মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
Natun Kagoj

প্রশ্নের মুখে পুলিশের উদ্যোগ

প্রশ্নের মুখে পুলিশের উদ্যোগ
ছবি: এআই
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

রাজধানীতে কর্মরত একাধিক সাংবাদিকের কাছে পুলিশ সদস্য পরিচয়ে ফোন করে রাজনৈতিক পরিচয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য, জাতীয় পরিচয়পত্র, এমনকি বিদ্যুৎ বিলের কপিও চাওয়ার অভিযোগ গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, অনেক ক্ষেত্রে তথ্য চাওয়ার ভাষা ছিল জিজ্ঞাসাবাদমূলক, আক্রমণাত্মক এবং হুমকিসূচক।

গণমাধ্যম রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। সাংবাদিকদের কাজই হচ্ছে রাজনৈতিক দল, সরকার, বিরোধী মত, আন্দোলন, রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় পর্যবেক্ষণ ও জনগণের সামনে তুলে ধরা। সেই দায়িত্ব পালনের সঙ্গে রাজনৈতিক পরিচয়কে এক করে দেখা শুধু বিভ্রান্তিকর নয়, বরং এটি স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশকে ভয় ও অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দিতে পারে।

সাংবাদিকদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের প্রয়োজন হলে সেটির একটি স্বচ্ছ, প্রাতিষ্ঠানিক ও নীতিগত পদ্ধতি থাকা উচিত। কোনো বিশেষ শাখা বা মাঠপর্যায়ের সদস্যের মাধ্যমে সরাসরি ফোন করে বা বাসায় গিয়ে রাজনৈতিক পরিচয় জানতে চাওয়া গণতান্ত্রিক পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এতে পেশাজীবীদের মধ্যে আতঙ্ক, অবিশ্বাস ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।

উদ্বেগের বিষয় হলো, বিভিন্ন সাংবাদিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতারাও এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে নজিরবিহীন ও হয়রানিমূলক বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাদের মতে, রাষ্ট্র যদি কোনো তথ্য যাচাই করতে চায়, তাহলে তথ্য মন্ত্রণালয়, গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান কিংবা সাংবাদিক সংগঠনের মাধ্যমে তা করতে পারে। ব্যক্তিগত রাজনৈতিক মতাদর্শ বা পারিবারিক পরিচয় জানতে চাওয়ার প্রশ্ন সাংবাদিকতার স্বাধীনতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

এখানে আরও গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশ্ন উঠে আসে—রাষ্ট্র কি সাংবাদিকদের পেশাগত কর্মকাণ্ডকে রাজনৈতিক আনুগত্যের মানদণ্ডে বিচার করতে চাইছে? যদি এমন প্রবণতা তৈরি হয়, তাহলে তা স্বাধীন মতপ্রকাশ ও গণমাধ্যমের ওপর চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে।

বাংলাদেশের সংবিধান নাগরিকের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছে। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার সনদেও স্বাধীন সাংবাদিকতা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকার স্বীকৃত। তাই কোনো উদ্যোগ যদি সেই সীমা অতিক্রম করে, তাহলে তা শুধু গণমাধ্যম নয়, সামগ্রিক গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্যও ক্ষতিকর হয়ে উঠবে।

সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত এ বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া এবং যদি কোনো অনিয়ম বা অপেশাদার আচরণ হয়ে থাকে, তবে তা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া। সাংবাদিকদের মধ্যে ভয় বা নজরদারির সংস্কৃতি তৈরি না করে আস্থা ও পেশাগত স্বাধীনতা নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত রাষ্ট্রের দায়িত্ব।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

সর্বশেষ