ডেঙ্গু হলে কতটা ডাবের পানি খাবেন, কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা

ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়লেই রোগীর জন্য ডাবের পানি কিনতে ছুটতে দেখা যায় স্বজনদের। জ্বরের কারণে শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি হতে পারে—এমন ধারণা থেকেই অনেকের বিশ্বাস, ডেঙ্গু আক্রান্ত ব্যক্তিকে বেশি বেশি ডাবের পানি পান করানো জরুরি।
এ কারণে ডেঙ্গুর মৌসুমে ডাবের চাহিদা যেমন বাড়ে, তেমনি অনেক সময় দামও বেড়ে যায়। তবে ডেঙ্গু হলেই প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ বা একাধিক ডাবের পানি পান করতে হবে—এমন কোনো চিকিৎসাবিধি নেই।
ডাবের পানি অবশ্যই পুষ্টিকর একটি পানীয়। এতে পানি ও বিভিন্ন ইলেক্ট্রোলাইট, বিশেষ করে পটাশিয়াম রয়েছে। তবে এটি ডেঙ্গুর কোনো বিশেষ চিকিৎসা নয়। এ সময় মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত শরীরে প্রয়োজনীয় তরল ও ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখা।
ডেঙ্গু হলে কী কী পান করা যায়
জ্বর ও অতিরিক্ত ঘামের কারণে ডেঙ্গু রোগীর শরীরে তরলের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। বমি বা ডায়রিয়া থাকলে পানিশূন্যতার ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। তাই পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ।
এ সময় খাবার স্যালাইন, পানি, স্যুপ, পাতলা ডাল, ফলের রসসহ উপযোগী তরল খাবার গ্রহণ করা যেতে পারে। ডাবের পানিও পরিমিত পরিমাণে পান করা যেতে পারে।
তবে প্রত্যেক রোগীর তরলের প্রয়োজন এক নয়। বয়স, শারীরিক অবস্থা, জ্বরের তীব্রতা, বমি বা ডায়রিয়া এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যগত সমস্যার ওপর প্রয়োজনীয় তরলের পরিমাণ নির্ভর করে। তাই সবার জন্য একই পরিমাণ তরল নির্ধারণ করা ঠিক নয়। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তরল গ্রহণ করাই নিরাপদ।
অতিরিক্ত ডাবের পানি কি সমস্যা করতে পারে?
ডেঙ্গু হয়েছে বলেই অতিরিক্ত ডাবের পানি পান করার প্রয়োজন নেই। ডাবের পানিতে পটাশিয়ামসহ বিভিন্ন ইলেক্ট্রোলাইট থাকে। অতিরিক্ত পরিমাণে পান করলে বিশেষ করে কিডনির কার্যকারিতা কমে যাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্যে সমস্যা দেখা দিতে পারে।
একইভাবে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত পানি বা অন্য তরল পান করাও সবসময় উপকারী নয়। শরীরে অতিরিক্ত তরল জমে গেলে কিছু ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই আতঙ্কিত হয়ে অল্প সময়ে প্রচুর পানি, ডাবের পানি বা স্যালাইন পান করা উচিত নয়।
পেঁপে পাতার রস কি প্লাটিলেট বাড়ায়?
ডেঙ্গু নিয়ে প্রচলিত ধারণাগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো পেঁপেপাতার রস বা নির্দিষ্ট কিছু খাবার খেলে দ্রুত প্লাটিলেট বেড়ে যায়। তবে এগুলোকে ডেঙ্গুর চিকিৎসায় প্রমাণিত প্লাটিলেট-বর্ধক চিকিৎসা হিসেবে ধরা হয় না।
ডেঙ্গুতে প্লাটিলেটের সংখ্যা কমে যেতে পারে। আবার রোগের স্বাভাবিক গতিতেও অনেক রোগীর ক্ষেত্রে পরবর্তী সময়ে প্লাটিলেট বাড়তে শুরু করে।
তাই শুধু প্লাটিলেট বাড়ানোর আশায় রোগীকে জোর করে পেঁপেপাতার রস বা অতিরিক্ত কোনো নির্দিষ্ট খাবার খাওয়ানো উচিত নয়। রোগীর সামগ্রিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসরণ করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
যেসব লক্ষণে দ্রুত চিকিৎসা জরুরি
ডেঙ্গু রোগীর ক্ষেত্রে শুধু প্লাটিলেটের সংখ্যা দিয়ে রোগের তীব্রতা নির্ধারণ করা যায় না। রোগীর সামগ্রিক শারীরিক অবস্থার দিকেও নজর দিতে হয়।
প্রচণ্ড পেটব্যথা, বারবার বমি, রক্তপাত, শ্বাসকষ্ট, অস্বাভাবিক দুর্বলতা, অস্থিরতা কিংবা অতিরিক্ত ঘুম ঘুম ভাব দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
সবশেষে মনে রাখা জরুরি, ডেঙ্গু হলেই ডাবের পানি পান করতেই হবে—এমন কোনো নিয়ম নেই। পর্যাপ্ত ও প্রয়োজন অনুযায়ী নিরাপদ তরল গ্রহণ, বিশ্রাম এবং চিকিৎসকের নির্দেশনা মেনে চলাই গুরুত্বপূর্ণ। রোগীর প্রয়োজন না বুঝে অতিরিক্ত ডাবের পানি বা অন্য কোনো তরল খাওয়ানোর বদলে সঠিক পরিচর্যায় গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
সূত্র: এনডিটিভি, কেয়ার হসপিটাল