে নারীর কোমল হৃদয়, আবেগ এবং তাঁদের মানসিক অবস্থার প্রতি মহান আল্লাহর যে বিশেষ লক্ষ্য রয়েছে, তার প্রমাণ মেলে কুরআনের বিভিন্ন আয়াতে। যেখানে বারবার উচ্চারিত হয়েছে—"দুঃখ করো না" এবং "ভয় পেয়ো না"। ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, এই আয়াতগুলো কেবল শব্দ নয়, বরং এগুলো শব্দে মোড়ানো একেকটি ‘সান্ত্বনার আলিঙ্গন’।

    কেন এই সান্ত্বনার পুনরাবৃত্তি?

    কুরআন বিশ্লেষকদের মতে, একজন নারীর দুঃখ কেবল একটি সাময়িক অনুভূতি নয়; এটি তাঁর শরীর ও মনের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। নারীর দুঃখ তাঁর ভেতরের আলো নিভিয়ে দিতে পারে, কেড়ে নিতে পারে রাতের ঘুম। মহান আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির এই সংবেদনশীলতা সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞাত। তাই তো কুরআনের ভাষায় ফুটে উঠেছে এক অনন্য কোমলতা।

    • সূরা আল-কাসাস (২৮:১৩): এখানে বলা হয়েছে, "যাতে তার চোখ শীতল হয় এবং সে দুঃখ না করে।" * সূরা আল-আহযাব (৩৩:৫১): আয়াতে এসেছে, "যাতে তাদের চোখ প্রশান্ত হয় এবং তারা দুঃখ না করে।"

    • সূরা মারইয়াম (১৯:২৪): যেখানে সরাসরি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, "তুমি দুঃখ করো না।"

    এই বারবার ফিরে আসা বাক্যগুলো প্রমাণ করে যে, একজন নারীর দীর্ঘশ্বাস বা চোখের পানি তাঁর রবের কাছে মোটেও তুচ্ছ নয়।

    নারীর অনুভূতি ও মর্যাদার সুরক্ষা

    ইসলাম কেবল নারীর দেহ বা পর্দা নয়, বরং তাঁর অনুভূতি ও আত্মমর্যাদাকেও পরম মমতায় হেফাজত করেছে। বাবা-মায়ের প্রতি আচরণের ক্ষেত্রে মহান আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন, "তাদেরকে 'উফ' পর্যন্ত বলো না" (সূরা বনী ইসরাঈল, ১৭:২৩)। সামান্য একটি শব্দও যেন তাঁদের মনে আঘাত করতে না পারে, সেই সূক্ষ্ম বিচার ইসলামে করা হয়েছে।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নারীর হৃদয় কোমল হলেও তাঁর মর্যাদা অমূল্য। যখন কোনো নারী নীরবে চোখের পানি ফেলেন বা হাসির আড়ালে ভাঙা মন লুকিয়ে রাখেন, আল্লাহ তাআলা সেই নীরবতাকেও শোনেন। কুরআনের ভাষায়—"আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি অত্যন্ত কোমল" (সূরা আশ-শূরা, ৪২:১৯)।

    ভাঙা হৃদয়ের আরোগ্য

    বর্তমানে অনেক নারী পারিবারিক বা সামাজিক কারণে অদৃশ্য মানসিক কষ্ট বয়ে বেড়ান। তাঁদের উদ্দেশ্যে এই প্রতিবেদনটি একটি বিশেষ বার্তা বহন করে—আপনার গল্প এখানেই শেষ নয়। ইসলামের দৃষ্টিতে আপনার ধৈর্যকে সর্বোচ্চ মূল্য দেওয়া হয়েছে। যে কষ্ট আপনি ভেবেছিলেন কেউ জানে না, তা আল্লাহর কাছে পরম যত্নসহকারে লিপিবদ্ধ আছে।

    প্রতিটি আয়াতে ‘দুঃখ করো না’ বলার মাধ্যমে আল্লাহ মূলত মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে, কোনো নারীই তাঁর একাকীত্বে একা নন। পরম দয়ালু ও বিচারক আল্লাহ প্রতিটি ভাঙা হৃদয়ের জন্য আরোগ্য নির্ধারণ করে রেখেছেন।


    দৈএনকে/জে, আ
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ