মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj

এআই নিয়ে ১২ বছর আগের সতর্কবার্তা ফের সামনে আনলেন ইলন মাস্ক

এআই নিয়ে ১২ বছর আগের সতর্কবার্তা ফের সামনে আনলেন ইলন মাস্ক
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ার মধ্যে নিজের ১২ বছর আগের একটি সতর্কবার্তা আবারও সামনে এনেছেন টেসলা ও স্পেসএক্সের প্রধান ইলন মাস্ক। উন্নত এআই ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্রের চেয়েও ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে বলে দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করে আসছেন তিনি।

গত ১৩ সেপ্টেম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ২০১৪ সালের একটি পোস্ট পুনরায় শেয়ার করেন মাস্ক। ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে আমাদের অত্যন্ত সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। এটি পারমাণবিক অস্ত্রের চেয়েও ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে।’ এবার পুরোনো পোস্টটি শেয়ার করে তিনি শুধু লেখেন, ‘১২ বছর আগে’। এতে বোঝাতে চেয়েছেন, এত বছর পরও এআই নিয়ে তার উদ্বেগের জায়গাটি বদলায়নি।

এআই নিয়ে মাস্কের উদ্বেগ অবশ্য নতুন নয়। ২০১৪ সালে সুইডিশ দার্শনিক ও চিন্তাবিদ নিক বোস্ট্রমের ‘সুপারইন্টেলিজেন্স’ বই পড়ার পর তিনি এআইয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে প্রকাশ্যে সতর্কতা শুরু করেন। একই বছর এমআইটির এক অনুষ্ঠানে এআইকে মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য বড় ধরনের হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

পরবর্তী সময়েও একই ধরনের সতর্কতা দিয়েছেন মাস্ক। ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ‘সাউথ বাই সাউথওয়েস্ট’ উৎসবে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এআইকে পারমাণবিক অস্ত্রের চেয়েও বেশি বিপজ্জনক হয়ে ওঠার আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

মাস্কের পুরোনো মন্তব্যটি নতুন করে আলোচনায় আসার পেছনে সাম্প্রতিক কিছু সতর্কবার্তাও ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিকে প্রায় তিন বছর কাজ করার পর গবেষক জ্যাকব কক্সনের পদত্যাগ এবং তার দেওয়া বক্তব্য প্রযুক্তি অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

কক্সনের দাবি, এআই নিয়ে কাজ করা অনেক গবেষক ও কর্মী প্রযুক্তিটির দ্রুত অগ্রগতি নিয়ে উদ্বিগ্ন। বর্তমান গতিতে এআইয়ের উন্নয়ন অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই এর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। এমনকি বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে মানবজাতির অস্তিত্বও হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে মন্তব্য করেন কক্সন।

অ্যানথ্রপিক ও ওপেনএআইয়ের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো আরও শক্তিশালী এআই তৈরির প্রতিযোগিতায় নেমেছে উল্লেখ করে কক্সন অভিযোগ করেন, এই প্রতিযোগিতায় সম্ভাব্য ঝুঁকি ও নিরাপত্তার বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্ব পাচ্ছে না। তার বক্তব্যের পর এআই উন্নয়নের পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং প্রয়োজন হলে উন্নয়নের গতি নিয়ন্ত্রণের দাবি নতুন করে সামনে আসে।

কক্সনের বক্তব্যের পর অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও আমোডেইও এআই উন্নয়নের গতি কমানোর বিষয়ে সতর্কতা জানিয়েছেন। ওপেনএআইয়ের প্রধান স্যাম অল্টম্যান এবং ইলন মাস্কও তার উদ্বেগের সঙ্গে একমত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে অ্যানথ্রপিকের গবেষক ইভান হাবিঙ্গার দাবি করেছেন, আগামী এক দশকে এআইয়ের কারণে মানবজাতির বিলুপ্তির ঝুঁকি ১০ শতাংশের বেশি হতে পারে। যদিও এ ধরনের পূর্বাভাস নিয়ে প্রযুক্তি ও গবেষণা মহলে মতভেদ রয়েছে, তবু এআইয়ের দ্রুত অগ্রগতি যে নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করছে, তা নিয়ে বিতর্ক ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এআই মানুষের কাজের গতি ও সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি চিকিৎসা, বিজ্ঞান, শিক্ষা ও শিল্পসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। তবে একই সঙ্গে স্বয়ংক্রিয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ, ভুল তথ্য ছড়ানো, সাইবার নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যতে মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার মতো ঝুঁকিও বিবেচনায় রাখা জরুরি।

এই প্রেক্ষাপটে এক যুগ আগে দেওয়া মাস্কের সতর্কবার্তা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এআই যত দ্রুত উন্নত হচ্ছে, ততই প্রযুক্তিটির সক্ষমতার পাশাপাশি এর নিরাপত্তা, নিয়ন্ত্রণ ও মানবিক প্রভাব নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিতর্কও বাড়ছে।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

সর্বশেষ

আরও পড়ুন