মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • গুলশানে আ’লীগের মিছিলের তথ্য ছিল, তবে সময়টা আন্দাজ করতে পারেনি পুলিশ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গণতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখাই এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব: রাষ্ট্রপতি ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৫৯৩ বিদ্যুৎহীন অন্ধকারে মানুষের গল্প, লোডশেডিং নিয়ে আলোচিত সিনেমা বিশ্বকাপে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে আসিফ নজরুলের ভূমিকা, সম্মতি ছিল বিসিবিরও ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক ও পরিবারের দুই সদস্যের বিরুদ্ধে দুদকের ৩ মামলা চবি আলাওল হলের প্রভোস্টের পদত্যাগ দাবি, কক্ষে তালা নতুন ধারার ছাত্ররাজনীতিতে সফল হওয়ার প্রত্যয় ছাত্রদল সভাপতির মক্কায় সম্ভাব্য হামলার বিরল সতর্কতা, হুথি-সৌদি উত্তেজনা তুঙ্গে রাষ্ট্রপতির নাগরিক সংবর্ধনা বয়কট করল সিলেট বিএনপি
  • এআই ড্রামায় কেন আটকে যাচ্ছে দর্শকের চোখ?

    এআই ড্রামায় কেন আটকে যাচ্ছে দর্শকের চোখ?
    ছবি: এআই
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    ফেসবুক খুললেই এখন চোখে পড়ছে একের পর এক ছোট ভিডিও। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই সেখানে শুরু হচ্ছে প্রেম, প্রতারণা, পারিবারিক দ্বন্দ্ব, রহস্য কিংবা প্রতিশোধের গল্প। চরিত্র কখনো বড় কোনো প্রতিষ্ঠানের সিইও, কখনো মাফিয়া, আবার কখনো ফ্যান্টাসি জগতের মানুষ। দ্রুত সংলাপ, নাটকীয় অভিব্যক্তি আর সম্পর্কের টানাপোড়েনে গল্প এগিয়ে যায়। কিন্তু ঠিক যখন দর্শক জানতে চান, ‘এরপর কী হলো?’, তখনই থেমে যায় ভিডিও।

    পরের পর্ব দেখতে তাই আবার স্ক্রল করতে হয় কিংবা একটি ট্যাপ করতে হয়। এভাবেই অল্প সময়ের মধ্যে দর্শককে গল্পের সঙ্গে আটকে রাখছে মাইক্রো-ড্রামা।

    সাম্প্রতিক সময়ে ফেসবুকে আলোচনায় আসা ‘ডন লুকা ও নোরা’ এ ধরনের কনটেন্টের একটি উদাহরণ। কয়েক মাস ধরেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছোট ছোট এ ধরনের নাটক দেখা যাচ্ছে। এখন সেগুলোর উপস্থিতি বিজ্ঞাপনেও বাড়ছে। এসব নাটকের অনেকগুলো পুরোপুরি বা আংশিকভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি।

    তবে দর্শকের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সব সময় এআই নয়। তিনি যে নাটকটি দেখছেন, সেটি কীভাবে তৈরি হয়েছে—এটা জানার চেয়ে গল্পটি তাকে কত দ্রুত আটকে ফেলতে পারছে, সেটিই বড় হয়ে উঠছে।

    কয়েক সেকেন্ডেই গল্পের শুরু

    মাইক্রো-ড্রামার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো দ্রুত গল্পে ঢুকে পড়া। প্রচলিত নাটকের মতো এখানে চরিত্র পরিচয়, পরিবেশ তৈরি বা গল্পের পটভূমি বোঝাতে বেশি সময় দেওয়া হয় না। প্রথম কয়েক সেকেন্ডেই সামনে চলে আসে প্রেম, বিরোধ, রহস্য কিংবা কোনো সংকট।

    এরপর দ্রুত ঘটতে থাকে একের পর এক ঘটনা। আর গল্প থামে এমন একটি মুহূর্তে, যখন দর্শকের মনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে—এরপর কী হবে?

    এটিই মাইক্রো-ড্রামার মূল কৌশল। প্রচলিত নাটকে একটি পর্বজুড়ে গল্প ধীরে ধীরে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ থাকে। কিন্তু এক-দুই মিনিটের মাইক্রো-ড্রামায় সেই সুযোগ নেই। তাই ক্লিফহ্যাঙ্গার এখানে শুধু গল্প বলার কৌশল নয়, দর্শক ধরে রাখারও অন্যতম মাধ্যম।

    পরের পর্ব যখন মাত্র একটি ট্যাপ বা স্ক্রলের দূরত্বে, তখন অমীমাংসিত বিরোধ, নতুন কোনো তথ্য কিংবা বিশ্বাসঘাতকতার মতো ঘটনা দর্শককে সহজেই পরবর্তী ভিডিওতে নিয়ে যায়।

    অবশ্য এসব গল্পের বিষয় খুব নতুন নয়। প্রেম, অর্থ, পারিবারিক দ্বন্দ্ব, ঈর্ষা, প্রতিশোধ, গোপন পরিচয় ও সামাজিক মর্যাদা—এসব নিয়ে টেলিভিশন ও সিনেমায় বহু গল্প তৈরি হয়েছে। এআই মূলত নতুন গল্পের ভাষা আবিষ্কার করছে না; বরং পরিচিত গল্পের কাঠামোকে অল্প সময়ে পর্দায় তুলে ধরার কাজটি সহজ করে দিচ্ছে।

    এআই কীভাবে নাটক তৈরি করছে?

    এআই-নির্ভর নাটক বলতে এমন অডিও-ভিজ্যুয়াল গল্পকে বোঝানো যায়, যেখানে চরিত্র, দৃশ্য, কণ্ঠ, অ্যানিমেশন বা ভিডিওর বিভিন্ন অংশ জেনারেটিভ এআইয়ের মাধ্যমে তৈরি করা হয়।

    একটি নাটক তৈরির পেছনে সাধারণত গল্পের ধারণা, চিত্রনাট্য, সংলাপ, চরিত্রের নকশা, দৃশ্য নির্মাণ, ভিডিও জেনারেশন, কণ্ঠ তৈরি, ঠোঁটের সঙ্গে সংলাপ মেলানো, সংগীত ও শব্দ সংযোজন এবং সম্পাদনার মতো একাধিক ধাপ থাকে। এসব কাজের অনেকগুলোতেই এখন এআই ব্যবহার করা সম্ভব।

    তবে এর অর্থ এই নয় যে মানুষ পুরোপুরি বাদ পড়ে যাচ্ছে। কোন গল্প বলা হবে, চরিত্র কেমন হবে, কী ধরনের দৃশ্য তৈরি করা হবে কিংবা কোন অংশ ব্যবহার করা হবে—এসব সিদ্ধান্ত এখনো নির্মাতাকেই নিতে হয়। অর্থাৎ এআই নির্মাণের অনেক ধাপ সহজ করলেও মানুষের নির্দেশনা ও সম্পাদনার প্রয়োজন থাকছে।

    এআই দিয়ে স্ক্রিপ্টের ধারণা, সংলাপ, চরিত্রের চেহারা, পটভূমি, কণ্ঠ, ভিডিও দৃশ্য, সাবটাইটেল এমনকি সম্পাদনার কাজেও সহায়তা নেওয়া যায়। ফলে আগে যে কাজের জন্য একটি বড় প্রযোজনা ইউনিট প্রয়োজন হতো, তার কিছু অংশ এখন কম্পিউটারের পর্দাতেই করা সম্ভব হচ্ছে।

    ‘সময় নষ্ট’ জেনেও কেন দেখছেন দর্শক?

    মাইক্রো-ড্রামার জনপ্রিয়তার পেছনে দর্শকের দেখার অভ্যাস বড় ভূমিকা রাখছে। মেটা-অরম্যাক্সের ২০২৬ সালের এক প্রতিবেদনে ভারতের মাইক্রো-ড্রামার দর্শকদের নিয়ে করা গবেষণায় দেখা গেছে, ৮৯ শতাংশ দর্শক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ফিড থেকেই এসব নাটকের সঙ্গে পরিচিত হন।

    গবেষণা অনুযায়ী, দর্শকেরা সপ্তাহে গড়ে ৩ দশমিক ৫ ঘণ্টা মাইক্রো-ড্রামা দেখেন। এই সময় সাধারণত সাত থেকে আটটি ছোট সেশনে ভাগ হয়ে থাকে। মোট দেখার প্রায় ৯০ শতাংশই হয় ব্যক্তিগত স্ক্রিনে।

    ভারতের ১৪টি রাজ্যের ৬৫০ জন মাইক্রো-ড্রামা দর্শক ও ২ হাজার দর্শকের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে করা গবেষণায় আরও দেখা গেছে, ৬৫ শতাংশ দর্শক গত এক বছরে মাইক্রো-ড্রামার সংস্পর্শে এসেছেন। রোমান্স, পারিবারিক গল্প ও কমেডি তাদের মধ্যে জনপ্রিয়।

    মাইক্রো-ড্রামা দেখার সময়ও লক্ষ করার মতো। রাত ৮টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত এসব কনটেন্ট দেখার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। যাতায়াতের সময় এবং কাজের বিরতিতেও অনেকে এগুলো দেখেন।

    আরেকটি বিষয় হলো, মোট দেখার ৫৭ শতাংশ হয় ‘অ্যাম্বিয়েন্ট মোডে’। অর্থাৎ দর্শক অন্য কোনো কাজ করার পাশাপাশি এসব ভিডিও দেখেন—অনেকটা টেলিভিশন চালু রেখে অন্য কাজ করার মতো।

    তাই মাইক্রো-ড্রামা সরাসরি এক ঘণ্টার টেলিভিশন অনুষ্ঠান বা দীর্ঘ স্ট্রিমিং কনটেন্টের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছে না। বরং দিনের সেই ছোট ছোট সময়গুলো দখল করছে, যখন দর্শকের হাতে কয়েক মিনিট আছে, কিন্তু দীর্ঘ কোনো অনুষ্ঠান দেখার সময় বা ইচ্ছা নেই।

    গল্পই আসল, নাকি এআই?

    এখানে একটি মজার বিষয় সামনে আসে। দর্শক এআই দিয়ে তৈরি নাটক দেখলেও এআই নিজেই সব সময় তাদের আকর্ষণের কেন্দ্র নয়।

    মেটা-অরম্যাক্সের গবেষণায় ৪৭ শতাংশ দর্শক এআই-নির্ভর মাইক্রো-ড্রামাকে অনন্য ও সৃজনশীল বলে মনে করেছেন। মাত্র ৬ শতাংশ দর্শক জানিয়েছেন, তারা এ ধরনের কনটেন্ট একেবারেই দেখতে চান না। তবে ৩৮ শতাংশ দর্শক বলেছেন, তারা বাস্তব অভিনেতাদের অভিনীত প্রযোজনাই বেশি পছন্দ করেন।

    অর্থাৎ গল্পের প্রতি আগ্রহ তৈরি হলেও মানুষের অভিনয়ের আবেদন এখনো কমেনি।

    এআই-নির্মিত চরিত্রের সীমাবদ্ধতাও দর্শকের চোখ এড়ায় না। চরিত্রের আবেগের সঙ্গে না মেলা মুখের অভিব্যক্তি, অস্বাভাবিক চোখের নড়াচড়া, শরীরের গতিবিধির অসামঞ্জস্য কিংবা ঠোঁটের নড়াচড়ার সঙ্গে কণ্ঠের মিল না থাকা দৃশ্যের কৃত্রিমতা প্রকাশ করে দিতে পারে।

    বিশেষ করে আবেগনির্ভর দৃশ্যে এসব ত্রুটি আরও স্পষ্ট হয়। তারপরও দর্শক থেমে যাচ্ছেন না। কারণ অনেক ক্ষেত্রে তারা এআই দেখতে বসছেন না, বসছেন গল্প দেখতে। এআই সেখানে গল্পটি দ্রুত পর্দায় তুলে ধরার একটি মাধ্যম মাত্র।

    চীনে এরই মধ্যে বড় শিল্প

    বাংলাদেশের ফেসবুক ফিডে এআই ড্রামা তুলনামূলক নতুন মনে হলেও চীনে মাইক্রো-ড্রামার বড় একটি বাজার অনেক আগেই তৈরি হয়েছে। স্মার্টফোনের লম্বা স্ক্রিনের উপযোগী এক-দুই মিনিটের পর্ব, দ্রুত গল্প এবং প্রতিটি পর্বের শেষে উত্তেজনা—এই ফরম্যাট সেখানে ব্যাপক জনপ্রিয়।

    ২০২৬ সালে এআই প্রযুক্তির উন্নতির ফলে সেই শিল্পে আরও বড় পরিবর্তন এসেছে।

    সংবাদমাধ্যম ক্যাক্সিন ও সিএনএর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে চীনে প্রায় ১ লাখ ২৮ হাজার নতুন মাইক্রো-ড্রামা প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে ৯৫ শতাংশের বেশি নাটক এআই ব্যবহার করে তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

    চীনের ঝেজিয়াং প্রদেশের হেংদিয়ান শহর দীর্ঘদিন ধরে চলচ্চিত্র ও নাটক নির্মাণের অন্যতম কেন্দ্র। মাইক্রো-ড্রামার শুরুর দিকে সেখানে বিপুলসংখ্যক শুটিং হতো এবং অভিনেতাদেরও ব্যাপক চাহিদা ছিল।

    ক্যাক্সিনের তথ্য অনুযায়ী, তখন কোনো কোনো অভিনেতা দিনে ৮০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ ইউয়ান এবং মাসে ১০ হাজার ইউয়ানের বেশি আয় করতেন। চীনের মাইক্রো-ড্রামা খাতে মোট প্রায় ৬ লাখ ৯০ হাজার মানুষ কাজ করতেন।

    এআইয়ের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই কর্মসংস্থানের ওপরও প্রভাব পড়েছে। অনেক অভিনেতা কাজ হারিয়েছেন কিংবা কম পারিশ্রমিকে কাজ খুঁজতে বাধ্য হয়েছেন। কারণ এআই ব্যবহারে নাটক তৈরির সময় ও খরচ দুটোই কমে যাচ্ছে।

    চায়না ডেইলির তথ্য অনুযায়ী, বাস্তবে শুট করা একটি আধুনিক নাটকে যেখানে ৩ থেকে ৪ লাখ ইউয়ান পর্যন্ত খরচ হতে পারে, সেখানে এআই ব্যবহার করে একটি কস্টিউম মাইক্রো-ড্রামা তৈরিতে ২ থেকে ৩ লাখ ইউয়ান লাগতে পারে। ক্যাক্সিন জানিয়েছে, কিছু এআই মাইক্রো-ড্রামা তৈরিতে এখন ২০ হাজার ইউয়ানেরও কম খরচ হচ্ছে।

    এর ফলে বড় বাজেটের প্রয়োজন ছাড়াই নির্মাতারা নিজেদের গল্প দর্শকের সামনে তুলে ধরার সুযোগ পাচ্ছেন। কিন্তু বিপরীত দিকও রয়েছে। সবাই যদি সহজে নাটক তৈরি করতে পারেন, তাহলে বিপুল ভিডিওর ভিড়ে মানসম্মত কনটেন্ট আলাদা করে চেনাও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

    নতুন প্রযুক্তি থেকে নতুন অভ্যাস

    এআই কি শেষ পর্যন্ত মানুষের জায়গা নিয়ে নেবে? মাইক্রো-ড্রামার উত্থান দেখে আপাতত তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে হচ্ছে অন্য একটি প্রশ্ন—দর্শক কি খুব অল্প সময়ে গল্প দেখার নতুন অভ্যাস তৈরি করছেন?

    একই চরিত্র, একের পর এক ক্লিফহ্যাঙ্গার এবং ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত ছোট পর্ব মাইক্রো-ড্রামাকে এক ধরনের চলমান সিরিজে পরিণত করছে। দর্শক জানেন, পরের পর্ব আসবে। ফলে আবার ফিরে আসার আগ্রহ তৈরি হয়।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও এই অভ্যাস তৈরির জন্য আদর্শ জায়গা। দর্শক কতক্ষণ ভিডিও দেখলেন, কোথায় থামলেন, কোন দৃশ্যে মন্তব্য করলেন, কতজন শেয়ার করলেন—এসব তথ্য পরবর্তী কনটেন্ট তৈরিতে ব্যবহার করা যায়।

    ফলে গল্প তৈরির প্রক্রিয়াটি ক্রমেই নির্মাতা, দর্শক ও অ্যালগরিদমের মধ্যে এক ধরনের চলমান পরীক্ষায় পরিণত হচ্ছে। দর্শকের প্রতিক্রিয়া যেমন পরবর্তী গল্পের গতিপথকে প্রভাবিত করতে পারে, তেমনি প্ল্যাটফর্মের অ্যালগরিদমও নির্ধারণ করছে কোন ধরনের গল্প আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছাবে।

    সামনে বড় বাজার

    মাইক্রো-ড্রামার জনপ্রিয়তার পেছনে বাণিজ্যিক সম্ভাবনাও বড় কারণ। মিডিয়া পার্টনার্স এশিয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, চীন ছাড়া বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে মাইক্রো-ড্রামার আয় ২০২৫ সালের ২ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে বেড়ে ২০২৬ সালে ৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। ২০৩১ সালে তা ৯ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়ানোর পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

    চীন ছাড়া এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বাজারও দ্রুত বাড়ছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩১ সালের মধ্যে এই অঞ্চলে মাইক্রো-ড্রামার বাজার ২ দশমিক ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছাতে পারে, যা ২০২৬ সালের সম্ভাব্য বাজারমূল্যের প্রায় তিন গুণ।

    সাবস্ক্রিপশন, অর্থের বিনিময়ে পর্ব দেখা, বিজ্ঞাপনসহ বিভিন্ন ডিজিটাল ব্যবসায়িক মডেলে এই খাত থেকে আয় হচ্ছে। ফলে প্ল্যাটফর্মগুলোর কাছেও মাইক্রো-ড্রামা এখন শুধু পরীক্ষামূলক কনটেন্ট নয়; এটি ধীরে ধীরে আলাদা একটি বিনোদন ব্যবসায় পরিণত হচ্ছে।

    দর্শকের কাছে অবশ্য এই বিশাল অর্থনীতি খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। তিনি হয়তো জানেন, ‘আরেকটি ভিডিও’ দেখতে গিয়ে তার আরও কয়েক মিনিট চলে যাচ্ছে। তারপরও দেখছেন।

    কারণ শেষ পর্যন্ত প্রযুক্তি নয়, অ্যালগরিদমও নয়—তাকে আটকে রাখছে একটি অসমাপ্ত গল্প এবং একটি সহজ প্রশ্ন: এরপর কী হলো?


    সূত্র: মেটা, ক্যাক্সিন, সিএনএ, চায়না ডেইলি
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন