টিকা কার্যক্রমের মাঝেও কেন নিয়ন্ত্রণে আসছে না পরিস্থিতি?

দেশে হামে আক্রান্ত ও উপসর্গজনিত শিশু মৃত্যুর সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ১২ জন শিশুর মৃত্যুর তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একই সময়ে সারা দেশে ১ হাজার ২৩৮ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম সূত্রে জানা যায়, মৃত শিশুদের মধ্যে ঢাকায় সর্বাধিক মৃত্যু হয়েছে, পাশাপাশি বরিশাল, খুলনা, ময়মনসিংহ, রাজশাহী ও সিলেটেও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে অন্তত একজনের হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে।
এর আগে ৪ মে একদিনেই ১৭ জন শিশুর মৃত্যু ঘটে, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গে মোট ২৭৯ জন শিশুর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। একই সময়ে নিশ্চিত হামে মারা গেছে ৫৭ জন শিশু।
সরকার ৫ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের জন্য এমআর-১ বুস্টার ডোজ টিকাদান কার্যক্রম শুরু করে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দাবি অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ৬১ লাখ শিশু টিকা পেয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার বড় অংশ।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকা কার্যক্রম চলমান থাকলেও হঠাৎ মৃত্যুর হার বৃদ্ধি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে রোগ নিয়ন্ত্রণে আরও কাঠামোগত দুর্বলতা রয়েছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকা একমাত্র সমাধান নয়; রোগ নজরদারি, দ্রুত শনাক্তকরণ, আইসোলেশন এবং পুষ্টি ব্যবস্থাপনা একসঙ্গে কার্যকর না হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ কঠিন হবে।
তাদের মতে, হামের বিস্তার বাড়ার পেছনে রয়েছে দেরিতে হাসপাতালে আসা রোগী, অপুষ্টি, ভিটামিন ‘এ’ ঘাটতি, নিউমোনিয়ার মতো জটিলতা এবং উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা।
স্বাস্থ্য খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, কিছু এলাকায় টিকা পরিবহন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় জটিলতা, জনবল সংকট এবং প্রশাসনিক বাধা টিকাদান কার্যক্রমে প্রভাব ফেলেছে। পাশাপাশি অনেক শিশু টিকা নেওয়ার আগেই সংক্রমিত হচ্ছে, আবার টিকা নিয়েও কিছু ক্ষেত্রে সংক্রমণ দেখা যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হামের মতো প্রতিরোধযোগ্য রোগে মৃত্যুর এই বৃদ্ধি প্রমাণ করে রোগ নজরদারি, দ্রুত চিকিৎসা এবং পুষ্টি ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি রয়েছে। শুধুমাত্র টিকা কার্যক্রমের ওপর নির্ভর না করে সমন্বিত জনস্বাস্থ্য পদক্ষেপ জরুরি।
হামে শিশু মৃত্যুর এই বৃদ্ধি শুধু একটি স্বাস্থ্য সংকট নয়, বরং জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার কাঠামোগত দুর্বলতার প্রতিফলন। টিকা কার্যক্রম যতই বিস্তৃত হোক না কেন, রোগ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে।