ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ব্লেড দিয়ে গলাকেটে যুবকের আত্মহত্যা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় বৃদ্ধ মা-বাবার সামনেই ব্লেড দিয়ে নিজের গলা কেটে এমারুল (২৫) নামের এক যুবক আত্মহত্যা করেছেন।
শনিবার (২ মে) দুপুরে উপজেলার ভুরভুরিয়া গ্রামের চর এলাকার এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
বাঞ্ছারামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইয়াসিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
এমারুল উপজেলার ভুরভুরিয়া গ্রামের চর এলাকার আরফাত মিয়ার ছেলে। অত্যন্ত দরিদ্র এ পরিবারের তিন বোনের একমাত্র ভাই ছিলেন তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুর ২টার দিকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় এমারুল নিজ মা-বাবার সামনেই ব্লেড দিয়ে নিজের গলা কেটে ফেলে। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই তার মৃত্যু হয়। বৃদ্ধ মা-বাবা তাকে রক্ষা করার চেষ্টা করলেও শারীরিক অসামর্থ্যের কারণে ব্যর্থ হন। পরে স্থানীয়রা খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে। রাত ১১টার দিকে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
নিহতের বোন বকুল জানান, এমারুল তাদের একমাত্র ভাই ছিলেন এবং বাবার সঙ্গে কৃষিকাজ করতেন। কয়েকদিন আগে তিনি একটি রিহ্যাব সেন্টার থেকে চিকিৎসা শেষে বাড়িতে ফেরেন। এরপর থেকেই তিনি মানসিকভাবে অস্থির ছিলেন।
তিনি আরও জানান, এমারুল মাদকাসক্ত ছিলেন এবং মানসিক সমস্যাতেও ভুগছিলেন। কী কারণে তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা পরিবার কেউ নিশ্চিতভাবে বলতে পারছে না।
বাঞ্ছারামপুর থানার ওসি মোহাম্মদ ইয়াসিন জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ব্লেড দিয়ে গলা কাটায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে। নিহত যুবক মাদকাসক্ত ছিলেন এবং মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন বলে পরিবার জানিয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।