শেয়ারবাজারের অস্থির উত্থান: সূচক বাড়লেও আস্থার সংকট রয়েই গেল

শেয়ারবাজারে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের দরপতনের মধ্যেও সূচক ও লেনদেনে সামান্য উত্থানকে আপাতদৃষ্টিতে ইতিবাচক মনে হলেও এর ভেতরের চিত্রটি বেশ জটিল ও মিশ্র সংকেতবাহী। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) যেভাবে অধিকাংশ শেয়ারের দাম কমেছে, সেখানে সূচক ও লেনদেনের বৃদ্ধি বাজারের মৌলিক শক্তির চেয়ে খাতভিত্তিক অস্থিরতার প্রতিফলন বলেই বেশি মনে হচ্ছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিমা খাতের শেয়ারগুলোতে তুলনামূলকভাবে বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধি সূচককে উপরের দিকে ঠেলে দিয়েছে। অথচ অন্যান্য খাতে, বিশেষ করে ব্যাংক, শিল্প ও মিউচুয়াল ফান্ড খাতে বিক্রির চাপই বেশি ছিল। অর্থাৎ সীমিত কিছু খাতের ইতিবাচক পারফরম্যান্স পুরো বাজারের চিত্রকে ঢেকে দিয়েছে।
এ ধরনের পরিস্থিতি বিনিয়োগকারীদের জন্য বিভ্রান্তিকর সংকেত তৈরি করে। কারণ সূচক বৃদ্ধি পেলেও অধিকাংশ শেয়ারের দরপতন বাজারে আস্থার ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়। বিশেষ করে ‘জেড’ ক্যাটাগরির শেয়ারে বড় ধরনের দরপতন বাজারের নিম্নমানের শেয়ারের প্রতি আস্থাহীনতা আরও স্পষ্ট করেছে।
অন্যদিকে লেনদেন কিছুটা বেড়েছে, যা সাধারণত বাজারে অংশগ্রহণ বাড়ার ইঙ্গিত দেয়। তবে এই লেনদেনের বড় অংশই নির্দিষ্ট কয়েকটি কোম্পানিতে কেন্দ্রীভূত হওয়ায় সেটিকে সার্বিক বাজার উন্নতি হিসেবে দেখা কঠিন। বরং এটি স্বল্পমেয়াদি ট্রেডিং প্রবণতা ও খাতভিত্তিক স্পেকুলেশনের ইঙ্গিত বহন করে।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও একই ধরনের প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে, যেখানে সূচক কিছুটা বাড়লেও বাজারের ভেতরের ভারসাম্য এখনো দুর্বল। এটি প্রমাণ করে যে সামগ্রিকভাবে শেয়ারবাজার এখনো স্থিতিশীল ভিত্তির ওপর দাঁড়াতে পারেনি।
সার্বিকভাবে বলা যায়, বাজারে সূচক ও লেনদেনের এই সাময়িক উত্থান বিনিয়োগকারীদের জন্য আশাব্যঞ্জক হলেও এটি টেকসই প্রবৃদ্ধির নিশ্চয়তা দেয় না। দীর্ঘমেয়াদে বাজার স্থিতিশীল করতে হলে খাতভিত্তিক ভারসাম্য, আস্থার পুনর্গঠন এবং স্বচ্ছ বিনিয়োগ পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।