গাজীপুরে ৫ লাশের পাশে টাইপ করা চিরকুট, কী লেখা ছিল?

গাজীপুরের শ্রীপুরে স্ত্রী, তিন কন্যাসন্তান ও শ্যালককে হত্যার পর ঘটনাস্থলেই টাইপ করা অভিযোগপত্র রেখে পালিয়ে গেছেন ফোরকান মিয়া নামের এক ব্যক্তি। নিহত পাঁচজনের মরদেহের ওপর একই ধরনের পাঁচটি কপি অভিযোগপত্র পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযোগপত্রগুলো গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) বরাবর লেখা হলেও সেগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে দাখিল করা হয়েছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। বিষয়টি যাচাই করছে পুলিশ।
গাজীপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কালীগঞ্জ সার্কেল) মো. আসাদুজ্জামান জানান, উদ্ধার হওয়া চিঠিগুলো একই বক্তব্যের টাইপ করা কপি। এগুলো সত্যিকারের অভিযোগপত্র নাকি কেবল চিরকুট, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উদ্ধার হওয়া নথিতে দাবি করা হয়েছে, নিহত শারমিন খানম তার স্বামী ফোরকানের উপার্জিত ১০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে বাবার বাড়িতে জমি ক্রয় করেন এবং খালাতো ভাই রাজু আহমেদের সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কে জড়ান। অভিযোগ অনুযায়ী, এ বিষয়টি জানাজানির পর দাম্পত্য সম্পর্কের অবনতি ঘটে এবং ৫ মে শারমিন ও রাজু মিলে ফোরকানকে মারধর করেন।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার (৫ মে) দিবাগত রাতে গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার রাউৎকোনা গ্রামে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়িতে ভাড়া থেকে পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন ফোরকান মিয়া।
নিহতরা হলেন ফোরকান মিয়ার স্ত্রী শারমিন খানম (৪০), তাদের তিন মেয়ে মিম (১৬), মারিয়া (৮), ফারিয়া (২) এবং শ্যালক রসুল (২২)।
ঘটনার পর অভিযুক্ত ফোরকান মিয়া পলাতক রয়েছেন। তবে ফোনকলে তিনি হত্যার বিষয়ে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। বর্তমানে তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।