বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • সংসদে অনুপস্থিত নজরুল, স্পিকারের রসিকতায় বাতিল প্রশ্ন ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ার পরিকল্পনা: প্রধানমন্ত্রী জন্মাষ্টমীর শোভাযাত্রায় ৯ নির্দেশনা ডিএমপির ইস্টার্ন রিফাইনারি সম্প্রসারণে ১০০ কোটি ডলারের অর্থায়ন আইএসডিবির মিডিয়ায় চাপ সৃষ্টি করেও ফ্যাসিস্টরা নিজেদের বাঁচাতে পারেনি: তথ্যমন্ত্রী তিন বছরে বন্ধ চার শতাধিক গার্মেন্টস কারখানা: বাণিজ্যমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু এশিয়ায় ব্রাজিলের দুই ম্যাচ, জেনে নিন কবে কার বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা থেকে ৮৬ টন সোনা লন্ডনে সরানোর কারণ জানাল নেদারল্যান্ডস বিচারবহির্ভূত হত্যা ও হয়রানি বন্ধে পুলিশের প্রতি রাষ্ট্রপতির নির্দেশ
  • ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ার পরিকল্পনা: প্রধানমন্ত্রী

    ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ার পরিকল্পনা: প্রধানমন্ত্রী
    ছবি: পিএমও
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্যকে কোনো স্লোগান নয়, বরং সুপরিকল্পিত কর্মসূচি হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের (ইআরএল) আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পে ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংকের (আইডিবি) অর্থায়ন চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি মোস্তফা জুলফিকার হাসান এ তথ্য জানান।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইস্টার্ন রিফাইনারির আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণে আইডিবির অর্থায়ন চুক্তি শুধু একটি আর্থিক লেনদেন নয়। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রতি আইডিবির আস্থার প্রতিফলন ঘটেছে। চুক্তি বাস্তবায়নে কাজ করা অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ, ইআরএল এবং ঢাকায় আইডিবির আঞ্চলিক হাবের কর্মকর্তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

    আইডিবি গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ সুলায়মান আল জাসেরের বাংলাদেশ সফরকে স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তাকে অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে আইডিবির চেয়ারম্যান হিসেবে তার পুনর্নির্বাচনের প্রশংসা করে আগামী মেয়াদে আরও সাফল্য অর্জনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    তারেক রহমান বলেন, কয়েক দশক ধরে আইডিবি বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে কাজ করছে। ব্যাংকটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হতে পারা বাংলাদেশের জন্য গর্বের বিষয়। এই অংশীদারত্বের ভিত্তি শুধু অর্থায়ন নয়, বরং পারস্পরিক আস্থা, সংহতি ও অভিন্ন উন্নয়ন লক্ষ্য।

    তিনি বলেন, নতুন সরকার দেশের অর্থনীতিকে নতুন দিকনির্দেশনায় এগিয়ে নিতে কাজ করছে। ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। রপ্তানি, বিনিয়োগ ও আর্থিক শৃঙ্খলাকে কাজে লাগিয়ে আগামী এক দশকে অর্থনীতির আকার দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

    বাংলাদেশকে এ অঞ্চলের একটি উৎপাদনকেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। তৈরি পোশাক খাতের পর ইলেকট্রনিকস, ওষুধ, হালকা প্রকৌশল ও সবুজ শিল্পকে ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির নতুন চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

    তারেক রহমান বলেন, সরকার এমন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে চায়, যেখানে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং মানুষের জন্য মর্যাদাপূর্ণ কাজের সুযোগ তৈরি হবে। নাগরিকদের সরাসরি সহায়তা দিতে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড চালু করা হয়েছে এবং হেলথ কার্ড চালুর প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান তিনি।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, সংঘাত, বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন, জ্বালানি ও খাদ্যনিরাপত্তার চাপ, জলবায়ু পরিবর্তন, প্রযুক্তিগত রূপান্তর এবং উন্নয়ন অর্থায়নের ব্যয় বৃদ্ধির কারণে উন্নয়নশীল দেশগুলো নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে। এসব মোকাবিলায় এককভাবে কোনো দেশের পক্ষে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। তাই আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

    বাংলাদেশ ও আইডিবির ভবিষ্যৎ সহযোগিতাকে আরও উদ্ভাবনী, দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতাসম্পন্ন এবং ফলাফলভিত্তিক করার ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। দেশের পরিবর্তিত উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আইডিবি ও এর সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে আরও বেশি উন্নয়ন অর্থায়ন পাওয়ার প্রত্যাশা জানান তিনি।

    উন্নয়নশীল সদস্য দেশগুলোর জন্য স্বল্প ব্যয়ের অর্থায়নের সুযোগ বাড়াতে ইসলামিক কনসেশনাল ফান্ড (আইসিএফ) প্রতিষ্ঠার উদ্যোগেরও প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে সদস্য দেশগুলোর জন্য কম খরচে অর্থায়নের সুযোগ বাড়াতে আইসিএফের পরিধি আরও বিস্তৃত করা প্রয়োজন।

    আইসিএফের মাধ্যমে বাংলাদেশও সুবিধা নিতে আগ্রহী জানিয়ে তিনি বলেন, সম্ভাব্য প্রকল্প চিহ্নিত করতে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের কর্মকর্তারা ঢাকায় আইডিবির আঞ্চলিক হাবের সঙ্গে কাজ করছেন।

    ইস্টার্ন রিফাইনারির আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পকে শুধু একটি জ্বালানি প্রকল্প হিসেবে দেখছেন না প্রধানমন্ত্রী। তার মতে, এটি বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সক্ষমতা এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির ভিত্তি শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ।

    তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রকল্পটি বাংলাদেশ ও আইডিবির দীর্ঘদিনের অংশীদারত্বে নতুন মাইলফলক তৈরি করবে। একই সঙ্গে আইডিবি সদস্য দেশগুলোর মধ্যে জ্ঞান, অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তি ও সক্ষমতা বিনিময়ের একটি কার্যকর সেতুবন্ধ হিসেবে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

    সদস্য দেশগুলোর কেউ জ্বালানি, কেউ অবকাঠামো কিংবা অন্য কোনো খাতে এগিয়ে আছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, এসব সক্ষমতার মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানো গেলে সব দেশই উপকৃত হবে। বাংলাদেশ-আইডিবি অংশীদারত্ব ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হয়ে দেশের জনগণ ও বৃহত্তর মুসলিম উম্মাহর কল্যাণে ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন