বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাবে না মালয়েশিয়া ১৬ বছরে সাড়ে ৪ হাজারের বেশি মানুষ ক্রসফায়ারে নিহত দাবি আইনমন্ত্রীর খুলনার ক্রিকেটার এখন মালয়েশিয়ার ভরসা, জানালেন সংগ্রামের কাহিনি হামের উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু বাংলাদেশ আর কখনো নতজানু রাষ্ট্র হবে না: পররাষ্ট্রমন্ত্রী জুলাইয়ে শেয়ারবাজার ছাড়লেন প্রায় ২৩ হাজার বিনিয়োগকারী ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে: প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ আদালত নির্ধারণ করবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জাপানের সামরিক শক্তি বৃদ্ধিতে ক্ষুব্ধ উত্তর কোরিয়া ডিএমপির অভিযানে ঢাকাজুড়ে ৪১৮ জন গ্রেফতার
  • ব্রাহ্মণবাড়িয়া হত্যা মামলা: ২০ মাসেও চার্জশিট নেই, রহস্যে পোস্টমর্টেম প্রতিবেদন

    ব্রাহ্মণবাড়িয়া হত্যা মামলা: ২০ মাসেও চার্জশিট নেই, রহস্যে পোস্টমর্টেম প্রতিবেদন
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের বহুল আলোচিত একটি হত্যা মামলার প্রায় ২০ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করতে পারেনি পুলিশ। তদন্তের এই দীর্ঘসূত্রতা নিহতের পরিবারসহ বিচারপ্রত্যাশীদের মধ্যে চরম হতাশা ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। এরই মধ্যে মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ নথি ময়নাতদন্ত (পোস্টমর্টেম) প্রতিবেদন নিয়েও দেখা দিয়েছে রহস্য।

    সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রায় আট মাস আগে পোস্টমর্টেম প্রতিবেদন পুলিশ বিভাগের কাছে পাঠানো হলেও সেটি এখনো আশুগঞ্জ থানার তদন্ত কর্মকর্তার হাতে পৌঁছেনি। ফলে মামলার তদন্ত কার্যক্রম চূড়ান্ত করতে বিলম্ব হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে, একটি হত্যা মামলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নথিগুলোর একটি কীভাবে তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে পৌঁছাল না, আর এই প্রশাসনিক জটিলতার দায় নেবে কে?

    মামলার নথি অনুযায়ী, এ ঘটনায় মাত্র দুইজন এজাহারভুক্ত আসামি রয়েছেন। তারা হলেন পার্শ্ববর্তী লালপুর ইউনিয়নের হোসেনপুর গ্রামের টানপাড়া এলাকার শান্তা বেগম (৩২) এবং তার স্বামী সুমন (৩৭), যিনি ওই গ্রামের মন মিয়ার ছেলে। মামলার এজাহার, তদন্ত-সংশ্লিষ্ট নথি এবং আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দির তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন বলে উল্লেখ রয়েছে। তবে তদন্ত এখনো শেষ না হওয়ায় মামলাটি বিচারিক প্রক্রিয়ায় অগ্রসর হতে পারেনি।

    ২০২৫ সালের ২৩ জানুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের লামা শরীফপুর গ্রামে সংঘটিত হয় চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ড। ঘটনার দুই দিন পর, ২৫ জানুয়ারি, নিহতের ছেলে সাদ্দাম আশুগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি থানার ৩০ নম্বর মামলা হিসেবে রেকর্ডভুক্ত হয়।

    হত্যার শিকার হওয়া ব্যক্তি ইসমাইল মিয়া (৬২) লামা শরীফপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং মৃত উজির আলীর ছেলে। হত্যাকাণ্ডের পর পরিবারের পক্ষ থেকে দায়ের করা মামলাটির তদন্ত শুরু হলেও প্রায় ২০ মাস পার হয়ে গেলেও সেটি এখনো অভিযোগপত্র দাখিলের পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি, যা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিহতের স্বজনরা।

    মামলার এজাহার এবং পুলিশের রিমান্ড আবেদনপত্র থেকে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৩ জানুয়ারি সন্ধ্যার পর ইসমাইল মিয়া বাড়িতে আর ফিরে যায়নি। পরিবারের সদস্যরা রাতভর সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর কোনো সন্ধান পাননি। পরদিন, ২৪ জানুয়ারি, ছেলে সাদ্দাম আশুগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

    তদন্তের একপর্যায়ে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ জানতে পারে, নিখোঁজ হওয়ার আগে রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টায় ইসমাইল মিয়ার সর্বশেষ মোবাইল ফোনে কথা হয়েছিল পাশের হোসেনপুর গ্রামের বাসিন্দা সুমনের সঙ্গে। এই তথ্যের ভিত্তিতে সুমনকে সাদ্দাম জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি প্রথমে অসংলগ্ন ও এড়ানো ধরনের বক্তব্য দেন। একপর্যায়ে তিনি জানান, তার মোবাইল দিয়ে তাঁর স্ত্রী শান্তা বেগমের সঙ্গে ইসমাইল মিয়ার ফোনে কথা হয়েছিল।

    এরপর শান্তা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি শুরুতে বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দিয়ে ঘটনাটি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে। তবে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে, মামলার এজাহার অনুযায়ী, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে স্বামী-স্ত্রী মিলে ইসমাইল মিয়াকে হত্যার বিষয়ে তিনি সাদ্দামের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্য দেন।

    মামলার নথি অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে শান্তা বেগম ঘটনাটির বিস্তারিত বর্ণনা দেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, বসতঘর নির্মাণের জন্য জমি কেনার উদ্দেশ্যে তিনি ও তাঁর স্বামী ইসমাইল মিয়ার কাছে ৫০ হাজার টাকা ধার চেয়েছিলেন। কিন্তু ইসমাইল মিয়া টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে উভয় পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্কের সৃষ্টি হয়।

    মামলার এজাহার ও তদন্ত নথিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, একপর্যায়ে ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে ঘরের বেড়ার পাশে রাখা একটি ধারালো কোদালসদৃশ কৃষি সরঞ্জাম (কোদাবাড়ি) দিয়ে ইসমাইল মিয়ার মাথায় পরপর একাধিক আঘাত করা হয়, যাতে তিনি গুরুতর রক্তাক্ত জখম হন। পরে ঘরে থাকা একটি ছুরি দিয়ে তাঁর বাম পায়ের গোড়ালির ওপর গুরুতর আঘাত করা হয়। একই সঙ্গে কয়েকজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির সহায়তায় তাঁকে চেপে ধরে হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

    এরপর মরদেহ গোপন করার উদ্দেশ্যে হোসেনপুর গ্রামের টানপাড়া এলাকায় নকুল পালের পরিত্যক্ত বাড়ির সিঁড়ির নিচে থাকা সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে মরদেহ ফেলে রাখা হয় বলে এজাহার ও তদন্ত নথিতে বর্ণনা করা হয়েছে।

    মামলার এজাহার, পুলিশের রিমান্ড আবেদন এবং তদন্ত-সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, শান্তা বেগমের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে স্থানীয় লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে হোসেনপুর গ্রামের টানপাড়া এলাকায় নকুল পালের পরিত্যক্ত বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। সেখানে সেপটিক ট্যাংকের ভেতর থেকে নিহত ইসমাইল মিয়ার মরদেহ শনাক্ত করেন তাঁর ছেলে সাদ্দাম।

    ঘটনার পর স্থানীয় জনতা শান্তা বেগম ও তাঁর স্বামী সুমনকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়। পরে আশুগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের কাছ থেকে তাদের হেফাজতে নেয়। মামলার নথি অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয়দের সামনেই পুলিশ তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা পূর্বে দেওয়া তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বক্তব্য দিয়ে হত্যার কথা স্বীকার করেন।

    পরবর্তীতে শান্তা বেগম আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। ওই জবানবন্দিতে তিনি ঘটনার সঙ্গে আরও কয়েকজনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে তাদের নাম-পরিচয় উল্লেখ করেন। জবানবন্দিতে তিনি দাবি করেন, আমজাদ হোসেন ওরফে আমজাদ (২৪)-এর সহযোগিতায় নিহত ইসমাইল মিয়ার মরদেহ হোসেনপুর গ্রামের টানপাড়া এলাকায় নকুল পালের পরিত্যক্ত বাড়ির সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে ফেলে রাখা হয়।

    অনুসন্ধানে প্রাপ্ত নথি থেকে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৬ এপ্রিল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জনের স্বাক্ষরিত ময়নাতদন্ত (পোস্টমর্টেম) প্রতিবেদন পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে প্রেরণ করা হয়। পরবর্তীতে ২১ এপ্রিল পুলিশ সুপারের কার্যালয় প্রতিবেদনটি গ্রহণ করে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এরপর নিয়ম অনুযায়ী নথিটি তদন্তের স্বার্থে আশুগঞ্জ থানায় পাঠানো হয়।

    কিন্তু ঘটনার এখানেই তৈরি হয়েছে রহস্য। আশুগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) সাংবাদিকদের কাছে নিশ্চিত করেছেন, পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে পাঠানো ওই ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন থানার তদন্ত শাখায় কখনো পৌঁছেনি।

    ফলে হত্যা মামলার তদন্তে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নথিটি ঠিক কোন পর্যায়ে হারিয়ে গেল বা আটকে গেল—সে প্রশ্নের এখনো কোনো স্পষ্ট উত্তর মেলেনি। এই অসঙ্গতি শুধু তদন্ত প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে না, বরং একটি হত্যা মামলার বিচারপ্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হওয়ার পেছনেও প্রশাসনিক গাফিলতি বা নথি ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

    এ বিষয়ে মামলার বাদী সাদ্দাম অভিযোগ করেন, মামলার সাবেক তদন্ত কর্মকর্তা এসআই কাজী ছানোয়ার হোসেন এবং বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা এসআই দীপকের দায়িত্ব পালনে অসততা বা গাফিলতির কারণেই ময়নাতদন্ত (পোস্টমর্টেম) প্রতিবেদনটি তদন্ত কার্যক্রমে ব্যবহৃত হয়নি এবং এর অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।তিনি আরও অভিযোগ করেন, আসামিপক্ষের প্রভাবে তদন্তে ইচ্ছাকৃত বিলম্ব বা অনিয়ম হয়ে থাকতে পারে।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার সাবেক তদন্ত কর্মকর্তা এসআই কাজী ছানোয়ার হোসেন বলেন, পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনটি থানায় পাঠানো হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে কীভাবে সেটি তদন্ত নথিতে পাওয়া যাচ্ছে না, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন।

    তিনি বলেন,“পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে ময়নাতদন্ত রিপোর্টটি পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু কীভাবে এটি হারিয়ে গেল, তা আমি বুঝতে পারছি না।”

    অন্যদিকে, মামলার বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা এসআই দীপক জানান, তিনি প্রায় সাত মাস আগে মামলাটির তদন্তভার পেয়েছেন। দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার সময় সাবেক তদন্ত কর্মকর্তার কাছ থেকে যে নথিপত্র বুঝে পেয়েছেন, সেখানে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনটি ছিল না।

    তিনি বলেন, “আগের তদন্ত কর্মকর্তা আমাকে যেসব কাগজপত্র বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, সেখানে ময়নাতদন্ত রিপোর্ট ছিল না। কিন্তু এখন বিষয়টি নিয়ে আমরা চাপের মধ্যে আছি। বর্তমানে সদর হাসপাতাল ও সিভিল সার্জন কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে যোগাযোগ করে প্রতিবেদনটি পুনরায় সংগ্রহের চেষ্টা করছি। দ্রুত তদন্ত শেষ করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।”

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উবায়দুর রহমান বলেন, তদন্তাধীন কোনো মামলার নথি আদালত ছাড়া অন্য কোথাও উপস্থাপন করা সমীচীন নয়। তবে সাংবাদিকদের প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি জানান, সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে মামলার ময়নাতদন্ত (পোস্টমর্টেম) প্রতিবেদন পুলিশ সুপার কার্যালয় পেয়েছিলো।

    তিনি আরও বলেন, মামলার তদন্ত কার্যক্রম শেষ করতে বিলম্বের যে অভিযোগ উঠেছে, তা গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে পুলিশের সংশ্লিষ্ট সার্কেল কর্মকর্তা, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং তদন্ত কর্মকর্তাকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    তবে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনটি যদি পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে আশুগঞ্জ থানায় পাঠানো হয়ে থাকে, তাহলে সেটি তদন্ত কর্মকর্তার কাছে কেন পৌঁছায়নি, এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি।

    এই মামলাটি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে নিয়ে এসেছে।

    প্রথমত, একটি হত্যা মামলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলামতগুলোর একটি হলো পোস্টমর্টেম প্রতিবেদন। যদি সেটি সত্যিই এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়, তাহলে এটি শুধু প্রশাসনিক ত্রুটি নয়; বরং তদন্ত ব্যবস্থার জবাবদিহি নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করে।

    দ্বিতীয়ত, প্রায় ২০ মাস ধরে অভিযোগপত্র দাখিল না হওয়া বিচারপ্রার্থীদের ন্যায়বিচার পাওয়ার সাংবিধানিক অধিকারকে বিলম্বিত করছে। বিচার বিলম্বিত হলে সাক্ষ্য-প্রমাণ দুর্বল হওয়ার আশঙ্কাও বাড়ে।

    তৃতীয়ত, পুলিশ সুপারের কার্যালয় বলছে তারা প্রতিবেদন পেয়েছে, কিন্তু তদন্তকারী কর্মকর্তা বলছেন সেটি তাদের কাছে পৌঁছেনি। এই দুই বক্তব্যের মধ্যে যে অসঙ্গতি রয়েছে, তা নিরসনে একটি বিভাগীয় তদন্ত প্রয়োজন।

    সবশেষে, যদি কোনো সরকারি নথি প্রকৃতপক্ষে হারিয়ে গিয়ে থাকে, তাহলে সেটি কোথায়, কার দায়িত্বে এবং কী পরিস্থিতিতে হারিয়েছে এই প্রশ্নগুলোর স্পষ্ট উত্তর জনস্বার্থেই জানা জরুরি। একই সঙ্গে তদন্ত দ্রুত শেষ করে অভিযোগপত্র দাখিলের মাধ্যমে বিচারপ্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেওয়াই এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রধান দায়িত্ব।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন