মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj

সঙ্গী সব দোষ আপনার ওপর চাপালে কী করবেন?

সঙ্গী সব দোষ আপনার ওপর চাপালে কী করবেন?
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

সংসার বা সম্পর্কে কোনো ভুল কিংবা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হলেই কি সঙ্গী সব দায় আপনার ওপর চাপিয়ে দেন? নিজের ভুল স্বীকার না করে বারবার অন্যকে দোষ দেওয়ার এই প্রবণতাকে মনোবিজ্ঞানের ভাষায় ‘ব্লেইম-শিফটিং’ বলা হয়। আর যিনি নিয়মিত এমন আচরণ করেন, তাকে বলা হয় ‘ব্লেইম-শিফটার’।

এ ধরনের পরিস্থিতিতে অনেকেই নিজের নির্দোষিতা প্রমাণ করতে পাল্টা যুক্তি ও তর্কে জড়িয়ে পড়েন। তবে এতে সমস্যার সমাধানের বদলে সম্পর্কের মধ্যে উত্তেজনা, দূরত্ব ও কোন্দল আরও বাড়তে পারে।

‘সাইকোলজি টুডে’-তে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, তর্কে জড়িয়ে না পড়ে আলোচনার দিক পরিবর্তন করে সমস্যার সমাধানের দিকে মনোযোগ দেওয়া যেতে পারে।

কেন কেউ বারবার অন্যকে দোষ দেন?

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, নিজের ভুল স্বীকার করা কিছু মানুষের জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে। ভুলের কারণে অপরাধবোধ, লজ্জা বা আত্মসম্মানে আঘাত লাগার আশঙ্কা থেকে কেউ কেউ আত্মরক্ষামূলক আচরণ হিসেবে অন্যের ওপর দায় চাপিয়ে দিতে পারেন।

এ ধরনের পরিস্থিতিতে তাকে সরাসরি ভুল প্রমাণ করার চেষ্টা করলে তিনি আরও বেশি আত্মরক্ষামূলক হয়ে উঠতে পারেন। ফলে ছোট একটি বিষয়ও বড় ধরনের ঝগড়ায় রূপ নিতে পারে।

দোষারোপকারী সঙ্গীর সঙ্গে কীভাবে কথা বলবেন?

তর্কে জড়িয়ে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণের চেষ্টা না করা:
সঙ্গী অযৌক্তিক কোনো অভিযোগ করলে সঙ্গে সঙ্গে উত্তপ্ত তর্কে না গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করা ভালো। নিজের বক্তব্য অবশ্যই জানাতে হবে, তবে তা যেন পাল্টা আক্রমণে পরিণত না হয়।

আলোচনার দিক পরিবর্তন করুন:
কে ভুল করেছে, তা নিয়ে দীর্ঘ তর্কের বদলে সমস্যার সমাধান কীভাবে করা যায়, সেদিকে আলোচনা নিয়ে যেতে পারেন। যেমন, রান্না পুড়ে গেলে কে দায়ী—এ নিয়ে তর্ক না করে বলা যায়, ‘ঠিক আছে, আজ বাইরে থেকে খেয়ে নিই।’

এ ধরনের ‘রিডাইরেকশন’ বা মনোযোগ ঘোরানোর কৌশল অনেক সময় উত্তেজনা কমাতে সাহায্য করতে পারে।

প্রতিযোগিতার মানসিকতা এড়িয়ে চলুন:
কোনো সম্পর্কের তর্কে একজনকে জয়ী এবং অন্যজনকে পরাজিত করার চেষ্টা করলে সমস্যা আরও বাড়তে পারে। এর পরিবর্তে বিষয়টিকে দুজনের যৌথ সমস্যা হিসেবে দেখা যেতে পারে।

যেমন বলা যায়, ‘ভুলটা নিয়ে আমরা পরে কথা বলব, এখন চল একসঙ্গে সমাধানটা বের করি।’

নিজের মানসিক স্বাস্থ্যের দিকেও নজর দিন

সব সময় অন্যের দোষারোপ সহ্য করতে করতে একজন মানুষের আত্মবিশ্বাস ও আত্মসম্মানে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে যদি দোষারোপের সঙ্গে নিয়মিত অপমান, ভয় দেখানো, নিয়ন্ত্রণ করা বা মানসিক নির্যাতনের মতো আচরণ যুক্ত হয়, তাহলে বিষয়টিকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়।

এ ধরনের পরিস্থিতিতে নিজের সীমারেখা স্পষ্ট করা এবং প্রয়োজন হলে পরিবারের বিশ্বস্ত সদস্য বা পেশাদার কাউন্সেলর, মনোবিজ্ঞানী কিংবা রিলেশনশিপ থেরাপিস্টের সহায়তা নেওয়া যেতে পারে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার দায়িত্ব একা একজনের নয়। দুজনেরই নিজেদের আচরণ নিয়ে ভাবা এবং সমস্যার সমাধানে সহযোগিতা করা প্রয়োজন।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন