বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • সংসদে অনুপস্থিত নজরুল, স্পিকারের রসিকতায় বাতিল প্রশ্ন ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ার পরিকল্পনা: প্রধানমন্ত্রী জন্মাষ্টমীর শোভাযাত্রায় ৯ নির্দেশনা ডিএমপির ইস্টার্ন রিফাইনারি সম্প্রসারণে ১০০ কোটি ডলারের অর্থায়ন আইএসডিবির মিডিয়ায় চাপ সৃষ্টি করেও ফ্যাসিস্টরা নিজেদের বাঁচাতে পারেনি: তথ্যমন্ত্রী তিন বছরে বন্ধ চার শতাধিক গার্মেন্টস কারখানা: বাণিজ্যমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু এশিয়ায় ব্রাজিলের দুই ম্যাচ, জেনে নিন কবে কার বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা থেকে ৮৬ টন সোনা লন্ডনে সরানোর কারণ জানাল নেদারল্যান্ডস বিচারবহির্ভূত হত্যা ও হয়রানি বন্ধে পুলিশের প্রতি রাষ্ট্রপতির নির্দেশ
  • মতলববাজ মানুষ থেকে সাবধান, যেসব আচরণে চিনবেন

    মতলববাজ মানুষ থেকে সাবধান, যেসব আচরণে চিনবেন
    ছবি: এআই
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    জীবনে নানা ধরনের মানুষের সঙ্গে আমাদের পরিচয় হয়। কেউ নিঃস্বার্থভাবে পাশে থাকেন, আবার কেউ সম্পর্ক তৈরি করেন নিজের স্বার্থ হাসিলের জন্য। বাইরে থেকে বন্ধুত্বপূর্ণ ও আন্তরিক মনে হলেও কিছু মানুষের আচরণের আড়ালে থাকতে পারে ভিন্ন উদ্দেশ্য। তাই কাউকে শুধু কথার ভিত্তিতে বিচার না করে তার ধারাবাহিক আচরণ ও ব্যবহারের দিকে নজর দেওয়া জরুরি।

    মতলববাজ মানুষের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো—তারা সাধারণত সম্পর্ককে প্রয়োজন ও সুবিধার হিসাবের মধ্যে দেখেন। যখন আপনার কাছ থেকে কিছু পাওয়ার থাকে, তখন তাদের আগ্রহ ও আন্তরিকতা অনেক বেশি থাকে। প্রয়োজন শেষ হলে আচরণেও পরিবর্তন দেখা যায়।

    প্রয়োজনেই বেশি খোঁজ নেন

    আপনার খোঁজখবর নেওয়া, ফোন করা কিংবা দেখা করার প্রবণতা যদি কেবল নিজের প্রয়োজনের সময় বেড়ে যায়, তাহলে সতর্ক হওয়া ভালো। সব সময় এমন আচরণ মানেই খারাপ উদ্দেশ্য নয়, তবে এটি নিয়মিত হলে সম্পর্কের প্রকৃতি নিয়ে ভাবা দরকার।

    অতিরিক্ত প্রশংসা দিয়ে কাছে আসেন

    মতলববাজ ব্যক্তি অনেক সময় শুরুতেই অতিরিক্ত প্রশংসা করেন। আপনার ব্যক্তিত্ব, কাজ বা সাফল্য নিয়ে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি প্রশংসা করে দ্রুত ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করতে পারেন। বিশেষ করে পরে যদি কোনো সুবিধা চাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়, তাহলে বিষয়টি খেয়াল করুন।

    আপনার দুর্বলতা জানতে চান

    ব্যক্তিগত তথ্য, পারিবারিক সমস্যা, আর্থিক অবস্থা কিংবা আবেগের জায়গাগুলো সম্পর্কে অতি আগ্রহ দেখানোও সতর্কসংকেত হতে পারে। পরবর্তী সময়ে এসব তথ্য ব্যবহার করে আপনাকে প্রভাবিত বা চাপের মধ্যে ফেলার চেষ্টা করা হতে পারে।

    সুবিধা না পেলে আচরণ বদলে যায়

    কোনো কাজে সহযোগিতা করতে না পারলে যদি হঠাৎ তার ব্যবহার ঠান্ডা হয়ে যায়, যোগাযোগ কমে যায় বা আপনাকে অবহেলা করতে শুরু করেন, তাহলে সম্পর্কটি কতটা আন্তরিক তা ভেবে দেখা উচিত।

    আপনার অপরাধবোধকে কাজে লাগান

    কিছু মানুষ আবেগকে ব্যবহার করে নিজের স্বার্থ আদায় করতে চান। ‘তুমি আমার জন্য এটুকুও করতে পারবে না?’—এ ধরনের কথা বলে আপনাকে অপরাধবোধে ভোগানোর চেষ্টা করতে পারেন। নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হলে সতর্ক থাকুন।

    সব সময় নিজের সুবিধা দেখেন

    সম্পর্কে একতরফাভাবে যদি একজনই সুবিধা নেন, কিন্তু আপনার প্রয়োজনের সময় পাশে না থাকেন, তাহলে সেটি সুস্থ সম্পর্কের লক্ষণ নয়। বন্ধুত্ব বা পরিচয়ের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতা থাকা গুরুত্বপূর্ণ।

    আপনার সীমারেখাকে সম্মান করেন না

    আপনি কোনো বিষয়ে ‘না’ বলার পরও যদি কেউ বারবার চাপ দেন, ব্যক্তিগত বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেন কিংবা আপনার সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব না দেন, তাহলে নিজের সীমারেখা স্পষ্ট করা প্রয়োজন।

    গোপন তথ্য অন্যের কাছে বলেন

    বিশ্বাস করে বলা ব্যক্তিগত কথা অন্যের কাছে প্রকাশ করে দেওয়া শুধু সম্পর্কের প্রতি অবিশ্বাসই তৈরি করে না, ভবিষ্যতে সেই তথ্য আপনার জন্য সমস্যার কারণও হতে পারে। এমন আচরণ বারবার হলে দূরত্ব বজায় রাখা ভালো।

    অন্যের সম্পর্ক নিয়েও সুযোগ খোঁজেন

    মতলববাজ মানুষ অনেক সময় একজনের কথা আরেকজনের কাছে বলে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি করতে পারেন। কারও ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা বিরোধকে নিজের সুবিধায় ব্যবহার করার চেষ্টা করলে তার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ভাগ না করাই নিরাপদ।

    কী করবেন?

    কাউকে শুধু একটি আচরণের কারণে মতলববাজ বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। মানুষের পরিস্থিতি ও আচরণ পরিবর্তিত হতে পারে। তবে একই ধরনের স্বার্থপর, প্রতারণামূলক বা চাপ সৃষ্টিকারী আচরণ বারবার দেখা গেলে সতর্ক হওয়া জরুরি।

    এ ধরনের মানুষের সঙ্গে প্রয়োজনের অতিরিক্ত ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার না করা, নিজের সীমারেখা স্পষ্ট রাখা এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে আবেগের বদলে যুক্তিকে গুরুত্ব দেওয়া ভালো। সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিশ্বাস যেমন প্রয়োজন, তেমনি নিজের আত্মসম্মান ও নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার।

    সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—মানুষকে তার কথার চেয়ে দীর্ঘদিনের আচরণ দিয়ে বিচার করা। আন্তরিক সম্পর্ক সাধারণত পারস্পরিক সম্মান, বিশ্বাস ও সহযোগিতার ওপর দাঁড়িয়ে থাকে; কেবল সুবিধা নেওয়ার ওপর নয়।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ