মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • ওয়ানডেতে থাকছেন, টি-টোয়েন্টির নেতৃত্ব ছাড়ছেন নিগার গুলশানে আ’লীগের মিছিলের তথ্য ছিল, তবে সময়টা আন্দাজ করতে পারেনি পুলিশ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গণতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখাই এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব: রাষ্ট্রপতি ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৫৯৩ বিদ্যুৎহীন অন্ধকারে মানুষের গল্প, লোডশেডিং নিয়ে আলোচিত সিনেমা বিশ্বকাপে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে আসিফ নজরুলের ভূমিকা, সম্মতি ছিল বিসিবিরও ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক ও পরিবারের দুই সদস্যের বিরুদ্ধে দুদকের ৩ মামলা চবি আলাওল হলের প্রভোস্টের পদত্যাগ দাবি, কক্ষে তালা নতুন ধারার ছাত্ররাজনীতিতে সফল হওয়ার প্রত্যয় ছাত্রদল সভাপতির মক্কায় সম্ভাব্য হামলার বিরল সতর্কতা, হুথি-সৌদি উত্তেজনা তুঙ্গে
  • স্বার্থপর মানুষ নিজের অপরাধ দেখে না

    স্বার্থপর মানুষ নিজের অপরাধ দেখে না
    ছবি: এআই
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    মানুষের জীবনে ভুল হওয়া স্বাভাবিক। কেউ ভুল করলে তা স্বীকার করে, ক্ষমা চায় এবং নিজেকে সংশোধনের চেষ্টা করে। কিন্তু স্বার্থপর মানুষের ক্ষেত্রে বিষয়টি অনেক সময় ভিন্ন। তারা নিজের ভুল বা অপরাধকে সহজে ভুল হিসেবে দেখতে চান না। বরং নিজের কাজের পেছনে নানা যুক্তি দাঁড় করিয়ে সেটিকে সঠিক প্রমাণ করার চেষ্টা করেন।

    স্বার্থপরতা সব সময় খুব স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে না। কখনো তা প্রকাশ পায় নিজের সুবিধাকে সবার আগে রাখার মাধ্যমে, কখনো অন্যের অনুভূতিকে গুরুত্ব না দেওয়ার মধ্য দিয়ে। আবার কখনো নিজের ভুলের দায় অন্যের ওপর চাপিয়ে দিয়েও একজন মানুষ তার স্বার্থপর মানসিকতার প্রকাশ ঘটাতে পারেন।

    নিজের ভুলকে যুক্তি দিয়ে ঢেকে রাখা

    স্বার্থপর মানুষ সাধারণত নিজের আচরণকে অন্যদের আচরণের সঙ্গে তুলনা করেন। তিনি ভাবতে পারেন, ‘আমি তো এমন কিছু করিনি, অন্যরা আমার চেয়ে আরও খারাপ।’ এই তুলনা তাকে নিজের ভুলের মুখোমুখি হওয়া থেকে দূরে রাখে।

    কেউ তার ভুল ধরিয়ে দিলে তিনি হয়তো সরাসরি তা অস্বীকার করবেন। আবার কখনো বলতে পারেন, ‘পরিস্থিতি আমাকে এমন করতে বাধ্য করেছে।’ অর্থাৎ নিজের সিদ্ধান্তের দায় নেওয়ার পরিবর্তে পরিস্থিতি, অন্য মানুষ কিংবা ভাগ্যের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করবেন।

    এভাবে বারবার নিজের কাজকে বৈধতা দিতে দিতে একসময় নিজের কাছেই ভুল কাজটি স্বাভাবিক মনে হতে পারে।

    অন্যের কষ্ট দেখেও উদাসীনতা

    স্বার্থপরতার সবচেয়ে বড় প্রকাশগুলোর একটি হলো অন্যের অনুভূতির প্রতি উদাসীন থাকা। নিজের প্রয়োজন পূরণ হলে অন্য ব্যক্তি কষ্ট পেলেন কি না, তার সময় নষ্ট হলো কি না কিংবা তার সঙ্গে অন্যায় হলো কি না—এসব বিষয় তখন গুরুত্ব হারায়।

    বন্ধুত্ব, পরিবার কিংবা কর্মক্ষেত্র—সব জায়গাতেই এমন আচরণ দেখা যেতে পারে। নিজের প্রয়োজনের সময় কাউকে কাছে পাওয়া, কিন্তু সেই মানুষটির প্রয়োজনের সময় দূরে সরে যাওয়া স্বার্থপরতার একটি পরিচিত রূপ।

    তবে নিজের এই আচরণকে অনেকে ‘ব্যস্ততা’, ‘নিজের জীবন নিয়ে চিন্তা’ কিংবা ‘নিজের অধিকার’ হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।

    সমালোচনা শুনতে না চাওয়া

    নিজের ভুল বুঝতে হলে আগে নিজের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন করার মানসিকতা থাকতে হয়। কিন্তু স্বার্থপর মানুষ অনেক সময় সমালোচনাকে ব্যক্তিগত আক্রমণ হিসেবে দেখেন।

    কেউ তার ভুল নিয়ে কথা বললে তিনি নিজের আচরণ বিশ্লেষণ না করে উল্টো সেই ব্যক্তির চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেন। ‘তুমি আমাকে কেন বলছ?’, ‘তুমিও তো এমন করেছ’—এ ধরনের কথার মাধ্যমে আলোচনার বিষয়টি নিজের ভুল থেকে অন্যের ভুলের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়।

    ফলে সমস্যার সমাধান না হয়ে বিরোধ আরও বাড়তে থাকে।

    নিজের সুবিধাই যখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ

    স্বার্থপর মানুষ সাধারণত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় নিজের সুবিধাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন। পরিবারে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে অন্যদের মতামত উপেক্ষা করা, বন্ধুর কাছ থেকে বারবার সাহায্য নেওয়া কিন্তু প্রয়োজনের সময় পাশে না থাকা কিংবা কর্মক্ষেত্রে নিজের কৃতিত্বকে বড় করে দেখানো—এসব আচরণ এর উদাহরণ হতে পারে।

    অবশ্য নিজের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়া সব সময় স্বার্থপরতা নয়। প্রত্যেক মানুষেরই নিজের সময়, অর্থ, মানসিক শান্তি ও ব্যক্তিগত সীমারেখার প্রতি যত্ন নেওয়ার অধিকার আছে।

    স্বার্থপরতা তখনই সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়, যখন নিজের সুবিধার জন্য নিয়মিতভাবে অন্যের অধিকার, অনুভূতি বা প্রয়োজনকে উপেক্ষা করা হয়।

    কেন নিজের অপরাধ চোখে পড়ে না?

    মানুষের মন নিজের সম্পর্কে একটি ইতিবাচক ধারণা ধরে রাখতে চায়। তাই নিজের ভুল স্বীকার করা অনেকের কাছেই অস্বস্তিকর। নিজের কাজকে ভালো বা যৌক্তিক হিসেবে দেখানোর জন্য মানুষ অনেক সময় অজান্তেই নানা ব্যাখ্যা তৈরি করে।

    স্বার্থপর মানসিকতার ক্ষেত্রে এই প্রবণতা আরও শক্তিশালী হতে পারে। কারণ নিজের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্তকে ভুল হিসেবে মেনে নিলে নিজের সম্পর্কে তৈরি ধারণায় আঘাত লাগে।

    তাই কেউ কেউ ভুল স্বীকার করার পরিবর্তে যুক্তি খোঁজেন, অন্যের ভুল সামনে আনেন কিংবা পরিস্থিতিকে দায়ী করেন।

    সম্পর্কের ওপর পড়ে নেতিবাচক প্রভাব

    একজন স্বার্থপর মানুষের সঙ্গে দীর্ঘদিন সম্পর্ক বজায় রাখা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। কারণ সম্পর্ক টিকে থাকে পারস্পরিক সম্মান, বিশ্বাস, সহযোগিতা ও বোঝাপড়ার ওপর। সেখানে যদি একজন ব্যক্তি সব সময় নিজের সুবিধা দেখেন, তাহলে অন্যজন ধীরে ধীরে অবহেলিত ও মূল্যহীন বোধ করতে পারেন।

    একসময় বন্ধুত্বে দূরত্ব তৈরি হয়, পারিবারিক সম্পর্কে অভিমান জমে এবং দাম্পত্য সম্পর্কে অবিশ্বাস তৈরি হতে পারে।

    সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো—স্বার্থপর মানুষ যদি নিজের আচরণ সম্পর্কে সচেতন না হন, তাহলে একই ধরনের সমস্যা বারবার ফিরে আসতে পারে।

    নিজের ভুল বুঝতে শেখাই পরিবর্তনের শুরু

    স্বার্থপরতা থেকে বেরিয়ে আসার প্রথম ধাপ হলো নিজের আচরণ নিয়ে সৎভাবে ভাবা। নিজেকে প্রশ্ন করা যেতে পারে—আমি কি অন্যের কথা শুনি? আমি কি নিজের সুবিধার জন্য অন্যকে কষ্ট দিচ্ছি? কেউ আমার আচরণ নিয়ে অভিযোগ করলে আমি কি বিষয়টি বোঝার চেষ্টা করি, নাকি সঙ্গে সঙ্গে তাকে দোষী বানিয়ে ফেলি?

    ভুল স্বীকার করা দুর্বলতার লক্ষণ নয়। বরং নিজের ভুল মেনে নেওয়ার ক্ষমতা মানসিক পরিপক্বতার পরিচয়।

    প্রয়োজনে ক্ষমা চাওয়া, অন্যের কথা মন দিয়ে শোনা এবং নিজের সিদ্ধান্তের প্রভাব সম্পর্কে সচেতন হওয়া সম্পর্ককে অনেক বেশি সুন্দর করতে পারে।

    জীবনে নিজের প্রয়োজন গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু শুধু নিজের প্রয়োজনই গুরুত্বপূর্ণ—এমন ধারণা মানুষকে ধীরে ধীরে অন্যদের থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিতে পারে।

    শেষ পর্যন্ত মানুষ তার সম্পদ, ক্ষমতা কিংবা নিজের পক্ষে তৈরি করা যুক্তি দিয়ে নয়, অন্যের সঙ্গে কেমন আচরণ করেছে—সেটি দিয়েই বেশি স্মরণীয় হয়ে থাকে। তাই নিজের ভুল অন্যের চোখে পড়ার আগেই নিজে দেখতে শেখা, সেটিই হতে পারে একজন মানুষের সবচেয়ে বড় আত্মউন্নয়ন।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ