রাষ্ট্রপতির নাগরিক সংবর্ধনা বয়কট করল সিলেট বিএনপি

রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো মঙ্গলবার এক দিনের সফরে সিলেটে যান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাঁর সফর উপলক্ষে সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) উদ্যোগে নাগরিক সংবর্ধনা ও সুধী সমাবেশের আয়োজন করা হলেও এতে অংশ নেননি সিলেট বিএনপির নেতাকর্মীরা।
দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয় সংসদ সদস্যদের সঙ্গে পরামর্শ না করে অনুষ্ঠান আয়োজন এবং অনেক নেতাকে আমন্ত্রণ না জানানোর অভিযোগে তারা অনুষ্ঠান বয়কটের সিদ্ধান্ত নেন বলে জানা গেছে।
অনুষ্ঠানে অংশ নেননি বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট ওয়াসার চেয়ারম্যান মিফতাহ সিদ্দিকী, সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী, সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল, সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুল, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, বিএনপির ক্ষুদ্রঋণ ও কুটির শিল্পবিষয়ক সহ-সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক, সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের শামীম, সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী ও মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. বদরুজ্জামান সেলিমসহ অনেকে।
সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, রাষ্ট্রপতির সফরকে কেন্দ্র করে বিএনপির জেলা ও মহানগরের নেতারা বিভিন্ন কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন। শাহজালাল ও শাহপরান (রহ.)-এর মাজার এবং বিমানবন্দরেও তারা ছিলেন। রাষ্ট্রপতির সফরসংশ্লিষ্ট দায়িত্ব পালনে দলীয়ভাবে সব ধরনের সহযোগিতা করা হয়েছে।
তবে সিসিক প্রশাসক নাগরিক কমিটি গঠনের কথা বললেও তা না করে খামখেয়ালিভাবে সংবর্ধনার আয়োজন করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, বিভিন্নভাবে বিএনপির নেতাকর্মীদেরও অপদস্থ করা হয়েছে।
এমদাদ হোসেন বলেন, আগেরবার প্রধানমন্ত্রী সিলেটে এলে বিএনপির নেতাদের গাড়ি শাহজালাল (রহ.) মাজার ও শাহী ঈদগাহ এলাকায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। এবার সেই অনুমতি দেওয়া হয়নি। এমনকি শাহজালাল মাজারেও তাদের গাড়ি প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। এসব কারণেই নাগরিক সংবর্ধনা বয়কট করা হয়েছে।
সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও মহানগর বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেন, রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রথম সিলেট সফর তাদের জন্য অত্যন্ত সম্মানের। রাষ্ট্রপতির প্রতি তাঁদের শতভাগ শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা রয়েছে।
তবে তিনি বলেন, গত দেড় দশকের আন্দোলন-সংগ্রামে নির্যাতিত, নিপীড়িত, কারাবরণ ও অঙ্গহানির শিকার হওয়া নেতাকর্মীদের বড় একটি অংশ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পাননি। দুঃসময়ে এসব নেতাকর্মীর পাশে দাঁড়ানোকে নিজের মানবিক দায়িত্ব মনে করেই তিনি অনুষ্ঠানে যাননি।
রেজাউল হাসান বলেন, রাষ্ট্রপতি সবার রাষ্ট্রপতি এবং তাঁর প্রতি তাঁদের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা সবসময় থাকবে। দলের প্রয়োজনে অতীতের মতো ভবিষ্যতেও তারা রাজপথে থাকবেন।
সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন বলেন, তারা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে শাহজালাল ও শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতে ছিলেন। তবে সিটি করপোরেশনের আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনা ও সুধী সমাবেশে বিএনপির নেতাকর্মীদের কেউ অংশ নেননি। রাষ্ট্রপতিকে সিলেট বিমানবন্দর থেকে বিদায় জানাবেন বলেও জানান তিনি।
এদিকে রাষ্ট্রপতির সফর উপলক্ষে সিলেটে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। সফরসূচি অনুযায়ী, শাহজালাল ও শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের পর তিনি সিটি করপোরেশনের নাগরিক সংবর্ধনা ও সুধী সমাবেশে অংশ নেন।