সৌদির তিন শহরে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, আহত ১৩

সৌদি আরবের তিন শহর খামিস মুশাইত, আবহা ও তাইফে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী। এতে ১৩ জন বেসামরিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। হামলায় অন্তত সাতটি বাড়িঘর ও দুটি যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সোমবার দিবাগত রাতে হামলার পর মঙ্গলবার ভোরে আবহা, জেদ্দা, জাজান, তাইফ, ইয়ানবু ও আলউলাসহ সৌদি আরবের পশ্চিম ও দক্ষিণাঞ্চলের বেশ কয়েকটি শহরে ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কতা জারি করা হয়।
ইয়েমেনে হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াইরত সৌদি-ইয়েমেনি সামরিক জোটের মুখপাত্র তুরকি আল-মালকি মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে বলেন, হুথি গোষ্ঠী ইচ্ছাকৃতভাবে সৌদি আরবের বেসামরিক নাগরিক ও স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে।
তিনি বলেন, এসব হামলা মোকাবিলায় সৌদি-ইয়েমেনি সামরিক জোট প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে এবং সৌদি আরবের বেসামরিক নাগরিক ও অবকাঠামো রক্ষায় দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করবে।
তবে সোমবারের হামলার বিষয়ে হুথি গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সৌদি আরবের সাম্প্রতিক বিমান হামলার জবাব হিসেবে হুথিরা এ হামলা চালিয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
হুথি-সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা যায়, রোববার ইয়েমেনে হুথিদের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে সৌদি আরব প্রায় ৭০টি বিমান হামলা চালিয়েছে। গত ৮ সেপ্টেম্বর থেকে ইয়েমেনে সৌদি বিমান অভিযান শুরু হয়েছে বলেও দাবি করেছে হুথি গোষ্ঠী।
এদিকে, ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীও উত্তর ইয়েমেন ও রাজধানী সানা হুথিদের নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত করতে অভিযান চালাচ্ছে। এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি বিমান হামলাগুলো এখন পর্যন্ত মূলত সম্মুখসারিতে থাকা ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীকে সহায়তার মধ্যেই সীমিত রয়েছে। সানা বা হুথিদের নিয়ন্ত্রণের প্রধান কেন্দ্রগুলো এখনো বড় ধরনের হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়নি।
দীর্ঘদিনের সংঘাত
সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর সংঘাত শুরু হয় ২০১৪ সালে ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরুর পর। পরের বছর হুথিরা রাজধানী সানা দখল করলে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আবদ-রাব্বু মনসুর হাদি সৌদি আরবে চলে যান।
তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকারকে পুনরায় ক্ষমতায় আনতে ২০১৫ সালে ইয়েমেনে সামরিক অভিযান শুরু করে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। এরপর থেকে বিভিন্ন সময়ে হুথিদের সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘাত ও পাল্টাপাল্টি হামলা হয়েছে।
বর্তমানে ইয়েমেনের বিভিন্ন অঞ্চল হুথি গোষ্ঠী এবং সৌদি-সমর্থিত সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী এই সংঘাতে দেশটিতে মানবিক সংকটও তীব্র হয়েছে।
সূত্র: আরব নিউজ, এএফপি