শিক্ষার গুণগত মানে পিছিয়ে বাংলাদেশ: শিক্ষামন্ত্রী

দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ এখনো কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করতে পারেনি বলে স্বীকার করেছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
শনিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘চায়না–বাংলাদেশ এডুকেশন করপোরেশন ফোরাম–২০২৬’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
মন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশে বর্তমানে ৫৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং ১১৬টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। সংখ্যার দিক থেকে আমরা পিছিয়ে নেই, তবে গুণগত শিক্ষায় আমরা এখনো পিছিয়ে আছি।”
তিনি আরও বলেন, “এই দায়িত্ব শিক্ষার্থীদের নয়, এটি সরকারের। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আমরা শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করছি।”
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “শুধু বছরের শেষে পরীক্ষা দেওয়া শিক্ষা নয়, বরং নিয়মিত ক্লাসরুমভিত্তিক কার্যকর শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।”
অনুষ্ঠানে চীনের সঙ্গে শিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি গ্রহণের পরিকল্পনার কথাও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর ও কর্মমুখী শিক্ষা নিশ্চিত করতে চীনের সঙ্গে যৌথভাবে টিচার্স ট্রেনিং প্রোগ্রাম চালু করা হবে।
এছাড়া তিনি জানান, দেশের শিক্ষা কারিকুলাম ও সিলেবাসে পরিবর্তন আনা হচ্ছে এবং একাডেমিক ক্যালেন্ডার পুনর্গঠনের কাজ চলছে। একই সঙ্গে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার বিষয়েও পরিকল্পনা রয়েছে।
চীনে বর্তমানে প্রায় ১৬ হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, তারা কর্মমুখী ও বাস্তবভিত্তিক শিক্ষা গ্রহণ করছে, যা দেশের শিক্ষাব্যবস্থার জন্য অনুকরণীয় হতে পারে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যানসহ শিক্ষা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।