বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • স্পেনে দুই দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষ, নিহত ৪৬, ১৭৯ জন আহত নারী ও শিশুর সুরক্ষায় ইউনিসেফের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে চায় সরকার ইসরায়েলে সরকার গঠনে আরব দলগুলোর সমর্থন চান বিরোধী নেতা গোলান ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের জিডিপি ছাড়াবে ১ ট্রিলিয়ন ডলার: প্রধানমন্ত্রী ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনের ওপর নির্ভর করছে স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ: জামায়াত ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে নিরাপত্তায় এসআরবি-১৩-এর বিশেষ প্রস্তুতি নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে মালয়েশিয়ায় ১০ হাজার কর্মী পাঠানোর আশা সরকারের রোগীদের যাতায়াতের ভোগান্তি কমাতে অ্যাম্বুলেন্স পুল গড়বে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ছেলেকে বাঁচাতে নিজের কিডনি দিতে প্রস্তুত মা, অর্থাভাবে অনিশ্চিত রাকিবের জীবন ফেসবুক লাইভে বিএনপি সরকার নিয়ে মন্তব্য, জামিন পেলেন সেই সাথী আক্তার
  • আত্মসম্মান হারিয়ে নয়, নিজেকে সম্মান করেই বাঁচুন

    আত্মসম্মান হারিয়ে নয়, নিজেকে সম্মান করেই বাঁচুন
    ছবি: এআই
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    জীবনে অনেক কিছু হারিয়েও মানুষ আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারে। অর্থ, সম্পর্ক, চাকরি কিংবা সুযোগ—এসব হারানোর পর নতুন করে শুরু করার পথ থাকে। কিন্তু নিজের আত্মসম্মান হারিয়ে ফেললে সেই পথ অনেক কঠিন হয়ে যায়। কারণ আত্মসম্মানই মানুষকে নিজের মূল্য বুঝতে শেখায় এবং অন্যায়ের সামনে মাথা নত না করার সাহস দেয়।

    আত্মসম্মান মানে অহংকার নয়। বরং নিজের মর্যাদা, অনুভূতি ও অধিকারকে সম্মান করা। একজন আত্মসম্মানবোধসম্পন্ন মানুষ অন্যকে ছোট করে নিজেকে বড় প্রমাণ করতে চান না। আবার নিজের প্রতি অসম্মান, অবহেলা বা অন্যায় আচরণকেও সবসময় নীরবে মেনে নেন না।

    জীবনের বিভিন্ন সম্পর্কের ক্ষেত্রে আত্মসম্মানের বিষয়টি সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ভালোবাসা, বন্ধুত্ব কিংবা পারিবারিক সম্পর্ক—কোনো সম্পর্কই একতরফা অপমান, অবহেলা বা মানসিক চাপের ওপর টিকে থাকা উচিত নয়। যেখানে বারবার নিজের অনুভূতিকে অস্বীকার করতে হয়, সেখানে সম্পর্কটি নিয়ে নতুন করে ভাবার প্রয়োজন হতে পারে।

    অনেক সময় মানুষ সম্পর্ক হারানোর ভয়, সমাজের কথা কিংবা একাকীত্বের আশঙ্কায় নিজের আত্মসম্মানের সঙ্গে আপস করে। অন্যের মন ভালো রাখতে গিয়ে নিজের কষ্টকে চাপা দেয়। দিনের পর দিন অবহেলা সহ্য করতে করতে একসময় নিজের কাছেই নিজের মূল্য কমে যায়। অথচ কাউকে ধরে রাখার জন্য নিজেকে ছোট করা কখনোই সুস্থ সম্পর্কের লক্ষণ নয়।

    আত্মসম্মানী হওয়া মানে সব বিষয়ে জেদ করা বা কারও কথা না শোনা নয়। ভুল হলে নিজের ভুল স্বীকার করাও আত্মসম্মানের অংশ। প্রয়োজন হলে ক্ষমা চাওয়া, অন্যের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া এবং নিজের সীমাবদ্ধতা মেনে নেওয়ার মধ্যেও আত্মসম্মান রয়েছে। মূল বিষয় হলো—নিজেকে ছোট না করে, অন্যকেও ছোট না করে নিজের অবস্থান ধরে রাখা।

    কর্মক্ষেত্রেও আত্মসম্মানের গুরুত্ব অনেক। একজন কর্মী তার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবেন, সমালোচনা গ্রহণ করবেন এবং নিজের ভুল সংশোধন করবেন। কিন্তু অন্যায় অপমান, বৈষম্য বা অযৌক্তিক আচরণকে স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নেওয়া উচিত নয়। নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং প্রয়োজন হলে যথাযথ জায়গায় প্রতিবাদ জানানোও আত্মসম্মানের প্রকাশ।

    তবে আত্মসম্মান রক্ষা করতে গিয়ে যেন মানুষের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ হারিয়ে না যায়, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। নিজের মর্যাদা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি অন্যের মর্যাদাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কাউকে অপমান করে নিজের আত্মসম্মান প্রতিষ্ঠা করা যায় না।

    সবচেয়ে বড় কথা, নিজের মূল্য অন্যের আচরণের ওপর নির্ভরশীল হওয়া উচিত নয়। কেউ আপনাকে গুরুত্ব দিল কি না, প্রশংসা করল কি না কিংবা আপনার পাশে থাকল কি না—এসব দিয়ে আপনার প্রকৃত মূল্য নির্ধারিত হয় না। নিজের যোগ্যতা, নৈতিকতা ও মানবিকতার জায়গা থেকে নিজেকে মূল্যায়ন করতে শেখাই আত্মসম্মানের সবচেয়ে বড় শিক্ষা।

    জীবনে কখনো কখনো এমন পরিস্থিতি আসে, যখন একটি সম্পর্ক, একটি সুযোগ কিংবা একটি সুবিধা ধরে রাখার জন্য নিজের মর্যাদার সঙ্গে আপস করতে হয়। তখন মনে রাখা দরকার—সবকিছু ধরে রাখা জরুরি নয়। কিছু জিনিস ছেড়ে দেওয়াও জীবনের অংশ। কারণ যে সম্পর্ক বা পরিস্থিতিতে নিজের অস্তিত্বকেই ছোট করে ফেলতে হয়, সেখান থেকে বেরিয়ে আসার সাহস অনেক সময় নতুন জীবনের দরজা খুলে দেয়।

    আত্মসম্মান মানুষকে অন্যের বিরুদ্ধে নয়, বরং নিজের পক্ষে দাঁড়াতে শেখায়। তাই ভালোবাসুন, ক্ষমা করুন, সম্পর্ক ধরে রাখুন—তবে নিজের মর্যাদা বিসর্জন দিয়ে নয়। কারণ পৃথিবীর কাছে আপনার মূল্য যতটা, তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো আপনি নিজের কাছে কতটা মূল্যবান।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন