মক্কায় সম্ভাব্য হামলার বিরল সতর্কতা, হুথি-সৌদি উত্তেজনা তুঙ্গে

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে পবিত্র নগরী মক্কায় সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে বিরল সতর্কতা জারি করেছে সৌদি আরব। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সতর্কতা জারির কিছুক্ষণ পর তা প্রত্যাহারও করে নেওয়া হয়।
মক্কার পাশাপাশি জেদ্দা ও তাইফ শহরেও সম্ভাব্য হামলার সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের বিভিন্ন এলাকায় হুথিদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবরের মধ্যেই এমন সতর্কতা সামনে এলো।
পবিত্র মক্কায় কাবা শরিফ অবস্থিত হওয়ায় এ ধরনের সতর্কতা বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। বার্তাসংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সংঘাত শুরুর পর মক্কাকে ঘিরে এ ধরনের সতর্কতা জারির ঘটনা বিরল। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই সতর্কতাটি প্রত্যাহার করা হয়।
এর আগে সোমবার ইয়েমেন থেকে সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় ১৩ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। এর জবাবে সৌদি আরবও পাল্টা হামলা চালিয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
হুথিদের দাবি, পাঁচ দিনে ৩০০টির বেশি সৌদি বিমান হামলা
হুথিদের দাবি, গত পাঁচ দিনে তাদের লক্ষ্য করে সৌদি আরব ৩০০টির বেশি বিমান হামলা চালিয়েছে। সৌদি আরব হামলা অব্যাহত রাখলে সংঘাত আরও বাড়ানোর হুমকিও দিয়েছে ইয়েমেনের এই বিদ্রোহী গোষ্ঠী।
সোমবার টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে হুথিরা দাবি করে, সৌদি আরব এফ-১৫ ও ইউরোফাইটার টাইফুনসহ বিভিন্ন ধরনের যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে এসব হামলা চালিয়েছে।
সৌদি আরবের পক্ষ থেকে হুথিদের এসব দাবি সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
দুই সপ্তাহে বেড়েছে উত্তেজনা
গত দুই সপ্তাহে হুথি ও সৌদি আরবের মধ্যে উত্তেজনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এতে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও বড় ধরনের সংঘাত শুরু হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
হুথিদের দাবি, সৌদি হামলার জবাবে তারা দেশটির খামিস মুশাইতের কিং খালিদ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। এ সময় কয়েক ডজন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে বলেও দাবি করেছে তারা। এসব ক্ষেপণাস্ত্র বিমান রাখার হ্যাঙ্গার, রাডার ব্যবস্থা, রানওয়ে ও অস্ত্রভাণ্ডারকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছে বলে হুথিদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
তবে এসব হামলার ক্ষয়ক্ষতি বা লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার বিষয়ে স্বাধীনভাবে বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করা যায়নি।
দীর্ঘ বিরতির পর ফের সংঘাতের আশঙ্কা
ইয়েমেনে ২০১৪ সালে সরকারবিরোধী আন্দোলন থেকে গৃহযুদ্ধের সূত্রপাত হয়। ওই সময় হুথিরা রাজধানী সানাসহ দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৫ সালে হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট অভিযান শুরু করে।
দীর্ঘ সংঘাতের পর ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। এরপর দীর্ঘ সময় দুই পক্ষের মধ্যে বড় ধরনের হামলা-পাল্টা হামলা দেখা যায়নি।
তবে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতে সেই আপেক্ষিক শান্তি আবারও ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মক্কা, জেদ্দা ও তাইফকে ঘিরে সতর্কতা জারির ঘটনা পরিস্থিতির নতুন করে অবনতির উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।