মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৫৯৩ বিদ্যুৎহীন অন্ধকারে মানুষের গল্প, লোডশেডিং নিয়ে আলোচিত সিনেমা বিশ্বকাপে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে আসিফ নজরুলের ভূমিকা, সম্মতি ছিল বিসিবিরও ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক ও পরিবারের দুই সদস্যের বিরুদ্ধে দুদকের ৩ মামলা চবি আলাওল হলের প্রভোস্টের পদত্যাগ দাবি, কক্ষে তালা নতুন ধারার ছাত্ররাজনীতিতে সফল হওয়ার প্রত্যয় ছাত্রদল সভাপতির মক্কায় সম্ভাব্য হামলার বিরল সতর্কতা, হুথি-সৌদি উত্তেজনা তুঙ্গে রাষ্ট্রপতির নাগরিক সংবর্ধনা বয়কট করল সিলেট বিএনপি মার্কিন কূটনীতিকদের নামে ভুয়া প্রোফাইল, সতর্ক করল দূতাবাস অনলাইনে পাঞ্জাবি বিক্রি, ৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকি উদঘাটন
  • নগর স্বাস্থ্যসেবা ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ সময়ের দাবি

    নগর স্বাস্থ্যসেবা ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ সময়ের দাবি
    ছবি: এআই
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    বাংলাদেশ দ্রুত নগরায়ণের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। কর্মসংস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা ও উন্নত জীবনযাপনের আশায় প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ শহরমুখী হচ্ছেন। ফলে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর শহরাঞ্চলের চাপও ক্রমেই বাড়ছে। অথচ দীর্ঘদিন ধরে নগর স্বাস্থ্যসেবা জাতীয় স্বাস্থ্যব্যবস্থার মূল কাঠামোর বাইরে থেকে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও বেসরকারি সংস্থার বিচ্ছিন্ন উদ্যোগের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। এই বাস্তবতায় নগর স্বাস্থ্যসেবাকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মূল কাঠামোর আওতায় আনার সরকারের সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ।

    স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেছেন, নগর স্বাস্থ্যসেবাকে নতুনভাবে ঢেলে সাজানোর কাজ করছে সরকার। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ঢাকার সিরডাপ মিলনায়তনে সিএসও ফোরাম আয়োজিত টেকসই এসআরএইচআর ইকোসিস্টেম বিষয়ক জাতীয় পরামর্শ সভায় তিনি এ কথা জানান।

    স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের শহুরে জনসংখ্যা ছিল ১০ শতাংশেরও কম। সে সময় দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার বড় অংশ গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর প্রয়োজনকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল। কিন্তু বর্তমানে দেশের প্রায় ৩০ শতাংশ মানুষ শহরে বসবাস করছে এবং ২০৫০ সালের মধ্যে এ হার ৫০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। ফলে কয়েক দশক আগের বাস্তবতা দিয়ে বর্তমান ও ভবিষ্যতের নগর স্বাস্থ্য চাহিদা পূরণ করা সম্ভব নয়।

    সরকারের প্রস্তাবিত কাঠামোর অন্যতম ইতিবাচক দিক হলো স্বাস্থ্য অধিদফতর ও পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের সমন্বিত ভূমিকা। বিশেষ করে যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবায় পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের সক্ষমতাকে কাজে লাগানো হলে শহরের নারী, কিশোর-কিশোরী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী আরও কার্যকর সেবা পেতে পারে।

    তবে শুধু প্রশাসনিক কাঠামো পরিবর্তন করলেই নগর স্বাস্থ্যব্যবস্থা কার্যকর হবে না। সেবা কোথায়, কীভাবে এবং কার কাছে পৌঁছাবে—সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। শহরের নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষের বড় একটি অংশ দিনের কর্মঘণ্টায় চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ পান না। এ কারণে প্রস্তাবিত সান্ধ্যকালীন ক্লিনিক চালুর উদ্যোগ বাস্তবসম্মত। একইভাবে ভাসমান জনগোষ্ঠী, প্রতিবন্ধী নারী ও শিশুদের জন্য আলাদা সেবা নিশ্চিত করার পরিকল্পনাও জরুরি।

    প্রস্তাবিত এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনাটিও গুরুত্বপূর্ণ। বিদ্যমান ৪০ হাজার কর্মীর সঙ্গে নতুন কর্মীদের সমন্বিত প্রশিক্ষণ দিয়ে ‘কমিউনিটি হেলথ অ্যান্ড ওয়েলবিং’ কর্মী হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে নগর স্বাস্থ্যসেবার প্রাথমিক স্তরে বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব। আধুনিক ডায়াগনস্টিক কিট ও এআই-ভিত্তিক ডিজিটাল অ্যাপ ব্যবহারের পরিকল্পনাও সময়োপযোগী। তবে প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি তথ্যের গোপনীয়তা, কর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং প্রযুক্তির নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করতে হবে।

    সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, এই পরিকল্পনা যেন কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না থাকে। নগর স্বাস্থ্যসেবার দায়িত্ব বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ভাগ হয়ে থাকায় অতীতে সমন্বয়ের ঘাটতি দেখা গেছে। নতুন কাঠামোতে দায়িত্ব ও জবাবদিহি স্পষ্ট করতে হবে। কোন প্রতিষ্ঠান কোন সেবা দেবে, অর্থায়ন কোথা থেকে আসবে, জনবল কীভাবে নিয়োগ ও পরিচালিত হবে এবং সেবার মান কীভাবে পরিমাপ করা হবে—এসব প্রশ্নের সুস্পষ্ট উত্তর থাকতে হবে।

    ওয়ার্ডভিত্তিক ক্যাচমেন্ট এরিয়া নির্ধারণের পরিকল্পনাও যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। ৫০ হাজার থেকে এক লাখ মানুষের জন্য একটি ইউনিট নির্ধারণের ক্ষেত্রে শুধু জনসংখ্যা নয়, এলাকার আর্থসামাজিক অবস্থা, রোগের ধরন, নারী ও শিশুর সংখ্যা, প্রতিবন্ধী মানুষের উপস্থিতি এবং ভাসমান জনগোষ্ঠীর বাস্তবতাও বিবেচনায় নেওয়া উচিত।

    বাংলাদেশের নগর স্বাস্থ্যব্যবস্থার সংস্কার তাই শুধু একটি নতুন প্রকল্প নয়; এটি আগামী কয়েক দশকের স্বাস্থ্য নিরাপত্তার ভিত্তি তৈরির সুযোগ। সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে দ্রুত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা চূড়ান্ত করার পাশাপাশি পর্যাপ্ত অর্থায়ন, দক্ষ জনবল, সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও শক্তিশালী জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

    নগর স্বাস্থ্যসেবা যদি সত্যিই জাতীয় স্বাস্থ্যব্যবস্থার মূলধারায় যুক্ত হয় এবং সেবাটি মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছানো যায়, তাহলে এর সুফল শুধু শহরবাসী নয়, দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপরই পড়বে। তাই এখন সবচেয়ে বড় প্রয়োজন প্রতিশ্রুতিকে বাস্তব কর্মপরিকল্পনায় রূপ দেওয়া এবং সেই পরিকল্পনার ধারাবাহিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ