শ্রমিক থেকে রূপালি জগতের ত্রাস: কে এই অভিনেতা জাম্বু?

দশাসই শরীর, কৃষ্ণবর্ণ চেহারা আর মাথায় চুলহীন এক অবয়ব—ঢাকাই সিনেমার পর্দায় এই দৃশ্যটি ভেসে উঠলেই দর্শক বুঝে নিতেন বড় কোনো বিপদ আসছে। তিনি সুখলাল বাবু, যাঁকে চলচ্চিত্র জগত ও দর্শক একনামে ‘জাম্বু’ হিসেবেই চেনেন। নব্বইয়ের দশকে তাঁর জনপ্রিয়তা এতটাই ছিল যে, স্থূলকায় যে কাউকে ‘জাম্বু’ নামে ডাকার একটি রেওয়াজই তৈরি হয়ে গিয়েছিল।
শ্রমিক থেকে সিনেমার রূপালি জগত
১৯৪৪ সালে মানিকগঞ্জে জন্ম নেওয়া সুখলাল বাবু বড় হয়েছেন দিনাজপুরের পার্বতীপুরের মেথরপট্টিতে। এক সময় শ্রমিকের কাজ করা এই মানুষটি কাজের সন্ধানেই ঢাকায় এসেছিলেন। কিন্তু ভাগ্য তাঁকে নিয়ে যায় চলচ্চিত্রের রূপালি জগতে, যেখানে তিনি হয়ে ওঠেন খল-চরিত্রের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।
পর্দার ‘এক্স-ফ্যাক্টর’ ও অবধারিত মৃত্যু
জাম্বু মূলত মূল ভিলেনের ‘ডান হাত’ হিসেবে বেশি পরিচিত ছিলেন। নায়িকাকে অপহরণ বা বস্তি উচ্ছেদের মতো ভীতিকর কাজগুলোতে তাঁর কণ্ঠস্বর ও দৃষ্টি ছিল অপ্রতিদ্বন্দ্বী। সিনেমার চিত্রনাট্যে তাঁর মৃত্যু ছিল অবধারিত; হয় তিনি নায়কের হাতে মার খেয়ে মারা যেতেন, না হয় ব্যর্থতার দায়ে মূল ভিলেনই তাঁকে শেষ করে দিত। বিশেষ করে চিত্রনায়ক জসিমের হাতে তাঁর মার খাওয়ার দৃশ্যগুলো প্রেক্ষাগৃহে দর্শকদের শিষ আর করতালিতে মুখর করে তুলত।
উল্লেখযোগ্য কাজ ও বৈচিত্র্য
সাদাকালো থেকে রঙিন যুগ পর্যন্ত জাম্বু ‘ঘাতক’, ‘কালিয়া’, ‘দোস্ত দুশমন’, ‘চাকর’, ও ‘দেন মোহর’-এর মতো অসংখ্য ব্যবসা সফল ছবিতে অভিনয় করেছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে:
-
মোহাম্মদী বেগ: ‘রঙিন নবাব সিরাজউদ্দৌলা’ ছবিতে এই চরিত্রে অভিনয় করে তিনি ব্যাপক আলোচিত হন।
-
অর্জুন সিং: ‘রাজলক্ষ্মী শ্রীকান্ত’ (১৯৮৭) ছবিতে তিনি এই চরিত্রে কাজ করেন।
-
ইতিবাচক চরিত্র: খল-নায়কের খোলস ভেঙে তিনি কেবল ‘আত্মরক্ষা’ নামক একটি ছবিতেই ইতিবাচক চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন।
শেষ বিদায় ও নীরবতা
কিংবদন্তিদের তালিকায় হয়তো তাঁর নাম প্রথম সারিতে আসবে না, তবে পর্দায় স্বল্প সময়ের উপস্থিতিতেও নিজের ছাপ রেখে যাওয়ার এক অসামান্য ক্ষমতা ছিল তাঁর। ২০০৪ সালের ৩ মে এই শক্তিশালী অভিনেতা মৃত্যুবরণ করেন। ঢাকাই সিনেমার অনেক তারকাকে নিয়ে আলোচনা হলেও, জাম্বুর মতো দক্ষ অভিনেতাকে নিয়ে বর্তমান সময়ে আক্ষেপ বা স্মৃতিচারণ খুব একটা শোনা যায় না।